শুক্রবার,২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮
হোম / ফ্যাশন / বৈশাখি ফ্যাশনে নতুন আমেজ
০৪/১৬/২০১৬

বৈশাখি ফ্যাশনে নতুন আমেজ

- আঁখি

এখন আর লাল-সাদায় সীমাবদ্ধ নেই বৈশাখ। আবার নতুন বছর বরণে যে শুধু শাড়িই পরতে হবে এই চিন্তাধারাও বদলে গিয়েছে। সময় ও যুগের সঙ্গে বর্ষবরণের ফ্যাশনেও এসেছে পরিবর্তন।
কেউ হয়ত একেবারে ভিন্ন রঙের পোশাক পরে কপালের টিপ হাতের চুড়িতে রাখছেন লাল। কিংবা খোঁপায় সাদাফুল গুঁজেই বর্ষবরণ করছেন কেউ কেউ। সাজ যাই হোক তা যেন মানানসই এবং আরামদায়ক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
বৈশাখের দিনটিতে রোদ ও গরম দু’টোর প্রকোপই থাকে বেশি, তাই পোশাক হওয়া চাই আরামদায়ক। যেন দীর্ঘসময় বাইরে ঘোরাঘুরি করলেও অস্বস্তি না লাগে।

বাঙালিয়ানা ফুটিয়ে তুলতে শাড়ির কোনো তুলনা নেই। যেকোন বয়সি মেয়েদের বর্ষবরণের পোশাক বাছাইয়ে শাড়ির প্রাধান্যই থাকে বেশি। তবে হালফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আবার অনেকেই সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, কুর্তা, স্কার্ট-টপস ইত্যাদি পোশাক বেছে নিচ্ছে। গরমে দীর্ঘ সময় বাইরে কাটানোর ক্ষেত্রে যে পোশাকে আপনি স্বাচ্ছন্দ্য তাই বেছে নিন।
দেশিয় ফ্যাশন হাউজগুলো বৈশাখের আয়োজন নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই পশরা সাজিয়ে বসেছে। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, কুর্তা, পাঞ্জাবি সব ধরনের দেশিয় পোশাক পাওয়া যাবে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজগুলোর আয়োজনে।
এবার আসা যাক রংয়ের ক্ষেত্রে। লাল-সাদা বৈশাখ বরণের রং। কিন্তু এখন এর পাশাপাশি নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা ইত্যাদি রংগুলোও প্রাধান্য পাচ্ছে নববর্ষের আয়োজনে। তবে খর গ্রীষ্মে হালকা রংগুলোরই চাহিদা বেশি।
গরমের কারণে পোশাকের কাপড় বাছাইয়েও নজর দিতে হবে। গরমে স্বস্তি পেতে সব থেকে আরামদায়ক সুতি কাপড়। এর পাশাপাশি লিলেন, নরম জর্জেট বা সিল্ক কাপড়ও পরা যেতে পারে। এড়িয়ে চলতে হবে মোটা যেকোনো কাপড়। মোটা ও খসখসে জর্জেট, ভারি সিল্ক বা কাতান, সাটিন ইত্যাদি কাপড় এড়িয়ে চলাই ভালো। নতুন বছরের উৎসব উদ্যাপনে দীর্ঘ সময় ঘরের বাইরে কাটাতে হয়। এ সময় ভারি কাপড়ের পোশাকে ও তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পরতে পারেন।

শুধু মেয়েরাই তো বৈশাখ বরণ করবে না ছেলেদের জন্যও রয়েছে বৈশাখি আয়োজন। পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট ইত্যাদি পোশাক নিয়ে বৈশাখি পশরা সাজিয়েছে দেশিয় ফ্যাশন হাউজগুলো।
ছেলেদের পোশাকের ক্ষেত্রে লাল, মেরুন, বিভিন্ন ধরনের নীল ইত্যাদি রং সব থেকে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। বাটিক, ব্লক, হ্যান্ডপেইন্ট ইত্যাদি বৈশাখি পোশাকে বরাবরই জনপ্রিয়। আর বাঙালি সাজ ফুটিয়ে তুলতে এই মাধ্যমগুলো বেশ গ্রহণযোগ্য। এছাড়া সুতার কাজ, অ্যাপলিক, প্রিন্ট ইত্যাদি তো আছেই।
এই দিনটিতে পোশাকের মতো পায়ের জুতা জোড়াও আরামদায়ক হওয়া উচিত। কারণ এ দিনে অনেকটা পথ হাঁটতে হয়। তাই পেন্সিল হিল বা বেশি উঁচু ও শক্ত জুতা না পরাই ভালো। আর হিল পরতে চাইলেও প্ল্যাটফর্ম হিল বেছে নেওয়া যেতে পারে। এতে হাঁটাহাঁটির কারণে পায়ের গোড়ালিতে চাপ কম পরবে। তবে সব থেকে ভালো নরম এবং নিচু স্যান্ডেল বেছে নেওয়া।
এবার আসা যাক পরিবারের ক্ষুদে সদস্যের পোশাকের কথায়। বড়দের সাথে সাথে তারাও বেরিয়ে পড়বে বর্ষবরণে। তাই তাদের জন্য বেছে নিতে হবে মানানসই পোশাক।
ফ্যাশন হাউজগুলোর বৈশাখি কালেকশনে ছোট্ট সোনাদের জন্যও পাবেন নানা পোশাকের সম্ভার। মেয়েদের জন্য পাবেন শাড়ি-সেট, সালোয়ার-কামিজ, স্কার্ট-টপ, পালাজ্জো, ফ্রক। আর ছেলেদের জন্য রয়েছে পাঞ্জাবি, ফতুয়া, শার্ট, টি-শার্ট। খেয়াল রাখবেন পোশাক যেন হয় আরামদায়ক, ঢিলেঢালা।
সারাদিনের জন্য বের হলে সঙ্গে ছাতা এবং এক বোতল পানি অবশ্যই সঙ্গে নেবেন। আরও নেবেন সানগ্ল­াস ও টিস্যু পেপারের প্যাকেট। গরমে এই অনুষঙ্গগুলো সঙ্গে রাখা জরুরি।
পোশাক পরে, বৈশাখি সাজে সবাই তৈরি? তবে বেরিয়ে পড়ুন নববর্ষের আনন্দ উদ্যাপনে।