মঙ্গলবার,২২ অক্টোবর ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / ছবি আপলোডে সতর্কতা
১০/০৩/২০১৯

ছবি আপলোডে সতর্কতা

সোশ্যাল মিডিয়া

-

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক৷ একটি গবেষণায় দেখা গেছে গড়ে সাড়ে তিন ঘণ্টা একজন মানুষ সামাজিক মাধ্যমে যুক্ত থাকছে। এবং এই সময়টুকুতে শেয়ার করছে নানারকম তথ্য ও ছবি৷

আমাদের শেয়ার করা ছবির মধ্যে নিয়মিত বিভিন্ন ছবির পাশাপাশি ইনবক্সে সংবেদনশীল ছবি আদানপ্রদানের ঘটনাও ঘটে থাকে। আবেগের বশবর্তী হয়ে ইনবক্সে দেওয়া সংবেদনশীল ছবির কারণে পরবর্তীসমং ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে দেখা যায় অনেক ইউজারকেই। এছাড়া নিজেদের পাসপোর্ট, ভিসা, ন্যাশনাল আইডি ও স্মার্টকার্ড-এর ছবি আপ্লোডের মাধ্যমে ঝুঁকির মধ্যে নিজেদের আইডিটিকেও ফেলে দেন অনেকেই।

আবার অনেকেই বিভিন্ন জাতীয় ইস্যু বা পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ছবি প্রচার করেন, যা অনেক সময়ই বিকৃত বা এডিট করে একটি মহল নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ভাইরাল করে থাকে। এই ধরনের ছবি গণমাধ্যমগুলোতে ক্রস চেক না করে শেয়ার করলে অনেক ক্ষেত্রেই সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে যাবার ও আশঙ্কা থাকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি শেয়ার এর ক্ষেত্রে যে সকল বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে -

১- আবেগের বশবর্তী হয়ে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল ছবি যা পরবর্তীকালে আপনার স্বাভাবিক জীবনযাপনের অন্তরায় হতে পারে এমন ছবি আদানপ্রদান করা থেকে বিরত থাকুন।
২- সম্পর্ক থাকা অবস্থায় স্বাভাবিক নিয়মেই অনেকে নুডস আদানপ্রদান করে থাকেন, যা পরবর্তীসময় ব্ল্যাকমেইলের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। তাই যে-কোনো অবস্থায় নুডস আদানপ্রদানে বিরত থাকুন।
৩- আপনার ব্যক্তিগত পাসপোর্ট এবং ভিসার ইনফরমেশন ও ছবি কোনো অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপ্লোড করবেন না।
৪- ন্যাশনাল আইডি কার্ড এবং স্মার্ট কার্ড পেয়েই আমরা অনেকে ফেসবুকসহ অনেক সামাজিক মাধ্যমে আপ্লোড করে দেই। যা আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট থেকে শুরু করে ব্যাংক একাউন্ট পর্যন্ত কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঝুঁকিতে ফেলে দেয়।

৫- গুগল বা ইন্টারনেট থেকে নামিয়ে ছবি ব্যবহার করা সব ক্ষেত্রে নিরাপদ নয়।

৬- জাতীয় পর্যায়ের নানা ইস্যুতে আমরা অন্যের অনেক ছবি প্রতিবাদ বা তথ্য শেয়ারের অংশ হিসেবে নিজেরা আপ্লোড করি বা শেয়ার করি। এই ধরনের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রাখতে হবে যে, যেই ছবি আমরা আপ্লোড ও শেয়ার করছি তাহ সামাজিক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা সৃষ্টির কারণ হচ্ছে কিনা। সেই ক্ষেত্রে এই ধরনের ছবি আপ্লোড ও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

৭- অনেক সময় নানা কুচক্রীমহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে তাদের স্বার্থ চরিতার্থ করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার। তারা নানাসময় নানাধরনের গুজব এবং মিথ্যা ছবি ভাইরাল করার মাধ্যমে এই কাজটি করে থাকে। আর সাধারণ জনগণের আবেগকে ব্যবহার করে নানাধরনের অর্ধসত্য, বিকৃত এবং পুরোনো ছবিকে নতুন বলে সহিংসতা ও অস্থিরতা সৃষ্টির প্ররোচনা প্রদান করে। এই ধরনের ছবিতে বিশ্বাস ও শেয়ার করার আগে দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোর সাথে সত্যতা ক্রসচেক করে নেওয়া জরুরি।

৮- ব্যক্তিগত জীবনের ছবি এবং অফিসিয়াল ছবিগুলো আলাদাভাবে আপ্লোড করতে পারেন। সেইক্ষত্রে যদি অফিসিয়াল কলিগদের সাথে পারিবারিক ছবি শেয়ার করতে না চান তবে, ছবি আপ্লোডের সময় সেটিংস থেকে তা করতে পারবেন।

৯- হাই রেজুলেশনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপ্লোড করে অনেকেই অনেক সময় বলেছেন তা বিজনেস উপলক্ষে অনেকে নিয়ে গেছে তাদের অনুমতি ব্যতীত। সেক্ষেত্রে নিজের ছবিতে যা প্রফেশনাল উপলক্ষে কেউ ব্যবহার করতে পারে এমন আশঙ্কা থাকলে ওয়াটারমার্ক বা নিজের নাম/লোগো ব্যবহার করবেন। যারা প্রফেশনাল ছবি তুলেন তারা ছবি আপ্লোড করে তার ওয়েবসাইট লিংক যুক্ত করে দিতে পারেন বেটার ভিউয়ের জন্য।

১০- যদি আপনার ছবি কেউ আপনার অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করে/ছবি বিকৃত করে অনুমতি ব্যতীত বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার ও প্রচার করে/সংবেদনশীল ছবি ছড়িয়ে দেবার হুমকি দেয়। সেই ক্ষেত্রে যত দ্রুত স€¢ব নিকটস্থ থানাকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় সাহায্য নিতে হবে।

যে-কোনো জরুরি পুলিশ ও জরুরি সাইবার ক্রাইম সেবার জন্য কল করতে পারবেন, জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯-এ। এটি টোল ফ্রি।


-জেনিফার আলম
প্রেসিডেন্ট, ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন (ক্রাফ), ট্রেইনার, জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯