রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / বিনোদন / সেলিব্রিটি, সৌন্দর্য ও বডিশেমিং
০৫/০১/২০১৬

সেলিব্রিটি, সৌন্দর্য ও বডিশেমিং

- মো. রিদোয়ান

বছরের পর বছর ধরে সুন্দর শারীরিক গড়ন পেতে কত পদ্ধতি বা চিকিৎসার আবির্ভাব ঘটেছে। সুন্দর গড়নের নারীদেহ আধুনিক যুগের শোবিজ জগৎ অনেকটা শিল্পের মর্যাদা দিয়েছে। আকাশ সংস্কৃতির ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে টেলিভিশনের পর্দায় নারীকে দেখানো হয়েছে দেহ-সৌষ্ঠবের প্রতীক হিসেবে। নারীর সৌন্দর্য বাড়ানোর টোটকা হিসেবে এসেছে নানাপণ্য যা ব্যবহারে আদৌ কোনো সুফল মিলে কিনা সে প্রশ্নের জবাব আজো পরিষ্কার নয়। তবে সময়ের ক্রমবিবর্তনের সঙ্গে এসব বাহারি বিজ্ঞাপনের নেপথ্যের মিথ্যে আস্তে আস্তে সবার সামনে আসছে। তবে এক্ষেত্রে একের পর এক প্রশ্ন মনে আসতে পারে। নারীর সৌন্দর্য বলতে আসলে কী বোঝায়? তা কতটা জরুরি কিংবা তা নির্ণয়ের মানদ-ই বাকি? এ অবস্থায় বর্তমান সময়ের হলিউড কাঁপানো কয়েকজন অভিনেত্রী বডি শেমিং এবং সত্যিকারের সৌন্দর্য ইত্যাদি বিষয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেছেন।

‘টাইটানিক’ খ্যাত অভিনেত্রী কেট উইন্সলেটের মতে শারীরিকভাবে নিখুঁত হওয়ার চিন্তা বাদ দিয়ে নিজের চেহারা এবং শারীরিক গড়ন নিয়ে সন্তুষ্ট থাকাই ভালো। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন “পেশাদার জীবনে আমরা নিজেদের যেভাবে উপস্থাপন করি তা কখনোই পুরোপুরি বাস্তব নয়। বাস্তবে এমন পোশাক বা চালচলন খুব কম মানুষের মধ্যেই দেখা যায়।”

তবে নারীদের বিশেষ করে মিডিয়া জগতে যারা কাজ করেন তাদের এসব বিষয় নিয়ে প্রায়ই সন্দিহান থাকতে হয় বলে তিনি মনে করেন। “আমার অবচেতন মনের একটা অংশ সবসময়ই চিন্তা করে অন্য অভিনেত্রীদের থেকে আমাকে স্লিম দেখাচ্ছে কিনা। তবে জীবনে যখন আপনি লক্ষ্যগুলো অর্জন করে ফেলবেন এবং নিজের কাজের জন্য গর্ব অনুভব করবেন তখন এসব বিষয় নিয়ে চিন্তাটা মন থেকে সরিয়ে রেখে নিজের উপস্থিতি এবং ভাবমূর্তি নিয়ে স্বস্তি অনুভব করবেন। আমার মনে হয় না দুই সন্তানের জননী হিসেবে আমাকে খুব একটা খারাপ দেখায়। এক্ষেত্রে অন্য কোনো মডেল বা অভিনেত্রীদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করে চিন্তিত হওয়াটা মোটেও উচিত নয়।”

এ-সম্পর্কে অভিনেত্রী ড্রিউ ব্যারিমোরের একটি উক্তি না বললেই নয়- “আমার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এখনো ভালোভাবেই কাজ করছে। তাই আমার শরীরের গড়ন নিয়ে আমার কোনো অভিযোগই নেই।” মূলত অতিমাত্রায় শারীরিক সৌন্দর্য পিপাসুদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের উপর জোর দিয়েছেন ব্যারিমোর।
বিখ্যাত অভিনেত্রী এবং কমেডিয়ান মিন্ডি কেলিং একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমাকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, আমার আত্মবিশ্বাসের উৎস কি? হয়তোবা এ প্রশ্নের পেছনে উদ্দেশ্যটা ভালো, তবে আমার কাছে এটা অপমানজনকই মনে হয়। কারণ এই প্রশ্নের মানে বলতে আমি বুঝি- ‘মিন্ডি কেলিং, তোমার মধ্যে একজন অতি সাধারণ মানুষের সবধরনের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তুমি আকর্ষণীয় কিংবা সাদাবর্ণের নও, তুমি একজন নারী। কোনো বিশেষ কারণে তুমি মনে করো তুমি এসবের যোগ্য?

‘ম্যাডম্যান’ খ্যাত অভিনেত্রী ক্রিশ্চিনা হেন্ড্রিকস-এর মতে, “মডেলিং শুরু করার পর যখন আমি প্রথম ইতালি গিয়েছিলাম তখন প্রতিদিনই ক্যাপাচিনো খেতাম। এভাবে আমার ওজন ১৫ পাউন্ড বেড়ে গেল। তবে আয়নার দিকে তাকিয়ে নিজেকে দেখতে আমার বেশ ভালো লাগতো এবং নিজেকে পরিপূর্ণ নারী মনে হতো। নিজেকে সুন্দর লাগার কারণে আমি কখনো এই বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তা করিনি। যেমন ছিলাম তাতেই খুশি ছিলাম।” বাড়তি ওজন ঝেরে ফেলতে দিনরাত দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত নারীরা ক্রিশ্চিনার এই উক্তি অনুপ্রেরণা হিসেবে নিতে পারেন।
সেলেব্রেটি বো ডেরেক এক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যের অযাচিত মন্তব্য বা কটুবাক্য পাশ কাটিয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। ৫৮-তে পা রাখা ডেরেক নিজ দেহে প্লাস্টিক সার্জারি না করানোর জন্য যেমন প্রশংসিত হয়েছেন ঠিক একইভাবে একটা মহলের সমালোচনারও শিকার হয়েছেন। তাই অযাচিত সমালোচনা গায়ে না মেখে নিজের আয়নায় নিজেকে বিচার করাই শ্রেয়।

নামজাদা এসব অভিনেত্রী ও মডেলদের মন্তব্য বিশ্লেষণ করে এটা পরিষ্কার যে, আপনি দেখতে যেমনই হোন না কেন বা শারীরিক গড়ন যাই হোক না কেন, দিনশেষে কেউই নিখুঁত নয়। তাই শরীরের সৌন্দর্যের চেয়ে মনের শুদ্ধিই গুরুত্বপূর্ণ।