বুধবার,২৩ অগাস্ট ২০১৭
হোম / রূপসৌন্দর্য / সাজে বাঙালিয়ানা
০৪/১৬/২০১৬

সাজে বাঙালিয়ানা

- অদ্বিতী

এক প্যাঁচে লাল পাড় সাদা শাড়ি, কপালে লাল টিপ, খোঁপায় গোঁজা বেলীফুলের মালা, হাতভর্তি কাঁচের চুড়ি আর পা রাঙানো আলতায়। চোখের সামনে কি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্পের কোনো নায়িকার ছবি ভেসে উঠলো? এ সাধারণ অনুষঙ্গগুলোই নারীর সাজে ফুটিয়ে তুলতে পারে অপরূপ বাঙালিয়ানা।
আসছে পহেলা বৈশাখ, বাঙালির সার্বজনীন আনন্দ উৎসব। কোনো ধর্ম বা বর্ণ নয় বরং পুরো বাঙালি জাতির উৎসব এটি। আর এ দিনকে উদযাপন করতে ও নতুন বছরকে বরণ করে নিতে আয়োজনের অন্ত নেই। নানা অনুষ্ঠান আর মেলার মধ্য দিয়ে চলে বর্ষবরণ। আর তাই বাঙালির এই উৎসবে সাজেও চাই ষোলআনা বাঙালিয়ানা।
বাঙালি সাজের অন্যতম অনুষঙ্গ টিপ। শাড়ি বা সালোয়ার-কামিজ, যেকোনোটির সঙ্গে কপালে একটি টিপ চেহারার পুরো ধরনই পাল্টে দিতে পারে। কালো, লাল বা পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে টিপ পরা যেতে পারে। এছাড়াও পড়তে পারেন হাতে আঁকা টিপ। আপনার সাজে আনবে অন্যরকম রূপ। কপাল বড় হলে বড় গোল টিপ অথবা লম্বাটে টিপ পরলে ভালো মানায়। আর ছোট কপালের ক্ষেত্রে মাঝারি এবং ছোট টিপই ভালো লাগে। এর পাশাপাশি খেয়াল রাখতে হবে মুখের গঠনের সঙ্গে মানিয়ে টিপ পরা। বাঙালি সাজে গোল ও লম্বাটে টিপই বেশি ভালো লাগে।

টিপের পরই যে অনুষঙ্গটির নাম মাথায় আসে সেটি হলো কাঁচের চুড়ি। শাড়ির সঙ্গে হাতে রিনিঝিনি কাচের চুড়ি না থাকলে তো সাজে পূর্ণতাই আসে না। বৈশাখে লাল সাদা রং-এর চুড়িই বেশি পরা হয়, তবে সবুজ, আকাশ নীল ও অন্যান্য রংবেরেংয়ের চুড়িও দেখতে বেশ লাগে।
শাড়ির সঙ্গে হাতভর্তি কাচের চুড়ি যেন এক কথায় অবিচ্ছেদ্য। তবে কামিজের সাথেও কাচের চুড়ি মন্দ নয়। পোশাকের রঙের সাথে মিলিয়ে হাতে একমুঠো চুড়িই যথেষ্ট। চারুকলা, শাহবাগ মোড়, টিএসটি চত্বর, নিউমার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট ইত্যাদি বিভিন্ন জায়গায় বেশ কমদামে কিনতে পারবেন কাচের চুড়ি।
এবার আসা যাক, খোঁপার ফুলের কথায়। সাজে আলাদা স্নিগ্ধতা যোগ করে খোঁপায় একগুচ্ছ ফুল। তীব্র গরমে বৈশাখি সাজ হওয়া চাই আরামদায়ক আর স্নিগ্ধ। তাই খোঁপা বা বেণিতে গুঁজে নিতে পারেন একগুচ্ছো সাদা বেলীফুল বা গাজরা। চাইলে খোপার এক পাশে গোলাপ, জারভেরা বা গ্লাডিওলাস ফুলও গুঁজে নিতে পারেন। তবে সাজে বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে সাদা বেলি ফুলের মালা অনবদ্য।
এবার আসা যাক আলতায়। গ্রামের মেয়ের আলতারাঙা পা, বাঙালি সাজে এই লাল টুকটুকে রংয়ের অবস্থান বুঝিয়ে দিতে যথেষ্ট। পায়ের আঙুলে আর আর চারপাশে আলতা মেখে নিতে পারেন। হাতেও অনেকে আলতা মাখেন কিন্তু এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, আলতা আলগা রং তাই হাত ঘেমে বা পানি লেগে গেলে রং উঠে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং শাড়িতে লেগে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে আলতার বদলে মেহেদীও লাগিয়ে নিতে পারেন। সুন্দর নকশা করে বৈশাখের এক-দু’দিন আগে মেহেদী লাগিয়ে নিলে রং ভালো ফুটে উঠবে।
সব শেষে শাড়ি বা কামিজ যাই পরুন না কেন, বৈশাখের প্রথম দিনটিতে চেষ্টা করুন বাঙালি ধাঁচে নিজেকে সাজাতে। কারণ দেশিয় উৎসবে দেশি সাজেই লাগে অনবদ্য।