বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / গাইনি চিকিৎসকের কাছে যা লুকাতে নেই
০৭/২১/২০১৯

গাইনি চিকিৎসকের কাছে যা লুকাতে নেই

-

আগে যেখানে অনেক মেয়েলি রোগের ব্যাপারে ধারণাই ছিল না, আজ সেখানে অধিকাংশ নারী সচেতন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, অনেক ক্ষেত্রেই নারীরা ভুল চিকিৎসার স€§ুখীন হোন তাদের ভুল তথ্য (হিস্ট্রি) দেওয়ার জন্য। এমনকি অনেক সময় ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে তথ্য লুকানোর জন্যও নানাহয়রানির শিকার হতে হয় রোগী ও চিকিৎসক দুজনকেই। তাই আজ আমরা জানব এমন কিছু বিষয়, যা কখনোই লুকানো যাবে না গাইনি চিকিৎসকের থেকে। কারণ চিকিৎসক আপনার দেওয়া তথ্য, বর্ণনা, আর পরীক্ষানিরীক্ষার উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা দেন। তাই এখানে ছোট থেকে বড় সব ধরনের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জেনে নেওয়া যাক বিস্তারিত।

গাইনি চিকিৎসকের কাছে যা লুকাতে নেই

যৌনজীবন


অনেকেই লজ্জাজনিত কারণে, নিজের ব্যাপারে অনেক তথ্য লুকিয়ে যান। যেমন : সমকামিতা, একাধিক পার্টনারের সাথে যৌনআচরণ, অনিরাপদ যৌনমিলন, অবৈধ সম্পর্ক ইত্যাদি। এসব তথ্য আমরা খুব একটা আমলে না নিলেও একজন চিকিৎসকের জন্য এসব তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসব থেকে পরবর্তীসময় এইডস, গনোরিয়া, সিফিলিস, যোনীপথে যে-কোনো ইনফেকশনজনিত রোগ ইত্যাদি নানবিধ সমস্যার সূচনা। তাই একান্ত গোপনে হলেও চিকিৎসককে এসব ব্যাপারে জানাতে হবে।

মাসিকের যা-কিছু

এটা গাইনি চিকিৎসকের কাছে বলার মতো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। একজন নারীর মাসিক নিয়মিত কিনা, মাসিকে রঙের পরিমাণ কেমন যাচ্ছে, রং কি, মাসিকের দিনকাল, মাসিকের সময়সীমা, মাসিকের সময়কালীন জটিলতা ইত্যাদি তথ্যাদি একজন চিকিৎসককে জানাতে হবে। তাহলে চিকিৎসকের জন্য আপনার যে-কোনো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা দেওয়া সহজ হবে।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি

আপনি বিবাহিত/অবিবাহিত যাই হোন না কেন, কখনোই চিকিৎসকের থেকে লুকাবেন না যে, আপনি কি ব্যবহার করছেন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসাবে। এতে আপনার পরিবার পরিকল্পনা থেকে শুরু করে যে-কোনো চিকিৎসা সেবা প্রদান চিকিৎসের জন্য সহজ হবে।

ওষুধ ব্যবহারবিধি ও রোগের বিবরণ

যেকোন রোগের জন্য আপনি নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে পারেন। যেমন- উচ্চরক্তচাপ, থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবেটিস ইত্যাদি নানাবিধ রোগে হয়তো আপনি কোনো ওষুধ নিয়মিত সেবন করছেন। অবশ্যই চিকিৎসককে আপনার উক্ত রোগের ব্যাপারে জানাতে হবে ও কি ওষুধ খাচ্ছেন তা উল্লেখ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, “চিকিৎসক আপনার বেস্ট ফ্রেন্ড। বেস্ট ফ্রেন্ডের মতো তার সাথে সব শেয়ার করতে হবে। এতে যেমন আপনি ভালো চিকিৎসা পাবেন, তেমনি একজন চিকিৎসকের জন্যও সহজ হবে আপনার যাবতীয় ব্যাপার জানা ও সে অনুযায়ী সেবা দেয়া।”

অপারেশনের বিবরণ

বিয়ের আগে অবৈধভাবে গর্ভবতী হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। যদি কখনো এমন কিছুর সম্মুখীনও আপনি হয়ে থাকেন তবে অবশ্যই তা চিকিৎসককে জানাবেন। শুধু তাই নয়, আপনার সন্তান কয়জন, কিভাবে হয়েছে (সিজার নাকি নরমাল ডেলিভারি), আপনার পূর্বে কোনো অপারেশন হয়েছে নাকি ইত্যাদি বিষয়ও চিকিৎসককে জানাতে ভুলবেন না।

পারিবারিক বিবরণী

কিছু রোগ আছে, যা পরিবার থেকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হওয়ার স€¢াবনা বেশি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, স্তনক্যান্সার, জরায়ু ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ ইত্যাদি পরিবারের বাবা-মা অথবা রক্ত স€úর্কের কারও থাকলে, তা সন্তানদেরও হতে পারে। তাই অবশ্যই এসব তথ্য খোলাখুলিভাবে চিকিৎসককে জানাবেন। তাহলে আপনি ঝুঁকিগ্রস্ত কিনা তাও বুঝতে পারলেন, সাথে প্রয়োজনীয় সাবধানতাও অবলম্বন করতে পারেন, যাতে ঐ রোগটি আপনার না হয়। সামান্য সচেতনতা, বিচক্ষণতা ও সাবধানতা পারে একটি সুস্থ জীবন উপহার দিতে।

তো জানা হয়ে গেল, “কিছু ব্যাপার যা চিকিৎসকের কাছে গেলে একদমই লুকানো যাবে না। রোগী হিসাবে আপনার যেমন দায়িত্ব ভালো চিকিৎসা সেবা পাওয়ার। তেমনি চিকিৎসকেরও অধিকার আপনার কাছ থেকে সর্বাত্মক সাহায্য সহযোগিতা পাওয়ার। এতে করে আপনাকে ভালো চিকিৎসা সেবা দেওয়াও সহজ হবে। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সময় এসেছে আজ স্মার্ট নারী হওয়ার। নারী যে নিজে সচেতন, অন্যকে করে তোলে সচেতন।


--আয়েশা আলম প্রান্তি
ইন্টার্ন চিকিৎসক, হলি ফ্যামিলি রেড
ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল