শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / ফেং শুই মতে সাজান ঘর
০৫/১৬/২০১৬

ফেং শুই মতে সাজান ঘর

- নুসরাত ইসলাম

ফেং শুই কথার অর্থ বাতাস ও পানি। এটি চীনের একটি দার্শনিক তত্ত্ব সবাইকে পারিপার্শ্বিক পরিবেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সমন্বয়ে রাখার। ফেং শুই শাস্ত্রের উৎপত্তি সুদূর চীন দেশে হলেও এই উপমহাদেশে এর জনপ্রিয়তা কম নয়, বিশেষ করে ভারতে। অনেকেই মনে করে আপন ঘরে প্রশান্তি বিরাজমান রাখার বিশ্বস্ত উপায় এই ফেং শুই। তাই নতুন বাড়ি বা এপার্টমেন্ট সাজানোর সময় অনেকেই ফেং শুই মতে সাজিয়ে থাকেন।
ফেং শুই মুলত দুটি অংশ নিয়ে গঠিত- দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান। দৃশ্যমান দিকগুলো হলো দেয়াল, দরজা, রাস্তা ইত্যাদি। ফেং শুই এর দৃশ্যমান ফ্যাক্টরগুলোকে ৫টি ভাগে ভাগ করা যায় আগুন, পানি, মাটি, কাঠ ও ধাতু। আর অদৃশ্য হলো বিরাজমান ইতিবাচক বা নেতিবাচক শক্তি।
এক কথায় বলতে হলে ফেং শুই-এর ধারণাটি বাহ্যিক পরিবেশকে ঘিরে, যা কিনা নির্ধারণ করে আপনার বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির প্রভাব বজায় থাকছে কি না

কিভাবে নিজ বাড়িতে ফেং শুই প্রতিষ্ঠা করবেন?

ঘরের আসবাবপত্র, গাছপালা, দেয়ালচিত্র জাতীয় জিনিসগুলো এদিক-সেদিক করা বা কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস যোগ করার মাধ্যমে যার ফলে আপনার ঘরে বইবে পজিটিভ শক্তির ধারা।
* প্রথমত, বাড়ির অভ্যন্তরীণ বিন্যাস এবং একটি চিত্তাকর্ষক বাইরের মাঝে ভারসাম্য ও তাল তৈরি করে নিতে হবে। এতে পুরো বাড়ির বাসিন্দাদের উপর ফেং সুই নিশ্চিত হবে এবং তারা সুখে-সমৃদ্ধিতে বাস করতে পারবে।
* ফেং সুই-এর নিয়ম অনুসারে যদি আপনার বাড়িটির পূর্ববর্তী বাজে ইতিহাস থাকে কিংবা আপনি নিজে এখানে কিছু নেতিবাচক বা ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে পুরো জায়গাটি নোনাজল দিয়ে ধুয়ে নিন আগরবাতি ও আলোর উপস্থিতিতে। যদি একই দিকে দুই বা ততোধিক দরজা থাকে, বিশেষত বাড়ির সামনের ও পিছের দরজার ক্ষেত্রে, ওয়াইন্ড চাইম, ক্রিস্টাল বা এমন বস্তু যা নড়ে তা না রাখাই শ্রেয়। কেননা এতে বাড়িতে ইতিবাচক প্রভাব ঢুকতে বাধার সম্মুখীন হবে।
* শোবার ঘর রাখুন যতটা সম্ভব যন্ত্রপাতি মুক্ত। তাই সরিয়ে রাখুন টিভি, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন। এর কিন্তু একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও আছে। এসব যন্ত্রপাতি থেকে বের হওয়া তরঙ্গ যেমন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, তেমনি এ থেকে বের হওয়া রেডিয়েশন করতে পারে আপনার মস্তিষ্কের ক্ষতি।

* সাধারণভাবে দেওয়াল ঘেঁষেই রাখা হয় বিছানা যেন শোবার সময় মাথা থাকে দেওয়ালের দিকে। তবে খেয়াল রাখবেন শোবার সময়
আপনার মাথা যেন কোনো দেওয়ালের কোণের দিকে না থাকে। আপনার পা যে দরজার দিকে না থাকে শোয়ার সময়।
* দেয়ালের বাইরের দিকে তিনটির বেশি রং ব্যবহার না করাই ভালো। খয়েরি রং, হাল্কা বালু রং, শোবার ঘরের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উপযোগী।
* টেবিল-চেয়ার ও অন্যান্য আসবাবপত্রের কোণাগুলো যেন চোখা না হয়। এতে নেতিবাচক শক্তি তৈরি হবে।
* প্রাকৃতিক আলো-হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি হবে।
* একটি আকর্ষণীয় ও মজবুত দরজা আপনার বাড়িতে ইতিবাচক প্রভাব আনে।
* বাড়ির করিডোর, হল ও হাঁটার পথ, ড্রাইভওয়ে উন্মুক্ত ও পরিষ্কার রাখুন যেন এর মাঝে ইতিবাচক শক্তি বজায় থাকে।
* ভাঙ্গাচোরা, অদরকারী জিনিসপত্র সরিয়ে ফেলুন। কারণ ঘর নোংরার পাশাপাশি যতবার এসব ভাঙাচোরার দিকে নজর যাবে, নেতিবাচক শক্তি প্রভাব ফেলবে আপনার উপর।
* অফিসে কাজ করার সময় চোখের সামনে দরজা থাকলে ভালো হয়। আরামদায়ক অনুভুতি তৈরি হবে।
* বাগানে বা ঘরের ভেতরে কি গাছ লাগাচ্ছেন তা বাড়ির ফেং শুই নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের যত্ন নিন যেন সব সময় সতেজ থাকে। লেবু, কমলা বা বাঁশ গাছ খুবই শুভ। ক্যাকটাস বা কাঁটাযুক্ত গাছ বয়ে আনে নেতিবাচক শক্তি।