রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / প্রতি সুন্দর মুহূর্ত উদ্ভাসিত হোক সংযমে-পরিমিতবোধে
০৬/০১/২০১৬

প্রতি সুন্দর মুহূর্ত উদ্ভাসিত হোক সংযমে-পরিমিতবোধে

- তাসমিমা হোসেন

সংযমের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক রমজান মাসের। জুনের শুরুতে শুরু হওয়া রমজানে এবার জাঁকিয়ে বসবে গরম। ২১ জুন হবে সবচেয়ে দীর্ঘ দহন দিন। সেই হিসেবে এবারের রোজার সময় হবে দীর্ঘতম। সেই দীর্ঘ সময়জুড়ে থাকবে সূর্যদগ্ধ দিন কিংবা মেঘলা আকাশের ভ্যাবসা গরম। স্বাভাবিকভাবেই সারাদিনের লম্বা সংযমবেলা শেষে কর্মক্লান্ত ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য চাই স্বাস্থ্যকর সেহরি ও ইফতার।
কিন্তু বাস্তবতা বড় ভয়ানক। ভেজালকারী ব্যবসায়ীরা সারা বছর ধরে অপেক্ষায় থাকে এই মাসটির জন্য। প্রতিবছর প্রায় দুই হাজারের অধিক ভেজালকারী রমজান উপলক্ষে তৎপর হয়ে ওঠে। হাজার নজরদারির ভেতরেও তারা এবারও তৎপর থাকবে নিশ্চয়ই। কৃত্রিম রঙের বাড়াবাড়ি ব্যবসাও চলে এই সময়। গবেষণায় প্রমাণিত যে, কৃত্রিম রং ক্যান্সার সৃষ্টির পক্ষে কাজ করে। ফুটপাত বা মনোহরী সজ্জার কোনো ঝাঁচকচকে রেঁস্তোরাতেও ইফতারির বেগুনি-চপ, বুন্দিয়া, লাড্ডু ও ভাজা জাতীয় খাদ্য বানাতে যে বেসনের গোলা বানানো হয়, তাতে মেশানো হয় কৃত্রিম রং। তাতে খাবারগুলো দেখায় মনকাড়া। বিক্রি হয় দেদারসে। তাই মনভোলানো বাহারি খাবারের প্রতি জিভকে সংযমী করতেই হবে। জানা যায়, ক্যান্সার সৃষ্টি ছাড়াও পাকস্থলী ও কোলনের তথা সমস্ত শারীরবৃত্তিক কর্মকান্ডের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া ফেলে এসব কৃত্রিম রং।
রমজানে অসাধু ব্যবসায়ীরা যেন সারা বছরের জমে ওঠা ভেজাল খাদ্যদ্রব্য সাফ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ভেজাল খাদ্যও এক ধরনের নীরব ঘাতক, স্লো পয়জনের মতো- শরীরকে কুড়ে কুড়ে খায়। জানা যায়, সয়াবিনের সঙ্গে পাম অয়েল, সরিষার তেলের সঙ্গে পোড়া সয়াবিন মেশানোর মচ্ছব শুরু হয়। মরিচের গুঁড়া ও জিরার সঙ্গে কাউনের ভুসি, ভালো মানের ছোলার সঙ্গে পোকাধরা ছোলা মিশিয়ে বাজারজাত করা হয়। অত্যন্ত ক্ষতিকর হাইড্রোজ মিশিয়ে কালচে বর্ণের কম দামি ছোলা উজ্জ্বল করা হয়। ভেজাল মেশানো হয় ঘি, লাচ্ছা সেমাই, ডালসহ বোতলজাত পানিতেও। বেশির ভাগ বোতলজাত ফলের শরবতে (ফ্রুট ড্রিংকস) রং ও ফ্লেভার ছাড়া কিছুই নেই। ভেজাল সেমাই তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু হয় এ-সময়।
সুতরাং এসব ভেজাল খাদ্য থেকে নিজেকে রক্ষা করাও সংযমের অংশ। সংযমের অর্থও ব্যাপক। আমাদের ধর্ম প্রতিটি ক্ষেত্রেই সীমা লংঘন না করার কথা বলেছে, পরিমিতবোধের কথা বলেছে। এগুলো সংযমেরই অংশ। সেই সংযমকে চূড়ায় নিয়ে যেতে হবে এই পবিত্র রমজান মাসে। অতএব রমজান হোক স্বাস্থ্যকর ও তৃপ্তিদায়ক। সেটাই পরিমিত ও সংযম-কারক। রমজানের ‘অনন্যা’ সংখ্যাটি আমরা সাজিয়েছি স্বাস্থ্য ও পরিতৃপ্তির কথা মাথায় রেখেই।
সংযমময় এই মাসটি হোক সবচেয়ে বড় শিক্ষার মাস- কীভাবে পরিমিতবোধ জাগিয়ে তুলতে হয়, তা শেখার মাস; কীভাবে সীমা লংঘন না করতে হয়- তা উপলব্ধি করার মাস।