বৃহস্পতিবার,২৩ নভেম্বর ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / স্নিগ্ধ সাজে বর্ষবরণ
০৪/১৬/২০১৬

স্নিগ্ধ সাজে বর্ষবরণ

- ইরা

বাংলা বছরের প্রথম দিনে চাই মনের মতো সাজ। কিন্তু তীব্র গরম আর ঘামের কথা ভেবে অনেকেই চিন্তিত থাকেন এই দিনের সাজপোশাক নিয়ে। কারণ সাজার পর যদি ঘেমেনেয়ে মেকআপ নষ্ট হয়ে যায় তাহলে তো সাজগোজের আনন্দটাই মাটি। সবদিক বিবেচনা করে তাই এদিনের সাজ হওয়া চাই হালকা ও স্নিগ্ধ।
এদিন প্রচ- রোদ ও গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে থাকে মানুষের ভিড়। তাই বলে কি আর নববর্ষের দিন সাজবেন না? অবশ্যই সাজবেন। তবে খেয়াল রাখবেন যেন গরমে ঘেমে মেকআপ নষ্ট হয়ে না যায়। গরমে ভারি ও জবরজং মেকআপ দেখতেও বেমানান লাগে। এছাড়া সাজগোজের সময় দিনের ও সন্ধ্যার মেকআপের পার্থক্যের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে।
দিনের সাজ
নববর্ষের সাজপোশাকে থাকে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। সকালে রোদ থাকায় সাজটা হতে হবে মিনিমাম। গাঢ় মেকআপ এ সময় একেবারেই বেমানান। আর গরমের কারণে মেকআপ ওয়াটারপ্রুফ হলে ভালো হয়, যেন ঘামে নষ্ট হয়ে না যায়।
মেকআপের শুরুতে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে চাইলে বরফ ঘষে নেওয়া যেতে পারে। এছাড়াও লাগাতে পারেন টোনার। এরপর অবশ্যই সানস্ক্রিন মেখে নিতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে প্রাইমার লাগিয়ে অল্প পরিমাণ ম্যাট ফাউন্ডেশন নিয়ে পুরো মুখে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। চোখের নিচের কালি ও মুখে দাগ থাকলে তা ঢেকে ফেলতে অল্প পরিমাণে কনসিলার লাগিয়ে ভেজা স্পঞ্জ বা ব্রাশ দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। কনসিলার অবশ্যই সেটিং পাউডার দিয়ে সেট করে নিতে হবে। খুব হালকা করে গালের দু’পাশে ও ডাবল চিন থাকলে থুতনির নিচে কন্টোরিং করে নিতে পারেন। সব শেষে ফেইস পাউডার বা সেটিং পাউডার পুরো মুখে বুলিয়ে ফাউন্ডেশন ভালোভাবে সেট করে নিবেন।
পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মানিয়ে আইশ্যাডো লাগিয়ে নিন। দিনের সাজে ম্যাট ও ন্যাচারাল রংয়ের শ্যাডো বেছে নেওয়া উচিত। আর লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শ্যাডোর প্রতিটি শেড ভালোভাবে ব্লেন্ড হয়ে যায়।
এদিনে টেনে মোটা করে কাজল বা আইলাইনার ব্যবহার করুন, বাঙালির রমণীয় রূপ ফুটে উঠবে সবচেয়ে বেশি। চোখের নিচেও খানিকটা আইশ্যাডো ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিতে পারেন। স্মোকি লুক পাবেন।
সবশেষে হালকা মাসকারা পাপড়িতে বুলিয়ে চোখের সাজ শেষ করুন। ওয়াটারপ্রুফ মাসকারা ও আইলাইনার ব্যবহার করতে ভুলবেন না।
লিপস্টিক লাগানোর আগে প্রথমে একই রংয়ের লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট সুন্দর করে এঁকে নিয়ে লিপস্টিক দিয়ে ভরাট করে নিতে হবে। ম্যাট লিপস্টিকই দিনের সাজে ভালো লাগবে। আর চোখে গাঢ় মেকআপ হলে ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক দিতে হবে। আর গাঢ় লিপস্টিক পছন্দ করলে চোখের সাজ হতে হবে হালকা।
চুলের স্টাইল নির্ভর করবে পোশাকের ওপর। শাড়ির সঙ্গে পুরো চুল একপাশে রেখে খোঁপা করে তাতে বেলিফুলের মালা জড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে। যাদের লম্বা চুল তারা লম্বা বেণি করে বেলি ফুলের মালা পেঁচিয়ে নিতে পারেন। ছোট চুলে ক্লিপ দিয়ে চুল আটকিয়ে ফুল লাগাতে পারেন।
সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে চুল স্ট্রেইট বা কার্ল করে ছেড়ে রাখা যেতে পারে। আবার চাইলে খোঁপা, বেণি বা পনিটেইল ইত্যাদি স্টাইলও করা যেতে পারে। সঙ্গে অবশ্যই যোগ করা যায় ফুল বা ফুলের মালা।
কপালে বড় টিপ, হাত ভর্তি কাঁচের চুড়ি, গলায় পুঁতির মালা, অক্সিডাইজড বা মুক্তার গয়না আর পায়ে হালকা পায়েল পরলেই আপনার বৈশাখি সাজ পাবে পূর্ণতা।
সন্ধ্যার সাজ
সন্ধ্যার সাজে বেইজ মেকআপ দিনের থেকে একটু ভারি করা যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত কিছু নয়। কারণ সন্ধ্যায়ও আবহাওয়া গরম থাকে এবং ভিড়ও থাকে বেশি।
চোখে নীল, সবুজ, মেরুন, বাদামি, কালো ইত্যাদি রংয়ের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে পারেন। আর সন্ধ্যার সাজে শিমারি শ্যাডোও বেশ মানানসই। তবে চোখের সাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখেই ঠোঁট রাঙাতে হবে। তবে সন্ধ্যায় কিছুটা গাঢ় লিপস্টিক ভালো মানায়।
সন্ধ্যার সাজে গালে ব্লাশঅন এবং হাইলাইটার ব্যবহার করতে পারেন মনমতো।
সাজ ও পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে অলঙ্কার বেছে নিন। চুলের স্টাইলও করতে হবে পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে এবং সেইসাথে আরামদায়ক।
দিন এবং সন্ধ্যা যেকোনো সময়ের মেকআপের ক্ষেত্রে সব শেষে ত্বকে ছিটিয়ে নিতে পারেন সেটিং স্প্রে। এতে মেকআপ দীর্ঘস্থায়ী হবে।
আর ঘর থেকে বের হবার আগে ব্যাগে ফেইস পাউডার, টিস্যু পেপার, লিপস্টিক, কাজল ইত্যাদি ভরে নিতে ভুলবেন না। সঙ্গে রাখবেন চিরুনি। চুল ছেড়ে বের হলে অবশ্যই ক্লিপ বা ব্যান্ড নিয়ে নেবেন সঙ্গে। সব পরিপাটি করে গুছিয়ে আয়নায় শেষবারের মতো নিজেকে দেখে, সাজে দিন ফিনিশিং টাচ। তারপর বেরিয়ে পরুন প্রিয়জনের সঙ্গে নববর্ষ উদ্যাপনে।