শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / সাজানোসুন্দর ইফতার টেবিল
০৬/০১/২০১৬

সাজানোসুন্দর ইফতার টেবিল

- নুসরাত ইসলাম

রোজার আনুষ্ঠানিকতার একটি প্রধান অংশ ইফতার। দিনের ক্ষুধা ও ক্লান্তির শেষে পরিবার, পরিচিতজনের সাথে ইফতারে বসা সিয়াম মাসের প্রধান রিচুয়ালগুলোর একটি। এই মাসে তাই ইফতার টেবিলের গুরুত্ব বেশ অনেকখানি। একটি সুন্দর সাজানো, পরিপাটি ইফতার টেবিল আপনার মনে আনবে প্রশান্তি। আর অতিথির কাছে তুলে ধরবে হোস্টের অতিথিপরায়ণতা।

ছোটখাটো কিছু দিক খেয়াল রাখলেই আপনি ইফতার টেবিলটি করে তুলতে পারবেন সুন্দর ও আকর্ষণীয়। প্রয়োজন হবে - টেবিল কাভার, ন্যাপকিন, মোমবাতি, আপনার তুলে রাখা তৈজসপত্র ও কাটলারিস ও কিছু অ্যাকসেসরিজ।

কিভাবে গুছাবেন

টেবিল কাভার
প্রথমেই একটি নতুন কাভার কিনে নিন আপনার টেবিলের জন্য কেননা এটি সমগ্র ইফতার টেবিল ও তার আশপাশের পরিবেশ সুন্দর করে তুলবে। চাইলে প্রত্যেকের টেবিলের সাইডে একটি করে কাভার ম্যাটও রাখতে পারেন, অবশ্যই টেবিল কাভারের সাথে রং মিলিয়ে। নতুন কাভার কিনতে না চাইলে পুরানোগুলোই ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন।

মোমবাতি
ইফতারের সময় টেবিলে মোমবাতি রাখলে তা শুধু টেবিলের সৌন্দর্যই বাড়াবে না, এগুলো জ্বালানোর সাথে সাথে চারপাশের পরিবেশে একটি পবিত্র আবহ তৈরি করবে। দুটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে- যেহেতু মোমের ব্যবহার করা হচ্ছে হালকা আলোর জন্য, তাই খুব বেশি না জ্বালানোই ভালো; এবং আলোর রঙের সাথে আশপাশের আসবাবপত্রের মিল রাখাও প্রয়োজন। বড় বাতি হলে তাকে টেবিলের ঠিক মাঝখানে স্থাপন করুন। আর না হলে ছোটো মোমগুলোকে টেবিলের চারদিক ঘিরে সাজাতে পারেন।

ফানুস
ইফতার টেবিলের মাঝামাঝি একটি ফানুস (রমজানের সময় ব্যবহৃত এক ধরনের বাতি) করলে তা আপনার ঘরকে দেবে মিডল ইস্টার্ন আবহ। এই বাতি বা ফানুস অনেক দেশে রমজানের প্রতিক হিসেবে গণ্য হয়।

নতুন খাবারের পাত্র
ইফতার টেবিল গোছানোর জন্য সুন্দর একটি ডিনার সেট, বা খুঁজে নিন সবচেয়ে ভালো সেট, কেননা এটি বছরের বিশেষ একটি সময়। ডিনার সেট ইফতার টেবিলের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়। ডিশগুলো চয়েস করুন টেবিল ক্লথের সাথে মিলিয়ে। টেবিল ক্লথ এক রঙের হলে প্যাটার্ন ডিজাইন করা পাত্র ব্যবহার করুন, ক্লথ জাঁকজমকপূর্ণ হলে একরঙা প্লেট। মিষ্টি বা হালকা ও ঝাল কিংবা ভারী খাবারের জন্য আলাদা পাত্র ব্যবহার করুন।

উপযুক্ত গ্লাসওয়্যার
গ্লাসের ক্ষেত্রে এক রঙের গুলো বেছে নেয়াই শ্রেয় কারণ পানি বা শরবতের জন্য সাদাসিধে গ্লাস রঙিন টেবিল ক্লথ, ন্যাপকিন ও অন্যান্য সজ্জার সাথে ভারসাম্য বজায় রাখবে। প্রত্যেকের জন্য দুটি গ্লাস থাকা আবশ্যক- একটি শরবত ও অন্যটি পানি পানের জন্য। দুটির কাজ ভিন্ন, তাই ভিন্ন ধরনের গ্লাস ব্যবহার করতে হবে। পানির গ্লাসটি প্লেইন ও শরবতের গ্লাসটি একটু কারুকার্যময় হলে ভালো হয়।

মনে রাখুন:
*টেবিলে খালি জায়গা রাখা একটি অত্যাবশ্যক বিষয়। অপ্রয়োজনীয় প্লেট বা গ্লাস দিয়ে টেবিল বোঝাই করবেন না। খাবারের আইটেম অনেক হলে এক এক করে তাদের টেবিলে পরিবেশন করুন এবং নতুন খাবার পরিবেশনের আগে দ্রুত আগের সব প্লেট-গ্লাস সরিয়ে নিতে হবে।

*টেবিলে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে পাশে একটি ছোটো টেবিলের ব্যবস্থা করুন, দুটি টেবিলের উচ্চতা এক হলে ভালো হয়।

*টিস্যু বা পেপার ন্যাপকিনের বদলে কাপড়ের ন্যাপকিন পরিবেশন করুন।

ইফতার বা সেহরি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্ব বহন করে ও এই সময়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হয় অনেক। তাই সবার উচিত শুধু রমজানের কথা মাথায় রেখে মার্জিত ও নতুন টেবিল ক্লথ, ম্যাট, ন্যাপকিন, ডিনার সেট, গ্লাসওয়্যার ইত্যাদি টুকিটাকি আলাদা করে কিনে রাখা।