মঙ্গলবার,২২ অক্টোবর ২০১৯
হোম / ভ্রমণ / হিউএনসাংয়ের ভাসুবিহার
১০/০৬/২০১৯

হিউএনসাংয়ের ভাসুবিহার

- আমিনুল ইসলাম হিরু, বগুড়া অফিস

প্রখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউএনসাংয়ের পরিদর্শনকৃত বগুড়ার ভাসুবিহার হতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন স্পট। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাসুবিহার নির্জন এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশের অন্যান্য পর্যটন স্পটের মতো এর পরিচিতি নেই।
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে গতবছর নভে€^র মাসে এখানে দুই দিনব্যাপী দেশের বৃহৎ ’প্রত্ননটক’ মঞ্চস্থ হয়। অনেকটাই ৫৭ একর আয়তনের ভাসুবিহার বর্তমানে অরক্ষিত রয়েছে। এর চার পাশে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, বিদ্যুৎ ও পানির ব্যবস্থা, খাবার হোটেল, সৌন্দর্য বর্ধনে ফুলের বাগান সৃষ্টি, পিকনিক সেড, রেস্ট হাউজ, শৌচাগার নির্মাণ ও পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হলে এখানে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন বেড়ে যাবে। এদিকে ভাসুবিহারের একমাইল পশ্চিমে রয়েছে শ্রংসান দীঘি। ৩শ’ বিঘা আয়তনের বৃক্ষশোভিত, ছায়াঘেরা এই দীঘির দৃশ্যও অপরূপ। এলাকাবাসীর দাবি ভাসুবিহারের সঙ্গে ওই দীঘির সংযোগ সড়ক তৈরি করা হলে ভাসুবিহার ঘুরতে আসা পর্যটকরা সহজেই ওই দীঘির পাড়ও ঘুরতে পারবে।

ফলে পর্যটন স্পট হিসেবে ভাসুবিহারের গুরুত্ব আরোও বেড়ে যাবে।
মহাস্থানগড় থেকে চার মাইল উত্তর পশ্চিমে এবং বৌদ্ধবিহার থেকে এক মাইল উত্তরে ভাসুবিহার বা বিশ্ববিহার অবস্থিত। ভাসুবিহার স্থানীয়দের কাছে নরপতির ধাপ নামেও পরিচিত। স€্রাট হর্ষবর্ধনের রাজত্বকালে ৬৩৮ সালে চীনা পরিব্রাজক হিউএনসাং এই বিহার পরিদর্শনে আসেন। তিনি এই বিহারে ৩ মাস অবস্থান করেন বলে ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত। ভাসুবিহার একটি সুউচ্চ দ্বিতল, ত্রিতল অথবা চারতল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। এখানে সাত শতাধিক বৌদ্ধপ-িত আবাসিক হোস্টেলে অবস্থান করে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম ১৮৭৯-৮০ সালে ভাসুবিহার পরিদর্শন করেন। তিনি এই বিহারকে হিউএনসাং বর্ণিত স্থান হিসেবে চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করেন।

এগারো শতকে শৈবধর্মীদের উত্থানের ফলে বৌদ্ধদের প্রতি তাদের ঘৃণা, অবজ্ঞা ও শত্রুতায় বৌদ্ধরা ধর্মহীন সমাজে পরিণত হয়। ফলে ভাসুবিহারের চাতলাতলা প্রাসাদটি পরিত্যক্ত হয়। দুর্বল পালরাজাদের অনেকে রাজত্ব ছেড়ে শেষ জীবনে এখানে সেবক হিসেবে বসবাস করতে থাকেন। সেজন্য এই বিহারের নাম হয় নরপতির ধাপ। সময়ের করাল গ্রাসে পালবংশ বিনাশপ্রাপ্ত হলে পতিত অবস্থায় বিহারটি ধীরে ধীরে ধবংসপ্রাপ্ত হয়। ১৯৭৩-৭৪ সালে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত বিহারটি প্রথমবারের মতো খনন করা হয়।

খননের পর এখানে দশ শতকের দুটি আয়তাকার প্রাসাদ দেবালয়ের ভিত্তিমূল ও দুটি মন্দিরের ভিত্তিমূল আবিষ্কৃত হয়। বিভিন্ন সময়ে ভাসুবিহার ধাপ খনন করে এখানে সাতশতাধিক প্রত্ন নিদর্শন পাওয়া যায়। এ-ব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলার বিহার ইউনিয়ন পরিষদের চেযারম্যান মফিজুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভাসুবিহার খুবই অবহেলিত। অপার সম্ভাবনাময় ভাসুবিহারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলে এটি দেশের অন্যতম পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে উঠবে। প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা বলেন, বাউন্ডারি ওয়ালসহ অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক টাকার প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের বাজেট সীমিত। তাই পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন করা হবে। বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহামদ বলেন, পর্যটন অঞ্চলের উন্নয়নে প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সকল সমস্যার সমাধান হবে।