রবিবার,২০ অগাস্ট ২০১৭
হোম / অন্দর-বাগান / বৈশাখি ঘরসজ্জা
০৪/১৬/২০১৬

বৈশাখি ঘরসজ্জা

- নুসরাত ইসলাম

পহেলা বৈশাখ বাঙালির সার্বজনীন উৎসব, বাঙালির প্রানের উৎসব। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক নববর্ষ, অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখশান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদযাপিত হয়।

বৈশাখ মাসের প্রথম দিনে সমগ্র বাঙালি জাতি আনন্দঘন পরিবেশে নতুন বছরকে বরণ করতে শুধু নিজেকে নয়, বর্ণিল রঙে সাজিয়ে নেয় নিজ নীড়টিকেও। দিনটি সরকারি ছুটির দিন হওয়াতে অতিথি আগমনও থাকে কাক্সিক্ষত। শুধু অতিথির জন্যই নয়, অনেকেই এই দিনটিতে বাংলা ঐতিহ্যের আভরণে সাজিয়ে তুলতে পছন্দ করেন আপন গৃহকোণ। বৈশাখের আমেজে কিভাবে সাজাবেন আপনার ঘরদোর চলুন জেনে নেয়া যাক।

* শুরু করুন মূল দরজা থেকে। আপনার ফ্ল্যাটে ঢোকার প্রধান দরজার বাইরে সাদা ও লাল রঙের আলপনা করা কিছু বড় পাত্র বা ফুলদানি রাখুন। বৈশাখ মানেই সাদা ও লাল রঙের আধিপত্য। দরজার দুইপাশে ছোটো বড় বিভিন্ন আকারের ফুলদানিও সাজিয়ে রাখতে পারেন। এছাড়াও দুপাশে রাখা যেতে পারে তালের কিংবা কাপড়ের নকশা করা বাহারি হাতপাখা।

* ড্রয়িংরুমের সোফায় কিছু সাদা ও লাল রঙের কুশন রাখুন। পহেলা বৈশাখ মানেই যেহেতু লাল-সাদার খেলা তাই রং বাছাইয়ে প্রাধান্য দিন এই দুই রঙের। এতে ঘরে ঢোকার সাথে সাথে অতিথি ও পরিবারের সদস্যরা বৈশাখের আমেজ অনুভব করবে। এছাড়াও সবুজ, কমলা, নীল রঙও ব্যাবহার করতে পারেন। সোফায় পরিবর্তন আনতে চাইলে বেতের সোফা ব্যবহার করুন।

* বাংলা নববর্ষ মানেই বাংলা সংস্কৃতির ছোঁয়া আর তাই ঘর সাজান বাঙালি ইতিহাসের শৈল্পিক নিদর্শন দিয়ে। ড্রয়িংরুমের একপাশে বিছিয়ে দিন শতরঞ্জি বা শীতলপাটি আর এর উপরে ছড়িয়ে দিন নকশিকাঁথার ফোঁড়ের কাজ করা কুশন। দেশিয় আমেজ ফুটিয়ে তুলতে পাটি বা মাদুরটির চারপাশে রং-তুলির আঁচড় কাঁটা বা আলগা কাপড়ের টুকরা সেলাই করা যেতে পারে। বসার ঘরটিতে রং-বেরঙের পর্দা না ব্যবহার করে স্বচ্ছ একরঙা পর্দা লাগানোই শ্রেয়। এছাড়াও জানালায় লাগাতে পারেন চিকের পর্দা। গরম হাওয়া যেমন আটকাবে, তেমনি আনবে দেশিয় আমেজ।

* ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে দিন বিভিন্ন নকশার টেরাকোটা ও মুখোশ যা মনে করিয়ে দেবে চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রার কথা। চাইলে গ্রামবাংলার কিছু সুন্দর দৃশ্য দেয়ালে টঙিয়ে দিন। ঘরের এককোণে রাখুন মাটির গৃহসজ্জা উপকরণ। পাশাপাশি মাটির কিছু শোপিসও রাখুন ঘরের তাকে।

* খাবার ঘর সাজানো বৈশাখের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বৈশাখের উৎসবমুখরতা থাকে বাঙালি কায়দার ভুড়িভোজ-পান্তাভাত, ইলিশমাছ ও হরেকরকম ভর্তাকে ঘিরে। এসব খাবার পরিবেশনে মাটির তৈরি পাত্রের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়াও ব্যবহার করতে পারেন কাঁসার থালাবাসন। টেবিলের মাঝামাঝি রাখুন মাটির একটি ফুলদানি, যাতে থাকবে তাজা, সতেজ ফুল। খাবার টেবিলের ওপরের কাপড় (টেবিল ক্লথটি) নকশিকাথাঁর ফোঁড়ের অথবা পাটি বা বাঁশের হলে দেখাবে মানানসই।

* বিকেলের খাবার পরিবেশনের জন্য ভিন্ন আমেজ তৈরি করুন খাবার ঘরে। খই, মুড়ির মোয়া, চিড়ার মোয়া, নিমকি, নারকেলের নাড়ু, নকশি পিঠা জাতীয় খাবার খোলসাকৃতির মাটির পাত্রে সাজিয়ে দিন। নারকেলের খোসার ভিতরেই থাকুক নারকেলের পানি, ফলের আকৃতির জগে রাখতে পারেন লেবুর সরবত বা খাবার পানি। এছাড়াও রাখতে পারেন বাঁশের তৈরি গ্লাস-স্ট্যান্ড।

* শোবার ঘরের ক্ষেত্রে বিছানার সাজটিই মুখ্য। বিছানার চাদর ও বালিশের কভার উজ্জ্বল রং-এর হতে হবে এবং ঘরের পর্দা ও চাদরের রং এক হওয়া বাঞ্ছনীয়। জায়গা থাকলে দেশি ধারায় ঘর সাজাতে বিছানার উপরে মাঝামাঝি একটি শীতলপাটি বিছিয়ে দিন যার উপর ছড়িয়ে দিতে পারেন কিছু সুগন্ধি বা রঙিন ফুল ।

* এছাড়া বিভিন্ন লোকজ জিনিসপত্র যেমন মাটির পুতুল, গ্রামীণ হুঁকো, হাতে বানানো মুখোশ, ওয়ালম্যাট, বাঁশের তৈরি ফুলদানি, টেবিল ল্যাম্প, ঝাড়বাতি ইত্যাদি গৃহসজ্জার উপকরণ হিসেবে বাড়াবে ঘরের শোভা।

* আর যদি বেশি খরচ করতে না চান তবে নতুন জিনিস না কিনে আপনার সংগ্রহে থাকা দেশিয় জিনিসগুলোকেই একটু এদিক-সেদিক করে গুছিয়ে রেখে পয়লা বৈশাখে ঘর সাজানো যায়। এছাড়া কিছু বেলি ফুলের মালা রাখুন মাটি অথবা পিতলের পাত্রে। কিংবা কিছু তাজা দেশিয় ফুল - পলাশ, শিমুল, কৃষ্ণচূড়া, দোলনচাঁপা রাখুন ফুলদানিতে। আপনার গৃহকোণে আসবে চমৎকার দেশিয় আমেজ।

বাঙালির জীবনে বৈশাখ আসে নবজাগরণের বার্তা নিয়ে। তাই প্রতিটি ঘরে ঘরে চলে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আপনি আপনার ঘর সাজিয়ে তুলুন মনের মতো ।