বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / রাগ রাখুন নিয়ন্ত্রণে
০৫/০১/২০১৬

রাগ রাখুন নিয়ন্ত্রণে

- ইরা

মানুষের স্বভাবের মধ্যে রাগ অত্যন্ত সাধারণ প্রবৃত্তি। তবে কখনও কি মনে প্রশ্ন জেগেছে, কেন আমরা রাগান্বিত হই? এ প্রশ্নের সহজ উত্তরটি হতে পারে, যখন কোনো কিছু আমাদের মনমতো ও চাহিদামতো হয় না, তখনই আমাদের মধ্যে একটি বিপরীত প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় আর সেখান থেকেই রাগের সৃষ্টি।
যদি সবকিছু আমরা যেভাবে চাচ্ছি ঠিক সেভাবেই হতে থাকে তাহলে আর কোনো সমস্যা নেই, অর্থাৎ সেখান থেকে আর রাগ সৃষ্টির কোনো অবকাশ নেই।
সব রাগই যে খারাপ তা নয়। মানুষের কোনো অনুভূতিকেই পুরোপুরি ভালো বা খারাপ বলা যায় না। এটা পুরোপুরি নির্ভর করে মানুষ তার অনুভূতিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে আর এর ফলাফল কি হচ্ছে তার উপর। একটি নির্দিষ্ট অনুভূতির কারণে যদি অন্যদের ক্ষতির চাইতে মঙ্গল বেশি হয় তবে সেই অনুভূতি যতটা খারাপ মনে হয় ততটা খারাপ নাও হতে পারে। রাগের ক্ষেত্রেও এই কথাটি প্রযোজ্য। পৃথিবীর অসংখ্য বিপ্লব, বিদ্রোহ এবং মুক্তির সংগ্রামের পেছনে ছিল কারো ক্রোধ বা রাগ। অবিচার, দুর্নীতি, অন্যায়, হিংস্রতা, শোষণের বিরুদ্ধে রাগ ভালো। রাগ মানবজাতির বিকাশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। মানুষ যখন তার বর্তমান পরিস্থিতির উপর রাগান্বিত হবে, তখন সে তা পরিবর্তনের পদক্ষেপ নেবে এবং ক্রমবিকাশকে ত্বরান্বিত করবে।
ব্যক্তিগত জীবনে বেশিরভাগ রাগের কারণ অহংকার বা দম্ভ। নিজের সত্যিকারের পরিচয় না জেনে, শুধু শরীর ও মনই যে সবকিছু নয় তা অনুধাবন না করে রাগকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে ফেলে।
রাগের সময় ‘আসল আমিকে’ পাশে রেখে ওই রাগকেই সঠিক মনে হতে থাকে ওই মানসিক অবস্থায়, যা পুরোপুরি ভুল ধারণা। আর এ সময় নিজেকে সঠিক প্রমাণের লড়াইও চলে তীব্রভাবে। এ সবই মানুষের মানসিক একটি পরিস্থিতি।
কেউ অপমান করলে, কথা না শুনলে, বারবার বলার পরও নিজের কথাই চাপিয়ে দিলে, হেয় করলে অথবা অসম্মানজনক ব্যবহার করলে সাধারণত রাগের উদ্রেক হয়। অর্থাৎ মতের সঙ্গে মত না মিললেই মানসিক অবস্থার যে পরিবর্তন ঘটে তাকেই রাগ বলা চলে।
যদি অন্যের কারণে রাগ হয়, তাহলে বুঝতে হবো আমরা আমাদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ওই অন্য মানুষটির হাতে দিয়ে রেখেছি। আর এ কারণেই অনুভূতিগুলো তাদের কথা বা ব্যবহার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। সুতরাং নিজে আর নিজের কর্তা নই।
একটি বিষয়, আমরা সব সময় অন্যকে অধিকার করতে চাই, অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই অথবা অন্যের অনুভূতিগুলো নিজের দখলে রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু একটি বিষয় আমরা অনেকেই চিন্তা করি না, আর সেটা হলো আমাদের সকলেরই একটি মস্তিষ্ক আছে, যা দিয়ে আমরা চিন্তা করতে পারি এবং সিদ্ধান্ত নিতে পারি। তা পুরোপুরি নিজের জন্য। আমাদের চিন্তাশক্তি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আমাদের উপর। তাই আমাদের উচিত নিজের মনের কথা শুনে নিজের সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ করা।
কিন্তু এক্ষেত্রে যদি অন্য কেউ বারবার আমাদের বলতে থাকে আমাদের কি করা উচিত এবং কি উচিত নয়, সেক্ষেত্রে একটি দোটানা সৃষ্টি হবে। সেখান থেকে রাগও হতে পারে। তেমনি কখনও অন্যের উপরও অতিরিক্ত জোর খাটানো উচিত নয়।
মানুষের অনুভূতি অনেকটা সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো। কখনো তা উত্তাল ঢেউয়ের মতো কখনওবা শান্ত। তাই রাগ, ঘৃণা, ক্ষোভ, আসক্তি, হিংসা যেকোনো অনুভূতিই একটা সময় তুঙ্গে থাকলেও তা কখনও না কখনও শান্ত হয়ে যায়। তাই কোনো অনুভূতিকেই অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া উচিত নয়।
কোনো অনুভূতিকে বিশেষ পাত্তা না দিয়ে যদি উল্টো তা নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা যায়, তবে সেটাই বড় ধরনের কৃতিত্ব। কারণ ঢেউয়ের সঙ্গে গা এলিয়ে দিলে তা আপনাকে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে বহুদূর। তাই উত্তাল ঢেউয়ের সামনে শক্ত হয়ে টিকে থাকাটাই বড় বিষয়। ভেসে গেলে চলবে না।
ঢেউকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয় তবে কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে থেকে এর সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং শান্ত হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়। তাই যখনই রাগ ও ক্ষোভের মতো বিষয়গুলো মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে তখন সময় নিন। চেষ্টা করুন যেন অনুভূতিগুলো আসল আমিকে দূরে ঠেলে দিয়ে যেন প্রাধান্য বিস্তার করতে না পারে।