মঙ্গলবার,২২ অক্টোবর ২০১৯
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / বলতে পারছি না, সইতেও পারছি না
১০/০৫/২০১৯

বলতে পারছি না, সইতেও পারছি না

মেন্টাল হেলথ

-

বুকের ভেতর হাজার হাজার শব্দ জমে থাকে। আবেগ নামের অবুঝ শিশু সেই শব্দগুলোকে নিয়ে খেলে খেলে অনেকগুলো বাক্য বানিয়ে ফেলে। তারপর সেই বাক্যগুলো গলায় এসে আটকে থাকে। প্রিয় মানুষটা চোখের সামনে আসে, চোখের সামনে থেকে চলে যায়। গলায় আটকে থাকা কথাগুলো ঝিম মেরে বসে থাকে। কাঁপতে থাকা ঠোঁটগুলো অপেক্ষা করে। বাক্যগুলো গলার ব্যারিকেড পার হয়ে কিছুতেই বের হতে পারে না!! এর চেয়েও তীব্র যন্ত্রণা হলো ‘কথা খুঁজে না পাওয়া’ প্রিয় মানুষটাকে অনেক কিছুই বলতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু কথাগুলো কোথায় যেন লুকিয়ে থাকে। পাগলের মতো মাথার ভেতরটায়, বুকের ভেতরের প্রতি ইঞ্চি জায়গায় ইতিউতি করে খুঁজতে হয়। কথারা তবু নিখোঁজ!! সব কথাগুলো আড়ালে লুকিয়ে যায়। শুধু ‘কেমন আছো?’ আর ‘কি করো’ লুকাতে পারে না। ঐ দুটোই খুঁজে পাওয়া যায় শুধু। ঐ দুটোই ছুঁড়ে দিতে হয় প্রতিদিন!! বলতে না পারা কথাগুলো খুব কষ্ট দেয়। আর খুঁজে না পাওয়া কথাগুলো একদম অসহায় করে দেয়। অসহায় নামক অনুভূতিটা বড়ো যন্ত্রণার। এমন সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য আমাদের এই আয়োজন।

ভাবছেন কি দিয়ে শুরু করবেন

আপনি কথা বলতে ভয় পাচ্ছেন। অথবা লজ্জা পাচ্ছেন। কাজ করছে সংকোচ এবং দ্বিধা। ভাবছেন কি দিয়ে শুরু করবেন অথবা কি বলে কথা চালিয়ে যাবেন। প্রথমেই কুশল বিনিময় করুন, এটি একটি সাধারণ ভদ্রতা। এই সারা পৃথিবীর সকল স্থান, কাল ও পাত্র অনুযায়ী একই হয়। কোন মানুষের সাথে প্রথম দেখা কিংবা পরিচিতির প্রথম ধাপই হচ্ছে কুশল বিনিময়। তবে চেষ্টা করবেন মৃদু হাসি বিনিময় করতে।

চোখে চোখ রেখে কথা বলুন

মানুষকে আপন করে নিতে এখানেই মানুষ ভুলটা বেশি করে। ধরুন আপনি কারো উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলছেন। তখন অপর পাশের ব্যক্তি মোবাইল টিপছে বা অন্যদিকে তাকিয়ে আছে, কেমন লাগবে আপনার? আশাকরি তাতে আপনি ভালো বোধ করবেন না। ঠিক তেমনি যখন কেউ আপনার সাথে কথা বলবে, আপনি তার চোখের দিকে তাকিয়ে কথাগুলো শুনুন। এতে আপনি যে তার কথা মনোযোগ সহকারে শুনছেন, সেটা সে পছন্দ করবে।

ঝুঁকে বসুন

মানুষকে আপন করে নেওয়ার এটি একটি অন্যতম কৌশল। যখন বসে অন্য কোন ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন তখন হেলান দিবেন না। অথবা কোনোদিকে কাঁত হয়ে বসবেন না। একদম সোজা হয়ে একটু তার দিকে ঝুঁকে বসুন। মানে মাথাটা একটু এগিয়ে দিন। তাতে ওই ব্যক্তি মনে করবে আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে সহজেই আপনাকে সে আপন ভেবে কথা বলবে।

কথার উত্তর দিন

মানুষকে আপন করে নেওয়ার আরেকটি কৌশল হচ্ছে কথা কম বলুন আর শুনুন বেশি। তবে রোবটের মতো কথা শুধু শুনেই যাবেন না। মাঝে মাঝে কথার মাঝখানে হ্যাঁ, হু, ও আচ্ছা, তাই! এরকম কিছু শব্দ ব্যবহার করুন। এর মানে আপনি যে তার সাথে কথাগুলো শেয়ার করছেন, সেটা মিন করে। তবে খেয়াল রাখবেন, হ্যাঁ, হু, ও আচ্ছা, তাই! এগুলো যেন প্রতিশব্দের সাথে সাথে না বলেন। তাহলে ব্যাপারটা মেকি হয়ে যাবে। সিচ্যুয়েশন বুঝে কথার উত্তর দিবেন।
আমি, আমার এই শব্দগুলো পরিহার করুন
মানুষকে আপন করে নেওয়ার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এটা। মানুষ মানুষকে অপছন্দ করার সবথেকে বেশি কারণ হচ্ছে এটা। ধরুন, আপনি কারো সাথে দেখা করতে গিয়ে খালি নিজের কথা বলেই যাচ্ছেন।
সংকোচ কাটিয়ে সত্যের মুখোমুখি হওয়া বা নির্দ্বিধায় সত্য বলার যোগ্যতা বা সাহস নিজের আত্মবিশ্বাসের উপর নির্ভর করে। নিজেকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলুন ভাবুন আপনার জায়গা থেকে আপনি সঠিক পথেই হাঁটছেন।



- নবনীতা নব
মডেল : লাবণ্য
ছবি তানভীর আহমেদ