মঙ্গলবার,২২ অক্টোবর ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / ঘুম ভালো যার দিন ভালো তার
১০/০৪/২০১৯

ঘুম ভালো যার দিন ভালো তার

অভ্যাস

- ইফতিয়াজ নুর নিশান

মানসিক ও শারীরিক প্রশান্তিতে ঘুমের বিকল্প নেই, মানবজীবনে ঘুম একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। নিয়মমাফিক ঘুম কর্মচাঞ্চল্য এনে দিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। বেশি ঘুমানো যেমন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ঠিক তেমনি কম ঘুম হওয়াও ব্যাঘাত ঘটায় আপনার প্রাত্যহিক জীবনযাপনকে। ঘুমের পরিপূর্ণতা এনে দিতে পারে সুন্দর একটি কর্মমুখর দিন, আর তাই সুন্দর পরিবেশে নিয়মানুযায়ী ঘুমানোর অভ্যাস করা গুরুত্বপূর্ণ কর্মজীবী থেকে শুরু করে সবার জন্য।

বয়সসাপেক্ষে দৈনন্দিন ঘুমানোর সময়কাল

মানুষের বয়স অনুযায়ী ঘুমের চাহিদা একেক রকম, শৈশব, তারুণ্য ও বার্ধক্যভেদে। রাতের বেলাই হলো ঘুমানো সুন্দর এবং উপযুক্ত সময়। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের স€প্রতি সময়ের একটি প্রতিবেদন বলছে, ৬ থেকে ৯ বছর বয়েসি শিশুদের দৈনিক ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা ও বয়ঃসন্ধিকাল তথা টিনেজারদের দৈনিক কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়েসিদের দৈনিক ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি, তবে এই বয়সসীমার অনেকের ক্ষেত্রে নিয়মিত ৬ ঘণ্টা ঘুমও সুন্দর জীবনযাপনের ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। ৬৫ বছরের উর্ধ্বে দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।
তৃপ্তিদায়ক ঘুমের জন্য করণীয়-

প্রথমেই প্রয়োজন দৈনিক ঘুমানোর রুটিন তৈরি করা। সময়মতো ঘুম, প্রাণচাঞ্চল্যের অনেক বড় নিয়ামক। আমাদের শরীরে আছে নিজস্ব ঘড়ি, যা নিয়ন্ত্রণ করে আমাদের ঘুমানো ও জেগে ওঠার প্রক্রিয়াকে। এই ঘড়ি কার্যত তখনি অনেক ভালো কাজ করে যদি রুটিন মাফিক নিয়মিত ঘুম হয়।

দ্বিতীয়ত, আপনার ঘুমানোর স্থান তথা শোবার ঘর হতে হবে নিরিবিলি ও শীতল পরিবেশের=। রুমের তাপমাত্রা সহনীয় হলে ও পর্যাপ্ত আলো বাতাস থাকলে নিশ্চিত হবে নিবিড় ঘুম।

তৃতীয়ত, নিয়মিত ব্যায়াম করা। আরামদায়ক ঘুমের জন্য নিজেকে সর্বদা সতেজ রাখতে শারীরিক কসরত তথা ব্যায়াম করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঘুমের আগে কখনোই ব্যায়াম নয়, ব্যায়াম করার উপযোগী সময় সকাল এবং বিকাল বেলা। নিয়মিত ব্যায়াম করলে সুন্দর ঘুম হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ থাকবে আপনার শরীর ও মন।

চতুর্থত, নিজেকে দূরে রাখুন ক্যাফেইন ও এলকোহল থেকে। অতিমাত্রায় চা-কফি ও মদ্যপান স্বাস্থ্যের ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি নষ্ট করে দেয় আপনার ঘুমানোর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে। এছাড়াও এলইডি তথা যান্ত্রিক বাতির ব্যবহার কমিয়ে আনুন। মোবাইল, টিভি, ল্যাপটপের আলো বাধাগ্রস্ত করে ঘুমের হরমোন মেলানটোনিনকে নিঃসৃত হতে।
সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে নিয়মিত শান্তিদায়ক ঘুম নিশ্চিত করে উপভোগ করুন আপনার দিনগুলো। কারণ, ঘুম ভালো যার! দিন ভালো তার