শনিবার,১৭ নভেম্বর ২০১৮
হোম / ফ্যাশন / ফ্যাশনে ফুলেল প্রিন্ট
০৫/১৬/২০১৬

ফ্যাশনে ফুলেল প্রিন্ট

- ইরা

বর্তমান ট্রেন্ডে ফ্লোরাল প্রিন্ট বেশ জনপ্রিয়। কামিজ, ফ্রক, গাউন বা স্কার্ট যেকোনো পোশাকেই ফুলেল নকশার কাপড়ের কদর এখন তুঙ্গে।
গ্রীষ্মের পোশাক বাছাইয়ে হালকা ও আরামদায়ক ফেব্রিকই উপযোগী। তাছাড়া এই মৌসুমে এমন পোশাকের নকশা বেছে নেওয়া উচিত, যা দেখতে উজ্জ্বল হলেও দৃষ্টিকটু বা অতিরিক্ত ক্যাটক্যাটে নয়। তাই এই মৌসুমে উজ্জ্বল রংয়ের জনপ্রিয়তা বেশি থাকলেও অতিরিক্ত চকচকে বা গাঢ় রং এড়িয়ে চলাই ভালো। আর এক্ষেত্রে হালকা রঙা জমিনের উপর উজ্জ্বল রংয়ের নকশাগুলো বেশ মানানসই। আর এই ধারায়ই ফুলের প্রিন্টের পোশাকগুলো বেশি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কারণ হালকা রংয়ের উপর রংচং-এ ফুলের প্রিন্ট যে কারো নজর কাড়ে।

নকশায় ফুলের জনপ্রিয়তা নতুন কিছু নয়। তাই পোশাকে ফ্লোরাল প্রিন্টকে আলাদা করে নতুন ট্রেন্ড বলা ঠিক হবে না। আর নারীর সঙ্গে ফুলের সম্পৃক্ততাও দীর্ঘদিনের। সে-কারণেই নারীর পোশাকের নকশায় ফ্লোরাল মোটিফ বরাবরই জনপ্রিয়। ঢোলাঢালা পোশাকে ছোট বা বড় বিভিন্ন আকারের ফুলের প্রিন্ট দেখতে ভালো লাগে।

ফুলেল পোশাকের আরও একটি বৈশিষ্ট্য হলো এই ধরনের কাপড়গুলোতে গাঢ় ও হালকা রংয়ের একটি দারুণ সামঞ্জস্য থাকে। তাই দিনে বা সন্ধ্যায় যেকোনো সময় এ-পোশাকগুলো মানানসই। কারণ উজ্জ্বল রং ব্যবহার করা হলেও এই পোশাকগুলোতে থাকে স্নিগ্ধভাব।
সাধারণত নিত্যদিনের পোশাক হিসেবে ব্যবহৃত হলেও কাপড়ের ধরন হিসেবে যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য জমকালো পোশাক তৈরি করে নেওয়া যায় ফুলেল প্রিন্টের পোশাক।

এই মোটিফ কখনওই পুরনো হয় না, বারবারই নতুন আঙ্গিকে ফিরে আসে এই নকশা।
বাজার ঘুরলেই এখন দেখা যায় নানাধরনের ফুলেল নকশার পোশাক বা গজ কাপড়। সুতি, লিনেন, জর্জেট, সিল্ক বিভিন্ন ধরনের কাপড়ের উপর ফ্লোরাল প্রিন্টগুলো রয়েছে হাল ফ্যাশনে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে।

তবে যত যাই হোক গরমে পাতলা সুতি কাপড়ই বেশি আরামদায়ক। কারণ সুতি কাপড়ে বাতাস চলাচল হয় বেশি এবং ঘাম শোষণ ক্ষমতাও এই কাপড়ের বেশি। তাই গরমে সুতির পোশাকেই স্বস্তি। তবে লিনেন কাপড়গুলোও বেশ আরামদায়ক। বাজারে আরও আছে বেশ কিছু পাতলা জর্জেট কাপড়। নিচে সুতি কাপড়ের ইনার দিয়ে বানালে এই জর্জেট কাপড়গুলোও বেশ মানিয়ে যাবে গরমে।

বর্তমানে বড় ফুলের নকশাগুলোই বেশি জনপ্রিয়। আর ফ্যাশনে এখন নিয়ন রংগুলো বেশ জনপ্রিয়। তাই ফুলের প্রিন্টেও প্রাধান্য পাচ্ছে হলুদ, টিয়া, উজ্জ্বল কমলা, সিঁদুর লাল, কমলা লাল, উজ্জ্বল গোলাপি ইত্যাদি রং। বাজারে গজ কাপড়ের পাশাপাশি তৈরি পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে এই মোটিফের।
আর একদম আঁটসাঁট করেই যে বানাতে হবে বা একদম মাপমতো পোশাক না হলেও চলবে। কারণ ফ্লোরাল প্রিন্ট কিছুটা ঢোলাঢালাও বেশ মানিয়ে যায়। আর গরমে ঢোলা পোশাকই আরামদায়ক।

তবে ফ্লোরাল প্রিন্ট দিয়ে পোশাক তৈরির সময় কিছু জিনিস মাথায় রাখতে হবে। কোনো কিছুই অতিরিক্ত বেমানান। তেমনি খেয়াল রাখতে হবে যেন পোশাকেও সেই সামঞ্জস্যতা থাকে।

উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি কামিজ ফ্লোরাল প্রিন্টের হয় হবে সালোয়ার বা পালাজ্জো হতে হবে একরঙা। আর ওড়নাও এক রংয়ের বেছে নেওয়া যেতে পারে বা অন্য প্যাটার্নের, যেমন স্ট্রাইপ। বর্তমান ফ্যাশনে স্কার্ট বেশ জনপ্রিয়। তাই চাইলে ফুলেল প্রিন্টের স্কার্ট বানিয়ে নিতে পারেন তবে এর সঙ্গে টপস বা ফতুয়া হতে হবে একরঙা।

চাইলে কিছুটা ভিন্নতাও আনা যেতে পারে। যেমন ধরা যাক, যদি ফ্লোরাল প্রিন্টের পালাজ্জো বেছে নেন তবে সঙ্গে রং মিলিয়ে স্ট্রাইপ বা চেক কাপড়ের কামিজ বানিয়ে ফেলতে পারেন। দেখতে ফ্যাশনেবলে লাগবে এবং ভিন্নতাও থাকবে।

আর এক্ষেত্রে রংয়ের দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। যদি কামিজের বেইস রং হালকা হয় তবে ফুল বা পাতার উজ্জ্বল রংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে উজ্জ্বল রংয়ের সালোয়ার ও ওড়না পরতে পারেন। আবার পোশাক জমকালো হলে অন্যদিকে রং যেন একটু নমনীয় হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। এতে পোশাকে নকশা ও রংয়ের সামঞ্জস্যতা থাকবে।

শুধু যে পোশাকেই ফুলের নকশা জনপ্রিয় তা কিন্তু নয়, চাইলে ব্যাগেও ফুলের প্রিন্ট বেছে নিতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রেও পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে ওই ব্যাগ ব্যবহার করতে হবে।