সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
হোম / ভ্রমণ / রাতারগুল
০৭/২১/২০১৯

রাতারগুল

জল-জঙ্গলের গল্প

-

‘ফ্রেশওয়াটার সোয়ারেস্ট ফরেস্ট’ বা জলাবন বাংলাদেশে একটাই আছে, যা আমাদের সবার কাছে খুব পরিচিত ‘রাতারগুল জলাবন’। বৃহত্তর সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় যার অবস্থান। এটি সিলেট জেলাশহর থেকে প্রায় ২৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই বিস্তীর্ণ এলাকার ৫০৪ একর জায়গায় জুড়ে রয়েছে সুবিশাল বন অঞ্চলের বাকি জায়গা ছোটবড়ো জলাশয়ে পরিপূর্ণ।

বর্ষায় পুরো অঞ্চলে এক অপরূপ সৌন্দর্যের দেখা মিলে যা পর্যটকদের বিমোহিত করে। হাওরের স্বচ্ছপানির নিচে বনগুলো দৃশ্যমান থাকায় বর্ষাকালে অনেক পর্যটকের সমাগম ঘটে। বর্ষাকালে পানি থৈ থৈ করে। বন জলে ডুবে থাকে বছরে চার থেকে সাত মাস। তবে বিপরীত চিত্রও আছে। কারণ শীত মৌসুমে ভিন্নরূপ ধারণ করে এ জলাবনটি। বর্ষা কাটলেই দেখা যাবে অন্য চেহারা। আর শীতের মৌসুমে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে জেগে ওঠে মূর্তা ও জালি বেতের বাগান। তবে সে সৌন্দর্য আবার অন্য রকম অনুভূতির সৃষ্টি করে থাকে। তখন বনের ভেতরের ছোট নালাগুলো পরিণত হয় পায়ে চলা পথে। সেই পথ দিয়ে হেঁটে অনায়াসে ঘুরে বেড়ানো যায়। তবে পায়ে হাঁটার সময় সবসময় সতর্কতা অবল€^ন করতে হয়। সিলেট জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, এই বনের আয়তন ৩,৩২৫ একর, আর এর মধ্যে ৫০৪ একর বনকে ১৯৭৩ সালে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেখানেই আশ্রয় নেয় জলজ প্রাণীকুল। বনের ভেতর ভ্রমণ করতে দরকার হয় নৌকার, তবে সেগুলো হতে হয় ডিঙি নৌকার। তবে মনে রাখা ভালো বনে ভ্রমণ করতে অনুমতি নিতে হয় রাতারগুল বন অফিস থেকে। অনুমতি নেওয়ার পর চৌরঙ্গীঘাট থেকে মাঝির সাথে দামাদামি করে ৪০০-৮০০ টাকায় (ভাড়া পরিবর্তনীয়) ডিঙি নৌকা ভাড়া করে ঢুকে যাওয়া যাবে রাতারগুলের ভিতরে।

শহরের যান্ত্রিকতা থেকে অসীম দূরত্বে শুধু বৈঠার ছলাৎ-ছলাৎ শব্দ আর মাঝেমধ্যে বন্য প্রাণীর চিৎকারে হঠাৎ চমকে উঠার সৌন্দর্য ভোগ করার অন্যতম স্থান এই জলাবনটি! ভাগ্য ভালো ও চোখের সজাগ দৃষ্টি থাকলে বনে বানর, মেছোবাঘ, শিয়াল আর কাঠবিড়ালির দেখা মিলতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে এটি জলাবন হওয়ায় বিভিন্ন সতর্কতা অবলম্বন করে বনের মধ্যে ঢুকতে হবে। রাতারগুল বনে সাপের মধ্যে গুইসাপ, জলঢোঁড়া ছাড়াও রয়েছে গোখরাসহ বিষাক্ত অনেক প্রজাতি। বর্ষায় বনের পানি বেড়ে গেলে এসব সাপ গাছের ওপর উঠে পড়ে। রিজার্ভ নৌকায় ঘণ্টাদুয়েকের মধ্যেই পুরো বনটা ঘুরে ফেলা সম্ভব।

ভ্রমণের উপযুক্ত সময়

বছরের যে-কোনো সময়ে রাতারগুল জলাবন ভ্রমণ করা যায়। তবে বর্ষাকালে এর প্রকৃত সৌন্দর্য অবলোকন করা যায় ইচ্ছেমতো। তাই পর্যটকরা বর্ষাতেই রাতারগুল ঘুরতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। জলের সাথে মিতালি করার উপযুক্ত সময়ই হচ্ছে বর্ষাকাল⁩।

থাকার ব্যবস্থা

সিলেট শহরে রাতে থাকার জন্য বিভিন্ন মানের হোটেল আছে। শাহজালাল উপশহরে পাঁচতারকা মানের হোটেল রোজভিউ, নগরীর মিরাবাজারে রয়েছে হোটেল মিরা গার্ডেন, হোটেল সুপ্রিম, নাইওরপুল এলাকায় হোটেল ফরচুন গার্ডেন ; জেল সড়কের পাশে রয়েছে হোটেল পানসী ইন ও হোটেল ডালাস। নগরীর তালতলা ভিআইপি সড়কে হোটেল হিলটাউনসহ বিভিন্ন দরের হোটেল। এসব হোটেল রিসোর্টে মান বেঁধে ভাড়া পড়বে ৮শ’ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

খাওয়া-দাওয়া

রাতারগুলের আশপাশে মিতালি রেস্টুরেন্ট, চিক চিকেন, শেফরন রেস্টুরেনটসহ বেশকিছু রেস্টুরেন্ট রয়েছে।

ব্যাংক ও এটিএম বুথ

জলাবনের পাশেই ডাচ বাংলা ব্যাংক এটিএম বুথ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং একটু দূরে গেলেই ব্রাক ব্যাংক এটিএম, ইউনিয়ন ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকসহ বেশ কিছু ব্যাংক ও এটিএম বুথ রয়েছে।

কীভাবে যাবেন

ঢাকা হতে সড়ক, রেল কিংবা আকাশপথে সিলেট এবং সেখান থেকে যে-কোনো যানবাহনে সহজেই রাতারগুলে যাওয়া যায়। সিলেট শহর হতে যেতে সিলেট রেল স্টেশন অথবা কদমতলী বাস স্ট্যান্ড এ সিএনজি অথবা অটোরিকশাযোগে ১.৩০ ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। কদমতলী বাস স্ট্যান্ড থেকে দূরত্ব মাত্র ২৬ কি.মি.।
সবশেষে একটি অনুরোধ পর্যটকদের উদ্দেশ্যে। দয়া করে পলি
লথিন, বোতল, চিপস কিংবা বিস্কুটের প্যাকেটসহ কোনো প্রকার আবর্জনা পানিতে ফেলবেন না। মনে রাখবেন, রাতারগুল আমাদের সম্পদ। আর আমাদের সম্পদ বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বটাও আমাদেরই।

--আজহার উদ্দিন শিমুল
সিলেট