রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / স্ফটিকস্বচ্ছ জলের দেশ- বিরিশিরি
০৫/১৬/২০১৬

স্ফটিকস্বচ্ছ জলের দেশ- বিরিশিরি

- কাজী মাহদী আমিন

চীনামাটির একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য আছে। এই মূল্যবান মাটির সংস্পর্শে থাকে যেসব জলাশয়, সেসবের পানি নীলকান্তমণির রং ধারণ করে। যেন নীলাভ স্ফটিকের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া জল। সেই দৃশ্য দেখলে মনে হয় তা বুঝি জাগতিক নয়। কোথায় দেখবেন সেই দৃশ্য? বাংলাদেশের নেত্রকোনায়, দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি নামক ইউনিয়নে।

চীনামাটির পাহাড়, রানীখং, ভারত-সীমান্ত, সোমেশ্বরী নদীসহ আরও যা দেখবেন সবই দুর্গাপুর উপজেলার অন্তর্গত এবং অন্যান্য ইউনিয়নে। দুর্গাপুরের সুসং বাস স্ট্যান্ড থেকে আপনি ঘুরে দেখতে পারবেন এসব জায়গা।

দর্শনীয় স্থানসমূহ

সুসং দুর্গাপুরের দর্শনীয় স্থানসমূহ সহজে এবং দ্রুত দেখতে চাইলে আপনি বাইক ভাড়া করতে পারেন এছাড়া রিকশাও নিতে পারেন। সারাদিনের জন্য বাইক ভাড়া পাবেন ৮০০-১০০০টাকায়। রিকশা কিছুটা কম। তবে অবশ্যই দরাদরি করতে ভুলবেন না। বাইক বা রিকশাচালকই গাইড হিসেবে কাজ করবে। প্রথমেই আপনি চলে যেতে পারেন সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে বিজয়পুর, যেখানে আছে বাংলাদেশের একমাত্র চীনামাটির খনি, আছে বিখ্যাত নীল পানির লেক। যার কথা বললাম শুরুতেই। সেই লেকের আশেপাশে আরো ছোটবড় অসংখ্য পাহাড় রয়েছে। বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্পে যেতেও ভুলবেন না। ফেরার পথে দেখে আসবেন হাজংমাতা রাশিমণি স্মৃতিসৌধ এবং সাধু যোসেফের ধর্মপল্লী, রানিখং গ্রামের ক্যাথলিক গির্জাটি থেকে সোমেশ্বরী নদীদর্শন আপনার সকল ক্লান্তি মুহূর্তেই দূর করে দেবে।

সুসংদুর্গাপুর ফিরে এসে আপনি দেখতে পারেন জমিদার বাড়ি, টংক আন্দোলনের

স্মৃতিসৌধ, কিংবা বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমি। এছাড়া আপনি ভবানিপুর, নলুয়াপাড়া, গোপালপুর, লক্ষিপুরের পাহাড়গুলো দেখে আসতে পারেন। বাইক দিয়ে এসব জায়গায় যেতে দুর্গাপুর থেকে ১৫/২০মিনিট লাগে। সোমেশ্বরী নদীর স্বচ্ছ পানি আর ধুধু বালুচর বিখ্যাত। নদীতে স্থানীয়রা কয়লা উত্তোলন করে থাকে। এই নদীর প্রকৃত সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে রানিখং গির্জার পাশ দিয়ে বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্পের দিকে যেতে হবে, পাহাড় ও নদীর অসাধারণ যুগল সৌন্দর্য আপনাকে বিস্মিত করবেই।

কীভাবে যাবেন দুর্গাপুর

ঢাকার মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে সুসং দুর্গাপুরে উদ্দেশ্যে রাতে বেশ কিছু বাস ছেড়ে যায়। ভাড়া পড়বে ৩৫০টাকা। রাত ১২টায় মহাখালী টার্মিনাল থেকে নাইট কোচ ছেড়ে যায়। এই বাস আপনাকে ভোরে সুসং দুর্গাপুর নিয়ে নামাবে। আগে থেকে যোগাযোগ করে টিকিট বুকিং দিয়ে রাখবেন। আবার ঢাকা ফেরার জন্য দুর্গাপুরের আওয়ামী লীগ অফিসের সামনে থেকে রাত এগারটায় এবং সাড়ে এগারটায় দুটি নাইট কোচ ঢাকার উদ্দ্যশ্যে ছেড়ে যায়। আপনি এখান থেকে টিকিট সংগ্রহ করে বাসে যেতে পারেন। ভোর পাঁচটার মধ্যেই মহাখালী পৌঁছে যাবেন।

তাছাড়া, বাসে করে ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ গিয়েও দুর্গাপুর যাওয়া যাবে। ময়মনসিংহ এসে বাসে বা সিএনজি অটোরিকশা করেও দুর্গাপুর আসতে পারেন। এজন্য আপনাকে ময়মনসিংহ ব্রিজ (শম্ভুগঞ্জ ব্রিজ নামে পরিচিত) এ আসতে হবে। সেখান থেকেই যানবাহন ঠিক করে পৌঁছে যেতে পারবেন দুর্গাপুর।

খাওয়াদাওয়া

খাওয়ার জন্য এখানে রয়েছে মাঝারি মানের কিছু হোটেল। হোটেল খলিফা, হোটেল নিরালা, হোটেল চম্পা, হোটেল শান্ত, দুলালের হোটেল ইত্যাদি হোটেলে আপনি মোটামুটি সুলভ মূল্যেই খেতে পারবেন। উকিল পাড়া সোনালী ব্যাংকের সামনে দুলালের হোটেলে আপনি রাত ১১টা পর্যন্ত চালের রুটি পাবেন। এছাড়া আপনি যে গেস্ট হাউজে থাকবেন সেখানে বললেও তারা খাবার ব্যবস্থা করবে।

কোথায় থাকবেন
ইচ্ছে করলে আপনি সারাদিনে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখে আবার ফিরে যেতে পারেন, তবে সেক্ষেত্রে হয়তো সবকিছু ভালোভাবে দেখা হবে না। পরিপূর্ণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে কমপক্ষে একদিন থাকতে হবে। থাকার জন্য সুসং দুর্গাপুরে ভালো এবং মাঝারি মানের বেশ কিছু গেস্ট হাউজ রয়েছে। সেখানে আপনি মান অনুযায়ী ২০০-১২০০ টাকার মধ্যে নিরাপদে থাকতে পারবেন।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কালচারাল একাডেমী গেস্ট হাউজ।
যোগাযোগ - ০১৮১৫৪৮২০০৬

ইয়ুথ মেন খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বা YMCA-এর গেস্ট হাউস।
যোগাযোগ - ০১৭৪৩৩০৬২৩০
এই গেস্ট হাউসগুলোতে গড়ে রুম ভাড়া পড়বে ৬০০ টাকা (২বেড/ডাবলবেড) এবং এসিরুম ১২০০ টাকা। আর চাইলে দুই রুমের ব্যবস্থাও করতে পারেন।

বিরিশিরি এবং অন্যান্য দর্শনীয় স্থানগুলো কিছুটা দুর্গম এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় অনেকেই যেতে সাহস করে না। বাচ্চাদেরকে না নেয়াই উত্তম, এত লম্বাপথ পাড়ি দেয়া তাদের জন্য হবে বেশ কষ্টসাধ্য।
আর কি? এবার প্ল্যান করে বেরিয়ে পরুন বিরশিরি অ্যাডভেঞ্চারে।