মঙ্গলবার,২২ অক্টোবর ২০১৯
হোম / ফিচার / বাড়িতে অফিসের কাজ
০৯/০১/২০১৯

বাড়িতে অফিসের কাজ

ওয়ার্কিং ওম্যান

- হাবিবা আক্তার রিমু

ভোর হলেই কর্মজীবী নারী, পুরুষের ব্যস্ততা শুরু হয়ে যায় যার যার কর্মস্থলে যাওয়ার জন্যে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অফিসে থেকেই প্রত্যহিক কাজগুলো শেষ করতে হয়। কিন্তু অনেক সময়ই দেখা যায় কাজের প্রচুর চাপ থাকার কারণে অফিসের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ স€úন্ন করা যায় না। ফলে বাধ্য হয়েই অনেকটা অফিসের কাজ বাসায় নিয়ে আসতে হয়। তাছাড়া বর্তমান সময়ে ফ্রিল্যান্সিং জনপ্রিয় হওয়ায়, বাড়িতে বসেই অনেকে বাইরের দেশের বিভিন্ন অফিসের কাজ করে থাকেন। বাড়িতে অফিসের কাজ করার ক্ষেত্রে সুবিধা এবং অসুবিধা উভয়ই দেখা দেয়। তবে নারী কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে বাড়িতে বসে অফিসের কাজ বেশ উপকারী এবং সুবিধাজনক। আজকে তাই এই প্রবন্ধে বাড়িতে বসে কাজ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুবিধা, অসুবিধা এবং কীভাবে বিভিন্ন সমস্যা এড়িয়ে বাসায় বসেই অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা যায় সেই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

সুবিধা

বাড়িতে বসে অফিসে কাজ করার ক্ষেত্রে প্রধান সুবিধা হচ্ছে, যাতায়ত খরচ বেঁচে যায় এবং প্রতিদিনকার দীর্ঘ যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হয় না। বরং যানজট এবং আসাযাওয়ার সময়টুকু বেঁচে যাওয়ায় এই সময়ে অফিসের বাড়তি কাজগুলোও সম্পন্ন করা যায়।
বাড়িতে কাজ করার ক্ষেত্রে ধরাবাঁধা কোনো সময় থাকে না। ফলে ঘরের প্রয়োজনীয় কাজ করেও অফিসের কাজ বেশ আরাম করেই সম্পন্ন করা যায়।


বাসায় কাজ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিজের ব্যক্তিগত স্থানে রেখে কাজ করা যায়। এতে ফাইল হারাবার ভয় থাকে না এবং কাজের সময়ও বেশ চাপমুক্ত থাকা যায়। বাসায় নিজের পছন্দমতো জায়গায় বসে কাজ করা যায়, যা ব্যক্তিকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য দান করে। এতে কাজের উপর ভালো প্রভাব পড়ে।
অনেক সময় অফিসে একনাগাড়ে কাজ করতে করতে আলসেমি চলে আসে বিধায় কাজের গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে বাড়িতে অফিসের কাজ করলে তা বেশ দ্রুতই স€úন্ন করা হয়। কারণ পরিবারের সবার সাথে সময় কাটানোর, একসাথে দুপুর ও রাতের খাবার খাওয়ার লক্ষ্যে অনেকেই বেশ দ্রুততার সাথেই কাজ স€úন্ন করে থাকেন।
নারী কর্মজীবীদের জন্য বাসায় বসে অফিসের কাজ করা বেশি লাভজনক। কারণ অফিসে কাজ করার সময় তাদের বাসায় ফেরার তাড়া, রান্নার তাড়া, বাচ্চার চিন্তা লেগেই থাকে। বাড়িতে অফিসের কাজ করলে ঘর সামলানো, বাচ্চার দেখাশোনা সহজ হয়।

অসুবিধা

অফিসগুলোতে কাজ করার পরিবেশ তৈরি করা হয়, যেটা বাসায় পাওয়া যায় না। ফলে অনেক সময়ই দেখা যায় যে, বাসায় বসে কাজ করার ক্ষেত্রে মনোযোগের ঘাটতি দেখা দেয়। এতে কার কাজ খারাপ হয়।
বাড়িতে যদি বাড়তি অফিসের কাজ আনা হয় তাহলে পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো আর হয়ে উঠে না। এতে পরিবারের সদস্যদের সাথে দূরত্ব বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে মনোমালিন্যেরও সৃষ্টি হয়।
যাদের বাসায় শিশু রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে বাড়িতে কাজের সময় পরিপূর্ণ মনোযোগ দেওয়া স€¢বপর হয় না। এতে হিতে বিপরীত হয়। কাজ ভালো এবং দ্রুত হওয়ার পরিবর্তে খারাপ আর বিলম্বিত হয়।
অফিসে কাজ করার ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা বেশ শক্তিশালী হয় এবং প্রয়োজনীয় ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হয়। বাসায় বসে কাজ করার ক্ষেত্রে এসব সুবিধা পাওয়া যায় না।

অফিসে কাজ করার সময় কোনো কাজে সমস্যা হলে আশপাশের কলিগদের সহায়তা নিয়ে সমস্যা সমাধান করা যায়। বাসায় কাজ করলে যে-কোনো সমস্যা নিজেকেই সমাধান করতে হয়।

সমস্যা এড়াতে করণীয়

বাসায় অফিসের কাজ আনলে প্রথমেই অফিসের কাজ এবং বাসার কাজের সময় ভাগ করে নেওয়া উচিত। এতে করে সব কাজই ভালোভাবে সম্পন্ন করা হবে।
বাসায় ছোটো শিশু থাকলে বা স্কুলপড়ুয়া বাচ্চা থাকলে তাদের সামনে বসে কাজ না করাই ভালো। বরং শিশুকে ঘুম পাড়িয়ে বা তার স্কুলের সময়টাতে কাজ সম্পন্ন করা উচিত। এতে করে শিশুদের সাথে বেশি সময় কাটানো যাবে, যা তদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
পরিবারকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া প্রত্যেকে মানুষেরই গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। তাই দুপুর খাবার সময়, বিকেলের নাশতার সময় কিংবা রাতের খাবার সময়টুকু কাজ না রাখাই ভালো। বরং এই সময়টুকু পরিবারের সাথে কাটালে মন বেশ সতেজ থাকবে এবং কাজেও মনোযোগ দেওয়া যাবে।

কাজের ক্ষেত্রে ভালো খারাপ লেগেই থাকে। কাজ ভালো হলে যেমন জুটে যায় বসের প্রশংসা তেমনি কাজ খারাপ হলে গঞ্জনাটুকুও সহ্য করে নিতে হয়। কিন্তু কখনোই অফিসের রাগ বা চাপটুকু পরিবারের কারো উপর যেন না ঝাড়া হয় সেদিক সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এতে করে সদস্যদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় না।

প্রত্যেকটি অফিসেরই নিজস্ব কিছু নিয়ম, রীতি এবং বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অফিস গড়েই তোলা হয়েছে কাজ করার নিমিত্তে। ফলে সেখানে কাজ করার প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা হয় এবং নানাধরনের সুবিধা প্রদান করা হয়। ফলে, অফিসে কাজ করলে কিছু সুবিধা পাওয়া যায় যা বাড়িতে পাওয়া যায় না আবার বাড়িতে কাজ করলে কিছু সুবিধা পাওয়া যায়, যা অফিসে পাওয়া যায় না। ফলে কাজ যেখানেই করা হোক না কেন সেখানকার সুবিধা এবং অসুবিধাটুকু বেশ ইতিবাচকভাবে নিতে হবে। সাধারণত অফিসের কাজ অফিসের নির্ধারিতে সময়ের মধ্যে শেষ করাই ভালো। তাও যদি অফিসের কাজ বাড়িতে নিয়ে করতে হয় বা ফ্রিল্যান্সিং এর মতো কাজটাই যদি বাড়িতে বসে করতে হয় সেক্ষেত্রে উপরোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি একটু বিশেষভাবে নজর দেয়া যেতে পারে।