শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই
০৫/১৬/২০১৬

ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াই

- রিদোয়ান

বর্তমানে সুস্থভাবে বাঁচার পথে যেসব রোগ বাধা সৃষ্টি করছে তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। সময়ের সাথে সাথে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলছে এবং এর ভয়াবহতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ অবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তির সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং অবশ্য করণীয় কাজগুলোকে উপজীব্য করে আজকের লেখা সাজানো হয়েছে যা ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আপনাকে সাহায্য করবে।

ডায়াবেটিসের তীব্রতা

গবেষণামতে বর্তমানে প্রায় ৫ কোটি মানুষ টাইপ ২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের মতে ডায়াবেটিসে আক্রান্তের হার এতটাই বেড়ে চলছে যে, চলতি বছর বিশ্বস্বাস্থ্য দিবসের মূল উপজীব্য হিসেবে ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে লড়াইকে বেছে নেয়া হয়েছে। তবে আক্রান্ত ব্যক্তির দেহে ধীরে ধীরে বাসা বাঁধে বলে শুরু থেকে সচেতন হলে আশু বিপদ থেকে প্রতিকার পাওয়া সম্ভব। এক্ষেত্রে রোগীর খাওয়া-দাওয়ার উপর বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আনতে হবে। একই সঙ্গে ডাক্তার প্রদত্ত নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সঠিক খাদ্যাভ্যাস

সকালের নাস্তা : যারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, দিনের প্রথম নাস্তা হিসেবে ১ টেবিল চামচ মেথি, ১ টেবিল চামচ দারুচিনিগুঁড়া, পানি এবং এর সাথে ৪-৫টি কাজুবাদাম বা আখরোট খেতে পারেন।

এরপর সকালের মূল প্রাতঃরাশ হিসেবে ব্রাউন ব্রেড দিয়ে তৈরি ভেজিটেবল স্যান্ডউইচ এবং এর সাথে ১ গ্লাস দুধ, জই বা দৈ খাওয়া যেতে পারে। সকালের নাস্তায় সর-তোলা দুধ বা ১ কাপ দৈ খাওয়া যেতে পারে। সকালে ভাত খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তার সাথে পরিমাণমতো মিক্সড ডাল, সেদ্ধ ডিমের সাদা অংশ এবং আচার/চাটনি খাওয়া যেতে পারে।

দুপুরের খাবার : সকালের শেষভাগে ১০০ গ্রাম ফল অথবা ১ গ্লাস কচিডাবের পানি, ভেজিটেবল জুস কিংবা গ্রিন টি পান করুন। এসময় সর-তোলা দুধ দিয়ে তৈরি দৈ খাওয়া যাবে।

লাঞ্চ : ডায়াবেটিস থেকে দূরে থাকতে লাঞ্চে প্লেটভর্তি সালাদ খান। এর সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে ভাত, সবজি, ১ কাপ ডাল এবং ১ কাপ দৈ খাওয়া যেতে পারে। ভাতের পরিবর্তে ২টি রুটি খাওয়া যাবে।

সন্ধ্যার খাবার : সন্ধ্যায় নাস্তা হিসেবে খোসাসহ ছোলা (লবণ ছাড়া) খেতে পারেন।

রাতের খাবার : রাতের খাবার হিসেবে ২টি রুটি, ১ কাপ সবজি এবং ১ কাপ ডাল খাওয়া ভালো। এছাড়া ঘুমানোর আগে এক গ্লাস কুসুম গরম পানি পান করতে হবে।

যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সব ধরনের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, কোমল পানীয়, ক্যান বা প্যাকেটজাত খাবার, ফলের রস, বিস্কিট-পাউরুটি, সুজি জাতীয় খাদ্য একেবারে এড়িয়ে চলতে হবে। চিনি, মিষ্টি, গ্লুকোজ, কর্ন সিরাপ এবং চিনির বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত খাদ্যদ্রব্য এড়িয়ে চলতে হবে। আলু খাওয়ার পরিমাণও কমিয়ে দিতে হবে।

যা খাওয়া জরুরি

আক্রান্ত ব্যক্তিকে বেশি পরিমাণে সবুজ শাক-সবজি, খাদ্যশস্য, ডাল, মটরশুটি, শিম, ফলমূল, পর্যাপ্ত পরিমাণে মাছ-মাংস, কাজুবাদাম, আখরোট এবং ডিমের সাদা অংশ খেতে হবে। এছাড়া সরহীন দুধ এবং বা দৈ খাওয়া যেতে পারে।

মনে রাখবেন

*প্রতিদিন অন্তত ৩ লিটার পানি পান করতে হবে।
*দৈনিক ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ব্যায়াম করতে হবে।
*খালি পেটে সুগার বেড়ে গেলে ফল খাওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হবে।
*নিয়মিত বিরতিতে স্বল্পপরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করতে হবে।

ডায়াবেটিস রোগের প্রভাব যতই ভয়াবহ হোক না কেন, উপরোক্ত খাদ্যাভ্যাস ও নির্দেশনা মেনে চলার মাধ্যমে এই রোগ খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।