সোমবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / সিরামিকের গাছ-মানুষ!
০৬/০১/২০১৬

সিরামিকের গাছ-মানুষ!

- অনন্যা ডেস্ক

সিরামিক শিল্পী অসীম হালদার সাগরের তৃতীয় একক ভাস্কর্য প্রদর্শনী গ্যালারি টোয়েন্টি ওয়ানে চলছে। গত ২০ মে ‘মুভিং রুটস্’ শীর্ষক প্রদর্শনীটির উদ্বোধন করেন যৌথভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক শিশির ভট্টাচার্য ও একই অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থপতি সালাউদ্দিন আহমেদ। সিরামিকে তৈরি শিল্পীর সদ্য-নির্মিত প্রায় ৩০টি শিল্পকর্ম নিয়ে শুরু হওয়া প্রদর্শনীটি চলবে ৩ জুন পর্যন্ত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের মৃৎশিল্প বিভাগের স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী অসীম হালদার সাগর সময়ের একজন চারুশিল্পী। শিল্প অনুশীলনে তিনি বর্তমান জীবন ও প্রবহমান সময়কে প্রকাশে আগ্রহী। সমকালীন শিল্পকলার প্রচলিত প্রথাগত কাঠামো ভেঙে নিজেকে প্রসারিত করতে চান এ শিল্পী। তবে, শিল্পী অসীমের শিল্পকর্মের ক্ষেত্রে এই অঞ্চলে প্রায় নতুন উপকরণ গ্লেজের ব্যবহারই কেবল গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ তার শিল্পকর্মের বিষয় ভাবনা এবং তার সাথে সংগতিপূর্ণ করে মাধ্যম ও উপকরণকে প্রয়োগের প্রচেষ্টা।

শিল্পকর্মে গাছ ও মানুষের ফিগার ব্যবহারের কারণ জানতে চাইলে শিল্পী অসীম হালদার বলেন, মানুষ ও প্রকৃতিকে উনি আলাদা ভাবে দেখেন না। নগরজীবনে মানুষের বোধ ও চেতনায় প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনায় হল উনার শিল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। উনি প্রকৃতিবাদী চেতনার সুতো ধরেই মানবতাবাদী চেতনায় পৌঁছাতে চান। একধরনের অ্যাক্টিভিজম অসীমের সমগ্র শিল্পকর্মে ফুটে ওঠে। গ্রামকে তিনি নগরজীবনে সবচেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক ও প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

প্রসঙ্গত, অসীম হালদার সাগরের আনুষ্ঠানিক শিল্পীজীবনের শুরু একজন সিরামিক্স-এর শিল্পী হিসেবে। পরবর্তী সময়ে প্রথাগত শিল্পীসত্ত্বা থেকে বেরিয়ে এসে ভিন্নধারার মৃৎশিল্প নির্মাণে মনোনিবেশ করেন এবং ‘রাকু সিরামিক্স’ নিয়ে কাজ শুরু করেন এ শিল্পী। সিরামিক্স-এর বিশেষ পদ্ধতি ক্রিস্টাল গ্লেজ এবং ক্র্যাক গ্লেজ নিয়ে গবেষণাও করেন তিনি। এই সিরামিক্স শিল্পী সিরামিক্স এর মাধ্যমকে ভিত্তি করে ধারণা প্রদান ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সাধারণ ব্যবহারিক মৃৎশিল্পের নির্মাণ না করে তিনি তৈরি করেছেন আধুনিক মৃৎ বিমূর্ত ভাস্কর্য, যা শিল্পীকে দেশে তথা বিদেশে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। তার এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রকৃতির সাথে মানুষের এক শান্তিময় বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নির্মাণের প্রয়াস চালিয়েছেন তিনি।