মঙ্গলবার,২২ অক্টোবর ২০১৯
হোম / ফ্যাশন / গরমে স্লিভলেস
১০/০৭/২০১৯

গরমে স্লিভলেস

ফ্যাশন

-

৬০ কিংবা ৭০ দশকের মতো দেদারসে স্লি¬ভলেস গায়ে না জড়ালেও একটু স্বস্তি ও আরামের জন্য আজকের আধুনিক নারীরা বেছে নিচ্ছেন স্লি¬ভলেস পোশাক। স্লিভলেসের পূর্ণাঙ্গ গল্প নিয়ে আমাদের এবারের আয়োজন।

বছরজুড়ে স্লি¬ভলেস পোশাকের আনাগোনা লক্ষ্য না করা গেলেও গরমের মৌসুমেই যেন এর কদর খানিকটা বেড়ে যায়। স্লিভলেস শর্ট, সেমি শর্ট-কামিজ, হাইনেক, রাউন্ড কিংবা ভি গলার স্লিভলেস ব¬াউজ, লং স্কার্ট বা জিন্সের সঙ্গে স্লিভলেস টপ এখন হরহামেশাই পরছেন নারীরা। পার্টি কিংবা অফিসেই নয়, এখন ভার্সিটিতেও সমানতালে স্লিভলেস পরছেন কেউ কেউ।

গরমের সময় স্লি¬ভলেস পোশাক দিতে পারে স্বস্তি। সাধারণভাবে এই পোশাকে বাহু উন্মুক্ত থাকে। পোশাকে আর্মহোল থাকায় তা ভেন্টিলেশনের কাজ করে। তাই গরম অনেকটাই কম লাগে, ঘেমে ওঠার অস্বস্তি থেকেও বাঁচা যায়। তবে আমাদের দেশে এর ব্যবহার কম। কারণ, স্লিভলেস পোশাক পরার মতো সামাজিক পরিবেশ তৈরি হয়নি এখনো। তবে অভিজাত এলাকাগুলোয় এর প্রচলন রয়েছে।

একসময় মা-খালারা স্লিভলেস ব¬াউজ বা ম্যাক্সি পরতেন গরম থেকে রেহাই পেতে। শিশুদের পোশাকে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্লিভলেসের ব্যবহার। আমাদের দেশে এ পোশাকের মধ্যে বড়োদের জন্য স্লিভলেস ব্লাউজ, স্লিভলেস সালোয়ার-কামিজের প্রচলন বেশি। এছাড়া স্লিভলেস টপসও দেখা যায়। অভিজাত শ্রেণির মধ্যে স্লিভলেস পার্টি ড্রেসের ব্যবহার কম নয়। একসময় গরমে স্বস্তির জন্য ব্যবহৃত হলেও হাল ফ্যাশনে অনেকটাই জায়গা করে নিয়েছ এটি।

ফ্যাশনসচেতন অনেকেই এই সময়ে স্বস্তি আর স্টাইল বিবেচনায় এ ধরনের পোশাককেই বেছে নেন। স্লিভলেস অ্যালাইন টিউনিক একসময় আন্ডার-গার্মেন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ধীরে-ধীরে এটি স্লিভলেস কামিজে রূপান্তরিত হয়ে স্বতন্ত্র একটি পোশাকে পরিণত হয়েছে। ফলে শিশু থেকে তরুণী, এমনকি মধ্যবয়েসি নারীরও আজকাল পরিধেয় হয়ে উঠেছে স্লিভলেস কামিজ। তবে এ ক্ষেত্রে তরুণীরাই নিজেদের স্টাইলিশ লুকের জন্য স্লিভলেস সালোয়ার-কামিজসহ টপস বেশি ব্যবহার করেন। একসময় অভিজাত পরিবারের নারীরা স্লিভলেস ব¬াউজ ব্যবহার করতেন, সে সময় আভিজাত্য, রুচি, ব্যক্তিত্ব ও সাহস সবটারই প্রয়োজন ছিল। যদিও আজকাল শাড়ির সঙ্গে অনেকেই স্লিভলেস ব্লাউজ পরে থাকেন।

অনেকেই গরমের সময় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে পোশাক বাছাই নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েন। কারণ, একদিকে পার্টি অন্যদিকে গরম। এ অবস্থায় সব পোশাক মানানসই ও আরামদায়ক নয়। ফলে স্বস্তিকর কোনো শাড়ির সঙ্গে বেছে নিতে হয় ভিন্ন রঙের স্লিভলেস ব্লাউজ , যা পুরো লুককেই করে তোলে স্টাইলিশ ও আধুনিক। যারা শাড়ি পরেন না বা পরতে চান না, তারা সহজেই বেছে নিতে পারেন স্লিভলেস সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি বা টপস। তবে পোশাকটি হওয়া চাই মার্জিত ও দ্বিধাহীনভাবে পরার যোগ্য।

নির্দিষ্ট এক শ্রেণির ক্রেতার কথা মাথায় রেখে দেশের ছোট-বড়ো ফ্যাশন হাউস ও বুটিকগুলো তাদের গ্রীষ্মকালীন কালেকশনে স্লিভলেস পোশাক ডিজাইন করে থাকে। সেখান থেকে বেছে নেওয়া যায় নিজের পছন্দ অনুযায়ী পোশাক।
স্লিভলেস কাটের ভেরিয়েশন বেশি নেই, তবে মূল পোশাকটির নকশায় অনন্যতা থাকলেই চলে। আমাদের দেশে সাধারণ কাটের স্লিভলেস কামিজের প্রচলন বেশি। এর বাইরে স্লিভলেস টপস বা ব্লাউজে দেখা যায় বেশ কিছু ধরন। যেমন আছে হলটার টপস, স্প্যাগেটি টপস, ক্যামিসোল টপস, টিউব টপস, কাটঅফ টপস ইত্যাদি। যদিও এগুলোর সবই পার্টিতে ব্যবহারের জন্যই। নানা নেকলাইনের স্লিভলেস একসময় মা-খালারা স্লিভলেস ব¬াউজ বা ম্যাক্সি পরতেন গরম থেকে রেহাই পেতে। শিশুদের পোশাকে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় স্লিভলেসের ব্যবহার। আমাদের দেশে এ পোশাকের মধ্যে বড়োদের জন্য স্লিভলেস ব্লাউজ, স্লিভলেস সালোয়ার-কামিজের প্রচলন বেশি। এছাড়া স্লিভলেস টপসও দেখা যায়। অভিজাত শ্রেণির মধ্যে স্লিভলেস পার্টি ড্রেসের ব্যবহার কম নয়।

স্লিভলেস পোশাকে আর্মহোলের কাটিংয়ে পরিবর্তন হলেও আমাদের দেশে সাধারণ কাটটাই বেশি। কিছু ক্ষেত্রে কাঁধ থেকে আর্মহোলের কোনো কাটিং হয় না। ফলে তা দেখতে ক্যাপ স্লিভের মতো। অনেকের কাছে স্লিভলেসের পরিবর্তে ক্যাপ স্লিভের মতো কাটই প্রিয়। তবে আর্মহোলের কাট যেমনই হোক, নেকলাইনের পরিবর্তনে বদলে যায় এই পোশাকের লুক। স্লিভলেস কামিজের কাঁধ চওড়া থাকলেও ব্লাউজের ক্ষেত্রে তা কম থাকে। নেকলাইন কখনো ডিপ, কখনো ওঠানো বা কখনো কলারযুক্ত থাকে।

স্লিভলেস কামিজে অনেক সময়ই আর্মহোলে পাইপিং, বিভিন্ন ধরনের কাজ বা লেসের ব্যবহার দেখা যায়। তবে স্লিভলেস পোশাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আর্মহোলের কাট, যা হওয়া উচিত পরিধানকারীর শরীরের আর্মহোলের মাপমতো। আর্মহোলের কাট ঠিক না হলে দৃষ্টিকটু লাগে। তাই যে-কোনো পোশাকের চেয়ে স্লিভলেস পোশাক নির্বাচনে বেশি সতর্কতা প্রয়োজন। সবচেয়ে ভালো, যদি পরিধানকারীর নিজের শরীরের মাপ দিয়ে পোশাকটি তৈরি করিয়ে নেওয়া হয়। যারা কনফিডেন্টলি স্লিভলেস পোশাক পরতে পারেন, নিজেদের রুচি অনুযায়ী তারা যে-কোনো ধরনের পোশাকই পরতে পারেন। কিন্তু যারা স্লিভলেস পরে অভ্যস্ত নন কিন্তু আগ্রহী, তারাও এটি পরতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে স্টাইল নিয়ে খুব বেশি না ভেবে সাধারণ যে-কোনো স্লিভলেস কামিজ বা ব্লাউজ পরতে পারেন। কলারসহ ছোট গলার পোশাকই তাদের পরা উচিত। তাতে শুধু বাহু উন্মুক্ত থাকলেও শরীরের অন্য অংশ ঢাকা থাকায় অস্বস্তি কম লাগে।

তবে পোশাকটি যেমনই হোক, তা হতে হবে পরিধানকারীর ব্যক্তিত্ব ও শারীরিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সব হাতে স্লিভলেস পোশাক মানায় না। লম্বা, মেদহীন, লোমহীন হাতের অধিকারী যে কেউ পরতে পারে এ পোশাক। যাদের হাত মোটা, কাঁধ বেশি চওড়া তাদের স্লিভলেস না পরাই ভালো। সব শারীরিক কাঠামোতেই যেমন এই পোশাক মানায় না, তেমনি সব জায়গা বা সব অনুষ্ঠানেও পরা উচিত নয়। নিজের মানানসই ফ্যাশনটিও তো বুঝতে হবে!



-নবনিতা নব
ছবি : ইয়াং কে ও সেইলর