রবিবার,২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭
হোম / সম্পাদকীয় / আত্মশুদ্ধির আলোয় মুক্তি ঘটুক
০৫/১৬/২০১৬

আত্মশুদ্ধির আলোয় মুক্তি ঘটুক

- তাসমিমা হোসেন

আমরা লাল-কমল আর নীল কমলের রূপকথা শুনেছি। সেই রূপকথায় রাজার দুই রানির একজন ছিল রাক্ষসী। সে তার সন্তান নীল কমলকে চিবিয়ে খেয়ে নেয়। আমাদের সমাজেও কি রাক্ষস-রানির প্রবেশ ঘটেছে? আমরা জেনে এসেছি- কুসন্তান যদ্যপি হয়, কুমাতা কদাচ নয়। কিন্তু পত্রিকা খুললেই প্রায়শই চোখে পড়ছে মায়ের হাতে শিশুহত্যার সংবাদ। কয়েকটি শিরোনাম এরকম- সিরাজগঞ্জে এগারো মাসের শিশুকে হত্যা করে স্যুটকেসে রাখেন মা! ঢাকার বনশ্রী এলাকায় দুই শিশু হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত মা! নরসিংদীতে শিশু হত্যার অভিযোগে মায়ের মৃত্যুদ-। প্রচ- ধর্মভীরুতা ও ধর্মান্ধতার কারণে মায়ের হাতে জীবন দিতে হলো ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার চর বাগাট গ্রামের ফুলের মতো নিষ্পাপ দুই শিশুকে। কিশোরগঞ্জে দা দিয়ে কুপিয়ে দেড় বছরের ছেলেকে হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে মা-কে। রাজধানীর উত্তরখানে দেড় বছরের এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় পাঁচ মাসের শিশুকে গলা কেটে হত্যা করেছেন পাষ- মা।

এটুকু পড়েই সংবেদনশীল পাঠকের প্রাণটা নিশ্চয়ই আঁতকে উঠেছে। অবিশ্বাস্য শোনাচ্ছে শিশুহত্যাকারী মায়েদের স্বীকারোক্তি। নাড়িছেঁড়া প্রাণের ধনকে কীভাবে কোন দহনে জ্বলেপুড়ে হত্যা করেছেন? নিজেকে কেন রাক্ষস-রানিতে পরিণত করেছেন- সেই কাহিনি শুনলে গায়ের লোম হরর ফিল্ম দেখার মতো দাঁড়িয়ে যাবে টানটান। পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই মাসে দেশে ৫৬ শিশু খুন হয়েছে। তার মধ্যে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাবা-মায়ের হাতেই প্রাণ হারিয়েছে নয়জন। ২০১৫ সালে মা-বাবার নৃশংসতার শিকার হয়েছে ৪০ শিশু। এ সংখ্যা ২০১৪ সালে ছিল ৪১ জন। সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের নীচে যখন এত হত্যার ঘটনা, তখন বাইরের জগতে শিশু যে আরো অনিরাপদ তা বাংলাদেশ শিশুঅধিকার ফোরামের (বিএসএএফ) পরিসংখ্যানই বলে দেয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী গত চার বছরে ১,০৮৫ শিশু হত্যাকা-রে শিকার হয়েছে।

একটি শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ আঁচল কী করে ঘাতকের রাক্ষসের লকলকে রসনায় পরিণত হয়? মনস্তত্ত্ববিদ এবং সমাজবিজ্ঞানীরা নিশ্চয়ই এসব কেসস্টাডির ভেতরে সমাজের পরিবর্তিত মূল্যবোধের ভয়াবহ চিত্র আবিষ্কার করতে পারবেন। বুঝতে পারবেন কেন এই নেতিবাচক সমাজ-বিবর্তন? একজন মা-কে কেন এমন প্রচ- মানসিক চাপের ভেতরে থাকতে হবে, যেখানে যাবতীয় মূল্যবোধ ধুয়েমুছে একাকার হয়ে যাবে? আমরা এসব বিষয় কেন তলিয়ে দেখছি না? সুতরাং মায়ের হাতে শিশুহত্যার ঘটনা বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে এর নেপথ্য জটিল মনস্তত্ত্ব ও তার পরিবেশ বুঝতে হবে। আমরা সবসময়ই বিশ্বাস করতে চাই- কুমাতা কদাচ নয়।

বছরের একটি ফজিলতপূর্ণ রাত হচ্ছে লাইলাতুন মিন নিসাফি শা’বান তথা লাইলাতুল বারাআত বা শবে বারাআত। এ লাইলাতুল বারাআতে নিহিত রয়েছে মানুষের মুক্তি ও কল্যাণের বিভিন্ন উপকরণ। তাই এ রাতকে বলা হয়েছে লাইলাতুল বারাআত বা মুক্তির রাত। অনন্যার এই সংখ্যা আমরা সেই মুক্তির রাতের বিভিন্ন রেসিপি নিয়ে সাজিয়েছি।
আত্মশুদ্ধির আলোয় মুক্তি ঘটুক সকল মানুষের।