শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ঘরোয়া উপায়ে ঘামাচি দূর
০৫/০১/২০১৬

ঘরোয়া উপায়ে ঘামাচি দূর

- শিল্পী সরকার

গ্রীষ্মের তাপদাহে পুড়ছে চারদিক। গরমে একেবারে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। আর এই গরমেই দেখা দেয় ঘামাচির উপদ্রব। শরীরের ঘামগ্রন্থিগুলোর মুখ ময়লা ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে আটকে শরীর থেকে যখন ঘাম বের হতে না পেরে আটকে যায়, তখনই দেখা দেয় ঘামাচি। তবে এমন কিছু ঘরোয়া উপাদান রয়েছে যার সঠিক ব্যবহারে আপনি সহজেই মুক্তি পেতে পারেন যন্ত্রণাদায়ক এই শারীরিক সমস্যা থেকে।

নিমপাতা
ঘামাচিতে নিমপাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহু বছর ধরে। নিমপাতায় রয়েছে অ্যান্টিসেপ্টিকের গুণাগুণ, যার ফলে চুলকানি ও ফোলাভাব দূর হয়।
*একমুঠো তাজা নিমপাতা বেটে ঘামাচির জায়গায় এই মিশ্রণটি লাগান। শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। শুকোলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে শুকনো তোয়ালে দিয়ে মুছে নিন। দিনে একবার করে, এক সপ্তাহ এই মিশ্রণটি ব্যবহার করুন।
*দুইকাপ পানিতে একমুঠো নিমপাতা ২০ মিনিট ধরে ফুটান। মিশ্রণটি ছেঁকে নিয়ে ঠান্ডা করুন। এবার এতে একটি নরম কাপড় ভিজিয়ে নিয়ে আক্রান্ত জায়গা দশ মিনিট ঢেকে রাখুন। দিনে চার থেকে পাঁচবার করে এক সপ্তাহ ধরে লাগান।
*১৫/২০টি নিমপাতার গুঁড়ো, আধাকাপ বেসন একটু পানিতে মিশিয়ে ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। আক্রান্ত জায়গায় ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। প্রতিদিন একবার করে এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।

চন্দনগুঁড়ো
*সমপরিমাণে চন্দনগুঁড়ো ও গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। মিশ্রণটি আক্রান্তজায়গায় লাগিয়ে শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে নিন। দিনে দুইবার করে এক সপ্তাহ এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।
* দুই চামচ চন্দনগুঁড়ো ও ধনেগুঁড়োর সাথে গোলাপজল মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। আক্রান্ত জায়গায় মিশ্রণটির প্রলেপ দিন। শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। ঘামাচির জায়গা সবসময় শুকনো রাখবেন। এই মিশ্রণটি সপ্তাহে দুদিন করে লাগান।
*এছাড়াও শুকনো চন্দনগুঁড়ো ঘামাচির জায়গায় ট্যালকম পাউডারের মতো ছড়িয়ে দিলেও আরাম পাবেন।

বেকিং সোডা
*এককাপ ঠান্ডা পানিতে এক চা-চামচ বেকিং সোডা মিশান। একটুকরো পরিষ্কার নরম কাপড় এই মিশ্রণে ডুবিয়ে নিন। মিশ্রণ থেকে তুলে অতিরিক্ত পানি নিংড়ে নিন। এবার কাপড়টি ঘামাচি আক্রান্ত জায়গায় দশ মিনিট চেপে ধরে রাখুন। দিনে চার থেকে পাঁচবার করে এই পদ্ধতি একসপ্তাহ অনুসরণ করুন।

মুলতানি মাটি
*পাঁচ টেবিল চামচ মুলতানি মাটি, দুই থেকে তিন টেবিল চামচ গোলাপজলের সাথে মিশান। ঘন মিশ্রণ তৈরি করুন। মিশ্রণটি আক্রান্ত জায়গায় লাগিয়ে শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এবার ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। দৈনিক একবার করে এক সপ্তাহ এই মিশ্রণটি লাগান। মুলতানি মাটির ওষধি গুণাগুণে ঘামাচির চুলকানি ও ফোলাভাব দুইয়ের হাত থেকেই মুক্তি পাবেন।

ওটমিল
*বাথটাব ভর্তি ঠান্ডা পানিতে এককাপ ওটমিলের গুঁড়ো মেশান। ভালোভাবে মেশাতে থাকুন যতক্ষণ পর্যন্ত না পানির রং দুধের মতো হয়ে যায়। সেই পানিতে শরীর ডুবিয়ে রাখুন বিশ থেকে ত্রিশ মিনিট। এবার পানি থেকে উঠে নরম তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত দুদিন এই পদ্ধতিতে শরীর ধুয়ে ফেলুন, ঘামাচির হাত থেকে শিগগিরই মুক্তি মিলবে।

শীতল কম্প্রেস
*পাতলা নরম কাপড়ে কিছু বরফের টুকরো জড়িয়ে নিয়ে ঘামাচি আক্রান্ত জায়গায় পাঁচ থেকে দশ মিনিট করে চেপে ধরে রাখুন। প্রতি চার থেকে ছয় ঘণ্টায় এই পদ্ধতিতে কোল্ড কম্প্রেস দিতে থাকুন দুদিন ধরে। ঘামাচি সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে না।
*এছাড়াও সুতি কাপড় ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে নিংড়ে নিন। আক্রান্ত জায়গায় দশ মিনিট চেপে ধরে রাখুন। দিনে তিন/চারবার করে এক সপ্তাহ এই পদ্ধতি অনুসরণ করুন।