বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / রোজার মাসে ফিটনেস ভাবনা
০৬/০১/২০১৬

রোজার মাসে ফিটনেস ভাবনা

- শাহরিয়ার

বছর ঘুরে আবার দরজায় কড়া নাড়ছে মাহে রমজান। এই মাসটিকে ঘিরে স্বাস্থ্য-সচেতন মানুষদের ফিটনেস ভাবনায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান মানুষেরা এ মাসে জিম, খেলাধুলা কিংবা ডায়েট চালিয়ে যাবেন কিনা তা নিয়ে দ্বিধায় ভোগেন। এ অবস্থায় রোজার মাসে ফিটনেস ধরে রাখার জন্য করণীয় সম্পর্কে আলোচনা থাকছে লেখার পরবর্তী অংশে।

রমজানে জিম ও খেলাধুলা

ফিটনেস ধরে রাখতে যারা জিমে গিয়ে ঘাম ঝরাতে অভ্যস্ত তাদের জন্য মাহে রমজানে শারীরিক কসরত চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর বৈ কি। বিশেষ করে রোজার দিনে খালি পেটে জুন-জুলাই মাসের প্রচ- গরমে জিম করাটা খুব একটা মঙ্গলজনক নাও হতে পারে। এছাড়া এ মাসে সিয়াম সাধনার জন্য রোজদার ব্যক্তিকে রাতের একটা অংশ না ঘুমিয়ে সেহরি করে নিতে হয়। যার ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময়টুকুও কমে যায়। এ অবস্থায় জিম বা খেলাধুলায় অংশগ্রহণ করার ক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। রমজানে অনেকেই জিম বা নিয়মিত খেলাধুলা চালিয়ে গেলেও তা আসলে ব্যক্তির ফিটনেস এবং মানসিক ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। তবে ফিটনেস নিয়ে বেশি চিন্তিত হলে জিম করার সময়টুকু কমিয়ে নিতে পারেন। ব্যায়ামাগারে ওয়েট-লিফটিংয়ের মতো কষ্টসাধ্য কাজগুলোর পরিমাণও কমিয়ে নেয়া যেতে পারে। এছাড়া জিমে কসরত করার বদলে রোজ কিছুক্ষণ হাঁটা বা দৌঁড়ানোর অভ্যাস গড়ে তুললে তা ফিটনেস ধরে রাখার পথ সুগম করবে।

রোজার মাসে ডায়েট

রোজার মাসে সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে দ্রুত ওজন হ্রাসের শঙ্কায় ভোগেন অনেক পুরুষ। অনেকের ক্ষেত্রে আবার ইফতার-সেহরিতে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বেড়ে যাবে এমন দুশ্চিন্তা মাথাছাড়া দিয়ে ওঠে। ফলাফলস্বরূপ অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে ওজন বৃদ্ধি কিংবা একেবারে শুকিয়ে যাওয়ার মতো বিপরীত ঘটনা দেখা যায়। তাই এ মাসটিতে ফিটনেস ধরে রাখতে পরিকল্পনামাফিক খাওয়া দাওয়া করতে হবে। এক্ষেত্রে ইফতার-সেহরিতে অতিরিক্ত খাওয়া কিংবা অত্যন্ত কম খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করে পরিমিত ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।

ফিটনেস ধরে রাখতে করণীয়-বর্জনীয়

রমজানের মাসজুড়ে ঠিক কখন এবং কতটুকু শারীরিক পরিশ্রম করবেন তা আগে থেকেই ঠিক করে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে ইফতারের আগে আগে কিছুক্ষণ হেঁটে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ। এ মাসে খেলাধুলা করার ইচ্ছা থাকলে তা ইফতারের পরে করতে হবে। ইফতার করার পর শরীরে পানি ও গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসে বলে খেলাধুলা করার জন্য এই সময় নির্বাচন করাটাই শ্রেয়। সিয়াম সাধনার মাসে শরীর যদি পরিবর্তিত রুটিনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পারে তবে জিম কিংবা শারীরিক কসরতের কাজ বর্জন করা উচিত। এক্ষেত্রে ইফতারের পর কিছু সময় ফ্রি-হ্যান্ড এক্সারসাইজ করে নিতে পারেন। এ সময়টায় প্রচ- গরমে শরীর পানিশূন্যতায় ভুগতে পারে বলে ইফতার থেকে সেহরির মধ্যবর্তী সময়ে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত। এছাড়া ইফতারে ভাজা-পোড়া এবং মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার অভ্যাস করতে হবে।

সর্বোপরি, ফিটনেস ধরে রাখতে রোজার মাসে শারীরিক অবস্থা ও সামর্থ্য বুঝে জিম, খেলাধুলা এবং ডায়েট করতে হবে। মাসজুড়ে নিয়মিত শারীরিক অবস্থা বিশ্লেষণ সাপেক্ষে ব্যায়াম করা এবং পরিমিত পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস আপনাকে রাখবে শতভাগ ফিট ও দুশ্চিন্তামুক্ত।