বুধবার,২২ নভেম্বর ২০১৭
হোম / ভ্রমণ / গন্তব্য মিয়ানমার
০৫/০১/২০১৬

গন্তব্য মিয়ানমার

- আমিন

মিয়ানমার বা বার্মা, বাংলাদেশের সিমান্তের দক্ষিণ পূর্বে অবস্থিত একটি দেশ। পত্রপত্রিকায় নানাকারণে দেশটির নাম শুনে থাকবেন, তবে ট্র্যাভেল ডেস্টিনেশান হিসেবে হয়তো দেশটি এখনও আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করে নাই।
কিন্তু দেশটির বর্তমানে সরকার এবং সেখানকার মানুষ মিয়ানমারকে একটি আকর্ষণীয় টুরিস্টস্পট হিসেবে দেখতে চায় এবং কালক্রমে তাদের স্বপ্ন বাস্তবতার রূপ দেখছে। হাজার বছরের পুরনো রাজকীয়স্থাপনা কিংবা গহিন জঙ্গলের শান্তির নীরবতা- উপভোগ করতে চাইলে মিয়ানমার আপনার পরবর্তী ভ্রমণ গন্তব্য হতেই পারে।

ধারণা করা হয় আজ থেকে প্রায় ৩,০০০ বছর আগে বর্তমান মিয়ানমারের জায়গায় একটি মহারাজ্য গড়ে তোলে বৌদ্ধ ধর্মাবলীদের আরাকানগোষ্ঠী। সীমানায় বাংলাদেশ, চীন, ভারত, থাইল্যান্ড ইত্যাদি দেশের অবস্থানের কারণে এই এলাকায় দ্রুত সংস্কৃতি এবং সভ্যতার প্রয়াস ঘটে; যার ফলে বহু বছর ধরে এই এলাকাজুড়ে গড়ে উঠে বিস্ময়কর সব স্থাপনা এবং গুচ্ছগ্রাম। মানবজাতির আদিম সভ্যতার নিদর্শনগুলো আজও দৃশ্যমান মিয়ানমার রাষ্ট্রজুড়ে। তাছাড়া, ব্রিটিশ উপনিবেশ থাকাকালীন সময়য়েও এই অঞ্চলে নানা প্রতœতাত্ত্বিক স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। পর্যটক হয়ে এইসব স্থাপনা নিজ চোখে দেখার জন্য মিয়ানমারে পাড়ি দিতে হবে আপনাকে।

দেশটির মানুষ অমায়িক এবং বন্ধুসুলভ। তাদের দেশে বেড়াতে গেলে আপনাকে তারা প্রিয় অতিথির মতোই গ্রহণ করবে। শহরাঅঞ্চলে অনেকেই ইংরেজি ভাষায় পারদর্শী এবং সাইনবোর্ড-সিগনালেও দেখতে পাবেন ইংরেজি হরফ, তাই চলাফেরায় অসুবিধা হবে না। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যকার সময় দেশটি ঘুরে দেখার জন্য উত্তম।

কোথায় যাবেন?
জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেস্টিনেশান, যেমন রাঙ্গুন, মান্দালায়, ইনলে লেক এবং বাগান সর্বসাধারণ এবং বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত। এইসব জায়গায় অনায়াসে ঘুরে বেড়াতে পারবেন। তবে মারুক ইউ, কালেওয়া, পুতাও এবং কেংতুং-এর মতো কিছু গন্তব্য বিদেশিদের ভ্রমণের জন্য নয়। সেই সব এলাকায় জঙ্গিবাদ এবং ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর সন্ত্রাসী কর্মকা-ের জন্য মিয়ানমার সরকার বিদেশিদের চলাচল সীমিত রেখেছে। তাছাড়া, গাইডের সাহায্যে বাকি সব গন্তব্যে চলে যাবেন এবং নতুন কিছুর স্বাদ নিবেন অজানার মাঝে ঘুরেফিরে।

বাগান
বাগান মিয়ানমারের সর্বপ্রথম বার্মা রাজ্যের প্রাচীন রাজধানী এবং অন্যতম জনপ্রিয় টুরিস্ট ডেস্টিনেশান। এশিয়ার দক্ষিণপূর্বে অবস্থিত এই প্রাচীন রাজ্য, বিশ্বের বুকে এক অদ্বিতীয় মানবসভ্যতার নিদর্শন। রাজবংশের রাজপ্রাসাদ কিংবা আদি বার্মা রাজ্যের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি কাছ থেকে পরখ করে নিতে আপনার অবশ্যই বাগান ঘুরে আসতে হবে।

ইনলে লেক
ইনলে লেক শান রাজ্যে অবস্থিত এক অতিকায় জলের উৎস। সুউচ্চ পাহাড়গুচ্ছের পাদদেশে অবস্থিত এই লেককে স্থানীয়রা ‘স্বর্গের পথ’ বলে থাকে এলাকাটির অভাবনীয় সৌন্দর্যের জন্য। নীলাভ পানির মাঝে গড়ে উঠেছে বহু গুচ্ছগ্রাম যেখানে মাঝিরা বসবাস করে। প্রাকৃতিক অবস্থানের কারণে লেকের মধ্যে অগণিত জীববৈচিত্র্য তাদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র বানিয়ে নিয়েছে জায়গাটিকে।

এসব এলাকা ছাড়াও গাপালি-গুএসাউং বিচ, রাঙ্গুনের শুয়েডাগং বৌদ্ধ প্যাগোডা এবং কাইয়াইতিয় (সোনালী পাথর) মিয়ানমারে দেখার মতো স্থান। দেশটিতে বিগত বছরগুলোতে শিল্পকারখানা এবং শহরের বিস্তার কম হওয়ায় বিস্তৃত এলাকাজুড়ে প্রকৃতি এখনো সেই আগের রূপেই দাঁড়িয়ে আছে। সৃষ্টির গোঁড়ায় ফিরে যেতে চাইলে আপনাকে মিয়ানমারের প্রকৃতি নিজ চোখে পরখ করতে হবে।

বেচাকেনা
বিশ্বব্যাপী মিয়ানমারের পরিচিতি আছে তাদের মূল্যবান পাথরেরখনির জন্য। জেড পাথর, নীলকান্তমণি (ঝধঢ়ঢ়যরৎব) এবং রক্তচুনীর (জঁনু) মতো মূল্যবান পাথর সাশ্রয় দামে পাওয়া যায় মিয়ানমারে। তবে অফিসিয়াল দোকান বা সরকারি স্টল থেকে এগুলো ক্রয় করা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। এগুলো ছাড়াও, প্রাচীন অ্যান্টিক শোপিস কিনতে পাওয়া যায় বহু ট্রেডারের কাছে। পর্তুগিজ ফার্নিচার, প্রাচীন রাজ্যের সোনার মোহর এমনকি সোনা-পাথরে মোড়ানো ছুরিও কিনতে পাওয়া যায় স্ট্রীট মার্কেটে।

ধীরে ধীরে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণতির দিকে গেলেও, মিয়ানমার এখনো বেশ রক্ষণশীল একটি দেশ। তারা পর্যটকদের কাছ থেকে শালীন ব্যবহার এবং ধর্মীয় বিষয়ে সম্মান প্রদর্শন আশা করে থাকে। প্যাগোডা থেকে শুরু করে অনেক স্থানেই মানুষের জুতা খুলে প্রবেশ করতে হয়। এইসব বিষয় খেয়াল রাখলে স্থানীয়রা আপনাকে সাহায্য করবে অনেক ক্ষেত্রেই।
ভ্রমণপিপাসু মনোভাব থাকলে আপনার অবশ্যই মিয়ানমার ঘুরে আসা উচিত। এই উদীয়মান টুরিস্টস্পটে বহু অজানা গন্তব্য আছে যা হয়ত আপনি দেখে ফেলতে পারবেন অনেকের আগে যদি এখনই পাড়ি জমান সেই দেশে।

কীভাবে যাবেন?
বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রবেশের একমাত্র উপায় এখন আকাশপথ। কক্সবাজারের পাশ দিয়ে সীমান্ত রেখায় দুই দেশ মিললেও, সেখান দিয়ে যাওয়া-আসার ব্যাবস্থা এখনো হয়নি। তাই বাংলদেশ বিমান কিংবা অন্যান্য এইরলাইনে যাওয়া-আসার টিকেট পাবেন ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ হাজার টাকার মধ্যে। তার আগে আপনাকে মিয়ানমার অ্যামবেসি থেকে ভিসার সব কার্যক্রম সেরে যেতে হবে।

থাকাখাওয়া
মিয়ানমারে সিংহভাগ মানুষ বৌদ্ধধর্মের হওয়ার ফলে বেশিভাগ খাওয়াদাওয়া নিরামিষ শ্রেণির। তবে শহরগুলোতে মাছমাংস পাওয়া যায় সহজেই। তাছাড়া, হোটেল-মোটেলের সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই চলেছে। স্বল্পখরচে থাকাখাওয়ার ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন আপনি নিজেই।