শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / গরমে শীতল রাখুন ঘর
০৫/০১/২০১৬

গরমে শীতল রাখুন ঘর

-

গত একমাস ধরেই প্রচ- গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। ধারণা করা হচ্ছে বিগত পাঁচ দশকের মাঝে এবারই তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি। বাইরে সূর্যের প্রখর তাপ এবং অসম্ভব রকমের আর্দ্রতা থেকে ঘরে এসে কিছুটা শীতলতা সকলের কাম্য। গরমকে এড়াতে পুরো বাসায় এয়ার কন্ডিশন লাগানোটাও সম্ভব না সবার পক্ষে। তাই প্রয়োজন এই তাপমাত্রায় আপনার বাড়িকে প্রাকৃতিক উপায়ে ঠান্ডা রাখা। চলুন দেখে নেয়া যাক অসহনীয় গরমে কিভাবে আপনার বাসাকে শান্তির নীড় করে তুলবেন :

গ্রীষ্মের রঙে রাঙিয়ে নিন ঘর
সম্ভব হলে গরম আসার আগেই ঘরগুলোকে রাঙ্গিয়ে নিন হালকা রঙে, যে রংগুলো আলো এবং তাপমাত্রা প্রতিফলিত করে বাইরে পাঠিয়ে দেয়। পাশাপাশি হালকা রং ঘরে একটি আনন্দময় ও ফুরফুরে একটি পরিবেশ তৈরি করে। যদিও সাদা গরমের জন্য উপযুক্ত রং, হালকা হলুদ বা টিয়া রংও এক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। দেয়ালের সাদা রং আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মিকে প্রতিহত করে প্রাকৃতিকভাবে ঘরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। প্রয়োজনে ঘরের সিলিংও সাদা রঙের করে নিন।

হালকা ফেব্রিক্স
পর্দা, বিছানার চাদর, বালিশের কাভার বা কুশন কাভার যেটাই হোক না কেনো খেয়াল রাখুন এরা যেন হালকা ফেব্রিকের হয়। সুতি বা লিনেন কাপড় সবচাইতে উপযোগী এক্ষেত্রে। গাঢ় রং আর ভারি কাপড়ের তৈরি সব কিছুই তুলে রাখুন শীতের জন্য। গাঢ় রঙের এসবব সামগ্রীর ব্যবহারে দেখবেন গরম অনেকটাই বেশি লাগে, যেহেতু এদের তাপশোষণ ক্ষমতা অত্যধিক। পর্দার ক্ষেত্রে এমন রঙের পর্দা ব্যবহার করতে হবে যা বাইরের তাপমাত্রা শুষে না নিয়ে প্রতিফলিত করতে সক্ষম। দিনের বেলায়ও জানালার পর্দা টেনে দিতে হবে যেন তাপ ঘরে প্রবেশ করতে না পারে। অন্যদিকে, বিছানার চাদর মোটা ও কারুকাজ থাকলে ঘাম বেশি হয়। হালকা রং এক্ষেত্রে শোবার ঘরে শীতল প্রভাব ফেলে।

ইনডোর গাছপালা লাগান
ঘরের ভেতর যতটা সম্ভব গাছ লাগান, এতে না শুধু তাপমাত্রা কমবে, সাথে ঘরের অভ্যন্তরীণ বাতাসের ঔৎকর্ষ বৃদ্ধি পায়। ছায়া দিতে পারে এমন গাছ পূর্ব-পশ্চিমে লাগালে আপনার গৃহে সূর্যের তাপ আলোকে প্রতিহত করবে। ঘরের চারপাশে ঘাস ও ঘাস জাতীয় গাছ থাকলে ঘরকে শীতল রাখে। অ্যালোভেরা, বস্টন ফার্ন, স্নেক প্লান্ট, উইপিং ফিগ, অ্যারিকা পাম এই সমস্ত গাছ ঘরের ভিতরের বাতাস শুদ্ধ করে।

ঘরে আলোর ব্যবহার কমিয়ে ফেলুন
ঘরকে ঠান্ডা রাখতে হলে ঘরের অপ্রয়োজনীয় বাতিগুলো নিভিয়ে রাখুন। ঘরে যদি রঙিন বাতি থাকে তাহলে সেগুলোকে বদলে এনার্জি সেভিং বাতি লাগিয়ে নিন। তাহলে ঘর অপেক্ষাকৃত কম গরম হবে এবং বিদ্যুৎ শক্তির অপচয় হবে না। গাঢ় রঙের বাতির জায়গায় হালকা রং লাগান। আলোর প্রয়োজনে ব্যবহার করুন ল্যাম্পশেড, হিডেন লাইট অথবা স্পটলাইট।

এসবের পাশাপাশি কিছু দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে ঘরকে শীতল রাখতে :
* ঘরের আনুষঙ্গিক সজ্জায় পরিবর্তন আনুন গ্রীষ্মকালে। কাগজের ও তালপাতার পাখা, পাখির ঘর, ফলের পাত্র, রংবেরঙের পাথর, মার্বেল, ফুলদানিতে তাজাফুল ইত্যাদি দিয়ে সাজান।
* সূর্য ডোবার পর ঘরের জানালা দরজা খুলে দিন।
* একটি ছোট টেবিল ফ্যান থাকলে সেটাকে খোলা জানালার সামনে রেখে করে ছেড়ে রাখুন। এই টেবিল ফ্যান বাইরে থেকে ঠান্ডা বাতাস টেনে আনবে ঘরে। টেবিল ফ্যানটি চেষ্টা করুন কারুকাজ করা একটি সাইড টেবিলের ওপর রাখতে, এতে ঘরের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পাবে।
* শোবার ও বসার ঘর থেকে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমিয়ে গরমকালের মতো স্টোরঘরে রাখুন। এতে ঘরে বাতাস চলাচল থাকবে সচরাচর।
* ঘর যতোটা সম্ভব পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুন। দুপুর বেলা একবার এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একবার অবশ্যই ঘর বরফ ঠান্ডা পানি দিয়ে মুছতে হবে। এতে ঘরের তাপমাত্রা কমে যাবে অনেকাংশে।
* ঘরের মাঝে কয়েকটি জায়গায় বড় মাটির পাত্রে পানি রেখে তাতে কয়েকটি সুগন্ধি ফুল ছড়িয়ে দিলে ঘর ঠান্ডা থাকে, সাথে ভিন্ন কিছু যোগও হয় ঘরের সাজে। দিনে দুই-তিনবার পানি বদলে দিলে ভালো হয়।