বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / স্বামীর বদভ্যাস
০৭/২১/২০১৯

স্বামীর বদভ্যাস

-

বদভ্যাস কমবে⁥শি সবারই থাকে। প্রতিটি মানুষ যদি মন দিয়ে নিজেকে পর্যবে⁥ক্ষণ করে⁩ন, তবে নিশ্চিতভাবে⁥ বলা যায় প্রত্যেকেই নিজের এমন অনে⁢ক বদভ্যাস খুঁজে পাবেন যা ছিল তার সম্পূর্ণ অজানা। তবে⁥ মানুষ সচরাচর নিজের বদভ্যাসগুলো খুঁজে বে⁥র করার চাইতে অন্যের বদভ্যাস নিয়ে অনে⁢কবে⁥শি মাথা ঘামিয়ে থাকে। আর স্ত্রী ⁨যেহেতু পরম যত্নে তার সংসারটিকে পরিপাটি করে গুছিয়ে রাখেন। তাই স্ত্রীর চোখে স্বামীর বদভ্যাসগুলো একটু বে⁥শি ⁥বেশিই ধরা পড়ে। আর এ বদভ্যাস ছাড়া একটি কঠিন কাজ।
কারণ, এগুলো এমন কিছু বদভ্যাস, যা নিয়ে তোলা যাচ্ছে না তীব্র প্রতিবাদেও ঝড়, অথচ দিনমান স্ত্রীর মেজাজ হয়ে থাকছে খিটখিটে।

অফিস থেকে বাসায় ফিরেই টিভি দেখা

এমনি অসংখ্য ছোটোখাটো বদভ্যাসের মধ্যে রয়েছে অফিস থেকে বাসায় ফিরেই টিভি দেখতে বসে যাওয়া। একজন কর্মজীবী স্ত্রী যখন অফিস শেষে বাসায় ফিরে নতুন উদ্দীপনায় কাজে নেমে পড়েন, সেই একই সময়ে একজন কর্মজীবী স্বামী টিভির রিমোট হাতে বিছানায় গা এলিয়ে দেন। আর সেই স্ত্রী যদি হন গৃহিণী তবে তো কথাই নেই। স্বামী মনে করেন তিনি একাই দিনভর খেটেখুটে বাড়ি ফিরেছেন। সংসারের নানাবিধ জটিল বিষয়গুলো স্ত্রী যখন স্বামীর কানের কাছে বলতে শুরু করেন তখন বেশিরভাগ স্বামীরাই টিভির দিকে তাকিয়েই হুম-হ্যাঁ-আচ্ছা ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করে থাকেন অথবা টিভি থেকে চোখ সরিয়ে খুব শান্ত একটি স্থিরদৃষ্টি দিয়ে স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, তিনি স্ত্রীর কথাগুলো মন দিয়েই শুনছেন। এহেন স্বামীদের ক্ষেত্রে স্ত্রীর উচিত স্বামীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট সময় চেয়ে নিয়ে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে তবেই কথা শুরু করা। স্বামী সেক্ষেত্রে স্ত্রীর কথায় সম্মতি দিতে বাধ্য থাকবেন।

ভেজা তোয়ালখানা বিছানার উপর

এমন অনেক স্বামী রয়েছেন যারা অফিসে যাবার ব্যস্ততায় ভেজা তোয়ালেখানা বিছানার উপর ফেলেই চলে যান। স্বামীর ধারণা তার ভেজা তোয়ালেখানা শুকোতে দেবার জন্য স্ত্রী তো রয়েছেনই। হোক না সে স্ত্রী গৃহিণী অথবা তারই মতোই কর্মজীবী। হতে পারে এটি স্বামীর ছোটবেলা থেকেই গড়ে ওঠা একটি অভ্যেস, যার ব্যাপারে তিনি ছিলেন একেবারেই উদাসীন। এক্ষেত্রে স্ত্রীর প্রথম করণীয় বিষয়টি হলো স্বামীকে তার এই বদভ্যাসটি সম্পর্কে সচেতন করে তোলে এবং দ্বিতীয়ত স্বামীর ব্যবহারকৃত ভেজা তোয়ালেটি নির্দিষ্ট স্থানে রাখবার দায়িত্বটি যে স্বামীরই তা তাকে বুঝিয়ে বলা।

বাজারের ফর্দটি পকেটে নিয়েই খালি হাতে বাড়ি ফেরা

আজকাল অনেক স্বামীরাই বাজার করার বিষয়টি অপছন্দ করেন। ফলে স্ত্রীর লিখে দেওয়া বাজারের ফর্দটি অনেক সময় পকেটে নিয়েই বাড়ি ফিরে আসেন। দিনশেষে বাড়ি ফেরার পথে বাজার করে ফেরার ব্যাপারটি স্বামী বেমালুম ভুলে যান এবং যথারীতি খালি হাতে বাসায় ফেরেন। এক্ষেত্রে ¯
স্ত্রীর উচিত স্বামীর বাড়ি ফেরার সময়ে ফোন করে আরও একবার মনে করিয়ে দেওয়া অথবা অফিসে যাবার সময়ই স্বামীর মোবাইলে এলার্ম সেট করে দেওয়া।

নাকডাকা

অধিকাংশ স্বামীরাই কমবেশি নাক ডাকেন। নাকডাকার উপর কারো কোনো কন্ট্রোল নেই। তবে কেউ কেউ গগনবিদারী শব্দ করে নাক ডাকেন এবং ঘুম থেকে উঠে নাক ডাকার ব্যাপারটি বেমালুম অস্বীকার করেন। এক্ষেত্রে প্রথম করণীয় বিষয়টি হলো স্ত্রী তার স্বামীর নাক ডাকার ব্যাপারটি রেকর্ড করে তাকে শোনাবেন এবং দ্বিতীয়ত নাকডাকা রোধে আজকাল বাজারে নানাধরনের কিট রয়েছে, তা ব্যবহারে স্বামীকে উদ্বুদ্ধ করবেন।


কথার পিঠে কথা বলা

কিছু কিছু স্বামী আছেন যারা কথার পিঠে কথা বলে থাকেন এবং যে-কোনো আলোচনার শেষ কথাটি তাকেই বলা চাই। আবার কিছু কিছু স্বামী আছেন, যারা কিনা শান্তি বজায় রাখার নাম করে স্ত্রীর অধিকাংশ কথারই কোনো জবাব দেন না। এতে করে স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠলে স্বামীরা বউ কর্তৃক নির্যাতিত হচ্ছেন বলে দাবি করেন। কথার পিঠে কথা বলতে হবে বলা অথবা শান্তি বজায় রাখার নাম করে একেবারে নিশ্চুপ থাকা এর কোনোটাই কোনো ভালো অভ্যেস নয়। এ ক্ষেত্রে উচিত উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে নিয়ে তার জরুরি কথাগুলো সেরে ফেলা।

ঘামে ভেজা মোজার উৎকট গন্ধ

ঘামে ভেজা মোজার উৎকট গন্ধ কারোরই অজানা নয়। অনেক স্বামী আছেন অফিস থেকে ফিরে এই মোজা খুলে জায়গামতো রেখে এলেও পা না ধুয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দেন। পা থেকে দুর্গন্ধ যে অন্যদের অস্বস্তির কারণ হতে পারে বিষয়টি অনুধাবন করা সত্ত্বেও শুধুমাত্র পা ধোয়ার অলসতার কারণে তারা এ কাজটি করে থাকেন। অন্যদের অস্বস্তির এ-ব্যাপারটি অনেক স্বামীই বিনোদন হিসেবে নিয়ে থাকেন। বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি হয়ে থাকলেও এক পর্যায়ে আর তা বিনোদন থাকে না। স্বামীকে বুঝিয়ে বলা ছাড়া আর কোনো সমাধান আছে বলেও মনে হয় না।

শুরুতেই বলা হয়েছে বদভ্যাস কমবেশি সবারই থাকে এবং অভ্যেসগুলো খারাপ বিধায়ই তা ছাড়ানোর খুব মুশকিল। তাই স্বামীরা তাদের সমস্ত বদভ্যাস একদিনেই ছেড়ে দেবেন এমনটি ভাবা কঠিন। মনে রাখতে হবে যে, কোনো বদভ্যাস এড়াতে ছোট ছোট ধাপে এগুলো হবে। একদিন দুদিন করে অভ্যেসগুলো দূর করতে করতে হয়তো দেখা যাবে কোনো একদিন বিষয়টি পুরোপুরি ঠিক হয়ে গেছে। তবে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ংঢ়ড়হঃধহবড়ঁং ৎবপড়াবৎু বলে। একটি শব্দ রয়েছে যার মানে হলো হুট করে পুরনো কোনো অভ্যেস ফিরে আসা। স্ত্রীরা তাতে হতাশ হবেন না। এক-দুইবার ভুল হতেই পারে। স্ত্রীদের উচিত পুনরায় স্বামীকে মনে করিয়ে দেওয়া এবং প্রতিনিয়ত প্রশংসা করে স্বামীকে তার বদভ্যাসগুলো থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে আসা। অনেক ক্ষেত্রে খোলামেলা আলোচনা সুফল বয়ে নিয়ে আসতে পারে। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে অথবা খাবার টেবিলে খোলাখুলি সুস্থ আলোচনা অনেক সমাধান এনে দিতে পারে।


--ড. ফারহানা জামান
সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়