বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / অনলাইন আসক্তি
০৭/২১/২০১৯

অনলাইন আসক্তি

মাদকের পরিবর্তিত সংস্করণ হচ্ছে না তো?

-

ইন্টারনেট ব্যবহারকারী তরুণ প্রজন্মের অর্ধেকই সবচাইতে বেশি ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়া। আর সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারে ছেলেমেয়েদের আসক্তি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেকটা মাদকের পরিবর্তিত সংস্করণ হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো এবং ইন্টারনেটের অকারণে অতিমাত্রায় আসক্তি এটি অনেকেই বলে থাকেন।
বাংলাদেশে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ মানুষের রয়েছে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। ১৩-১৭ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্য ৬০ শতাংশের বেশি অন্তত একটি সামাজিক যোগাযোগ প্রোফাইল রয়েছে। তারা দিনে দু’ঘণ্টার বেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যয় করে।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ৭০ শতাংশ মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংযুক্ত রয়েছে। তরুণদের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ। দেশে-বিদেশে কী ঘটছে, সেগুলো ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব, গুগলসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে পেয়ে যাচ্ছে সবাই। সপ্তাহে ৩৮ ঘণ্টার বা এর বেশি যারা সামাজিক মাধ্যমে ডুবে থাকেন তাদের আসক্ত বলা যায়। মাদকাসক্ত ব্যক্তি যেমন মাদক ছাড়া অস্থির হয়ে পড়েন তেমনি ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছাড়া থাকতে পারেন না অনেক তরুণ-তরুণী এবং কিশোর-কিশোরী। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তরুণরা সমাজে ভালো-মন্দ দু’ধরনের ভূমিকাই রাখছে।
ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ভিত্তি করে বিভিন্ন গ্রুপ বা পেজের মাধ্যমে তরুণরা ব্যবসা করছেন, পণ্য কেনাবেচা, সামাজিকভাবে সহায়তার জন্য সমাজভিত্তিক সেবামূলক গ্রুপ প্রতিষ্ঠা, যে-কোনো অন্যায়ের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই নিজের মতামত জোরালভাবে প্রকাশ করে প্রতিবাদ করে।

আবার ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তরুণরা নানারকম ক্রাইমে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। ঘটছে ব্ল্যাকমেইল, ফেইক আইডি থেকে করা মিথ্যা অপপ্রচার, গুজব, সাইবার বুলিং এবং মানহানিমূলক বিভিন্ন ধরনের সাইবার ক্রাইম। তরুণরা দিনশেষে তাদের হতাশা ইন্টারনেট এসে ঢেলে।

চিকিৎসকরা ইন্টারনেট আসক্তদের মধ্যে যেই সমস্যাগুলো সবচেয়ে বেশি পেয়ে থাকেন সেগুলো হচ্ছে- পিঠে ব্যথা, মাথাব্যথা, মেরুদন্ডে সমস্যা, ওজনে ভারসাম্য নষ্ট, ঘুমের ব্যাঘাত, চোখে ব্যথা বা কম দেখা ইত্যাদি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ইন্টারনেট আজ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংবাদ, তথ্য, যোগাযোগ, কেনাকাটা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সোশ্যাল নেটওয়ার্ক, বিনোদন ইত্যাদি অনেক কিছুর জন্য মানুষ এখন ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। এই ইন্টারনেট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কেন্দ্র করেই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বড় কার্যক্রম থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে নানারকম প্রভাব বিস্তার চলছে। তরুণরা যদি ইন্টারনেটের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে পড়ে সেটি অবশ্যই ক্ষতিকর। তাই প্রয়োজন এর অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার না করে ইন্টারনেটের বাইরের জীবনে বেশি সময় দিয়ে বা দুটির সমন্বয়ে কাজ করলে শারীরিক এবং মানসিক অস্থিরতা থেকেও মুক্ত থাকা সহজ হবে।


--জেনিফার আলম
প্রেসিডেন্ট, ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন (ক্রাফ), ট্রেইনার,
জাতীয় জরুরি সেবা- ৯৯৯