বুধবার,১৬ অগাস্ট ২০১৭
হোম / জীবনযাপন / অন্তর্মুখীর ভালোবাসা প্রকাশ
০৫/১৬/২০১৬

অন্তর্মুখীর ভালোবাসা প্রকাশ

- আঁখি

কারো প্রতি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করাও এক ধরনের শিল্প আর এর জন্য জানা প্রয়োজন এর সঠিক উপায়। কিন্তু যারা অন্তর্মুখী, নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, তাদের জন্য আরও বেশি মুশকিল প্রিয় মানুষটির প্রতি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা।
খোলশের ভিতর লুকিয়ে থাকা মানুষগুলোর জন্য মনের কথা মুখ ফুটে বলার আগে অনেক কসরত করতে হয়। এই প্রতিবেদনে তাই তেমনই মুখচোরাদের জন্য মনের কথা বলার কিছু টিপস দেওয়া হলো।

কথা গুছিয়ে নিন আগেই
ছোট্ট ও মিষ্টি একটি চিঠি কিংবা রোমান্টিক একটি কবিতা, যেকোনো কিছুই হতে পারে ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম। কাগজ-কলম, স্মার্টফোন, ট্যাবলেট হাতের কাছে যা পান তাতেই মনের কথাগুলো গুছিয়ে ফেলা শুরু করুন। এতে আসল সময় ভাষা হারিয়ে ফেলার বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না।

বেছে নিন বিভিন্ন মাধ্যম
সময় এখন ফেইসবুক, টুইটার, ইন্সটাগ্রামের। তাই সামনাসামনি মনের কথা বলতে অস্বস্তি বোধ হলে অলটারনেট পথ খুঁজে নিন। ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, এসএমএস ইত্যাদিও হতে পারে মনের না বলা কথাগুলো তাকে জানানোর মাধ্যম। তবে যে পথই ব্যবহার করুন না কেন তাতে নিজস্বতার ছাপ রাখতে ভুলবেন না। নতুবা প্রিয় মানুষটির মনে বিশেষ প্রতিক্রিয়া ফেলতে ব্যর্থ হতে হবে। এক্ষেত্রেও তাকে জানানোর আগে কিছুটা সময় নিয়ে গুছিয়ে নিন সবকিছু।

আগে থেকেই প্রস্তুতি নিন
লেখা শেষে পরীক্ষার খাতায় চোখ বুলানো যতটা জরুরি, প্রিয় মানুষটিকে কি বলবেন তা ঠিক করে আবার তাতে চোখ বুলানো ততটাই জরুরি। এর পাশাপাশি কথাগুলো বলার মানসিক প্রস্তুতি নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বেশিরভাগ মানুষই কথা গুছিয়ে নেন ঠিকই, কিন্তু বলার সময় তা বেমালুম গায়েব হয়ে যায় মাথা থেকে। অন্তর্মুখীদের জন্য তো তা আরও স্বাভাবিক। তাই এমন পরিস্থিতিতে কি করবেন সেটাও ভেবে রাখতে হবে আগেভাগেই। এতে করে প্রিয় মানুষের সামনে অপ্রস্তুত হবার ভয় থাকে না।

আত্মবিশ্বাসী হতে হবে
যেকোনো পরিস্থিতি সামলাতে চাই দৃঢ় আত্মবিশ্বাস। আমতা আমতা না করে সুযোগ বুঝে মনের কথাগুলো দৃঢ়ভাবে বলে ফেলুন। এতে লাভ বই ক্ষতির ঝুঁকি মোটেও বেশি নয়। বরং আত্মবিশ্বাসী মানুষকে সকলেই পছন্দ করে।

তবে যারা নিজের মধ্যেই নিজেকে লুকিয়ে রাখেন তারা কমবেশি কিছু সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকেন। ওই বিষয়গুলোও জেনে রাখা উচিত। এতে যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে সামলে নিতে বিপাকে পড়তেহবে না।

সবারই নিজস্ব একটি দুনিয়া থাকে, কিন্তু চাপা স্বভাবের মানুষগুলোর ক্ষেত্রে তা আরও গভীর। তাদের জগৎ অনেকেটা পেঁয়াজের মতো বিভিন্ন পড়তে সাজানো, তাই ওই জগতের গভীরে যেতে অনেকগুলো ধাপ পার হতে হয় যা অন্য কারো অন্যদের পক্ষে সহজে সম্ভব হয় না। তাই এ ধরনের মানুষগুলোকে ভুল বোঝার ঝুঁকিও বেশি।

যতক্ষণ না আপনি মুখ ফুটে নিজের মনেরভাব প্রকাশ করবেন ততক্ষণ কেউ আপনাকে পুরোপুরি বুঝবে তা ভাবা ভুল। আর যেহেতু তারা নিজের মধ্যেই নিজেকে আগলে রাখেন সেখানে অন্যে ভুল বুঝতেই পারে। এ নিয়ে অবাক হওয়া বা দীর্ঘসময় মন খারাপ করে থাকার কোনো মানে হয় না।
তবে এই দিক থেকে আপনি চিনে নিতে পারবেন আপনার জন্য আদর্শ সঙ্গীকে। কারণ যে আসলেই আপনার প্রতি আগ্রহী, সে আপনার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করবে। ভুল না বুঝে বরং আপনার খোলসগুলো ছাড়িয়ে আপনাকে বোঝার চেষ্টা করবে।

চাপা স্বভাবের মানুষগুলোর মধ্যে একটি ধারণা আছে যে, তার মতো মুখচোরা মানুষগুলোই কেবল তাদের আদর্শ সঙ্গী হতে পারে। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তা নয়। অনেক সময় হাসিখুশি, বেশি কথা বলতে পারা একজনও হতে পারে আপনার মনের মতো সঙ্গী। আসলে একে অপরকে বোঝাটাই বড়কথা, স্বভাব এখানে মুখ্য নয়।