বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / কবিতা
০৭/১৮/২০১৯

কবিতা

-

মানুষ চেনার যজ্ঞ
-আরিফ মঈনুদ্দীন

দরোজা বন্ধ করে অবিরাম ডেকে যাচ্ছেন তিনি
হাতের ইশারায় গুরুত্ববহ সম্ভাষণে
আরও একধাপ আন্তরিক প্রয়াস-দরোজার বাহিরে তিনি

আমিও হেঁটে যাচ্ছি
তার ডাকে সাড়া দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি
কিন্তু কোথায় প্রবেশ করব? মুহূর্তেই হাওয়া হলেন তিনি
রুদ্ধদ্বারে মাথাকুটে ক্লান্তির চাবুকে জর্জরিত
ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় পথ খুঁজছে পালাবার

তারপর দৃশ্যান্তরে আবারও ডাক
অতি মোলায়েম সুরে বিনীত ভঙ্গির আব্দার

এগিয়ে গেলাম আরও অবিমৃশ্যকারী আমি
কাছাকাছি এসে উঁকিঝুকি মেরে পেছনে সরে দাঁড়ালাম
মনের চোখ খুলে সর্বাঙ্গ দেখে নিলাম তার

নড়ে ওঠে আস্তিনে ঢেকে রাখা চকচকে ছাকু
সরে এলাম বলেই বাঁচা গেল এ যাত্রা
এই জনসমুদ্রে
মানুষ চেনার এই যজ্ঞে যোগ হলো আরেক মাত্রা।









প্রতীক্ষা
-জুবায়ের রহমান আবির


হেঁটে গেছি শহুরে রাস্তায়; একাকী বিষণ্ণ অভিমানে।
একমুঠো রোদ ধরতে গিয়ে, হারিয়ে ফেলেছি আলো।
কত অন্ধকার গলি, হঠাৎ পেরিয়ে সীমান্তে;
চেনা পদশব্দে পিছে ফিরে দেখেছি আগামী।
পিচঢালা পথের নকশা, বিনিদ্র দুপুরের মাতম।
ছড়িয়ে দিয়েছে কতশত বাক্য, ফিরিয়ে দেয়নি শুভম।
তপ্ত রৌদ্রে পুড়ে যেতে যেতে, উড়ে যায় আকাক্সক্ষা।
ইচ্ছাকে ছেড়ে আশা, নিচ্ছে আমার প্রতীক্ষা।

জীবনানন্দের চিঠি
-সোহরাব পাশা



জীবনানন্দের চিঠি পড়ে মধ্যরাতে
জ্যোৎসনার বৃষ্টিতে ভিজে যায় মৃত নদী
নক্ষত্রবীথির আড়ালে যুবতীচোখে
ওড়ে স্বপ্নের কুসুম
নিভৃত গল্পের দ্যুতিময় হাসি ওড়ে
নদী ওড়ে ঠোঁটের কিনারে
তুমুল উচ্ছল নদী
অনন্ত গানের শিল্পী
নিবিড় ছায়ার কোলাহলে বৃষ্টি নামে
আপেল বাগানে
দূরত্ব ফুরোয় না কখনো সম্পর্কের
মানুষের দীর্ঘ গন্তব্য বড়ো নিঃসঙ্গতা মুখর
জীবন তো ধু ধু উদ্বাস্তু শিবিরে লেখা
ভালোবাসার অসমাপ্ত মলিন গল্প
কবিতার ছেঁড়া পান্ডুলিপি

ধূসর প্লাবন
-খাদেজা মাহবুব আরা


বিচ্ছিন্ন সংক্ষিপ্ত জীবনের ভূমি চাষ
স্মৃতির চাদরে গাঁথা কিছু সংলাপ
হৃদয় ডুবিয়ে রাখে অবাধ্য দহনে
হাহাকারে ভেসে থাকা নদীর নিশ্বাসে
আপ্লুত অতীতের ঢেউ
রঙিন ঝিলমিলি আকাশের নক্ষত্রে মন ডোবে না
সুর বসন্তের যে দিন চলে গেছে
ঘুণে ধরা জীবনের পাতায়
সিক্ত তার ইতিহাস
নিশব্দ ঝিমিয়ে পড়া রাত
ক্লান্তিগুলো আরও নিবিড় করে
জড়িয়ে রাখে রাজ্যের স্বপ্নের সুর
ফেরারি সুখদিন ফেরে না
তবু আমি ভেসে থাকি রংহীন
ধূসর প্লাবনের তুচ্ছতায়।

মা’কে কবিতা পড়ে শুনিয়েছি
-কাজী সুফিয়া আখ্তার


বারো বছর পরে বাড়িতে এসেছি
মায়ের বিছানাতে শুয়েছি, মনে পড়ে
এরকম সময়ে ঘর-গেরস্থালির কাজের ফাঁকে মা
গল্প বলতেন, বই পড়ে শোনাতেন, কখনো বা
আপন মনে গুনগুনিয়ে গান করতেন
মধ্যরাতে মা’কে নিয়ে লেখা কবিতা
পড়লাম জোরে জোরে, যদি মা শুনে
৮ মার্চ, শহীদ মিনারের পাদদেশে কবিতা পড়লাম
কতজন শুনলেন, হাত তালি দিলেন, তাতে কী?
মা তো শুনেন নি আমার কবিতা পড়া
শুনেছি মানুষ মরে যায় আত্মা বেঁচে থাকে
পুকুর ঘাটে দাঁড়িয়ে, সেজো চাচি’র ঘরে বসে
চা খেতে খেতে কবিতা পড়েছি জোরে জোরে
যদি মা শোনেন, যদি মায়ের আত্মা কোথাও থেকে থাকে, শুনে....

মায়ার আবহ
-প্রত্যয় জসীম



পুরুষ বললে বুঝি... মিটে যাবে সব...?
মানব জনমে আমি... আমারই শব!
আমিতো লিখি না কিছু আজো লেখা শিখি!
দেখেও দেখি না কিছু... কতো আর দেখি...?

দিবানিশি কার কথা ভাবো তুমি কে-সে...?
জেনো তারে পাবে মানুষকে ভালোবেসে...
মিথ্যা-সত্য বহুদূর- কাছে ভালোবাসা
রোদ-বৃষ্টি কতদূর... বোঝে শুধু চাষা...।

চতুর আলোর চেয়ে আঁধারই ভালো
নষ্ট মানবের চেয়ে দানবই ভালো
ছলনার মায়াজাল বেশি ভয়াবহ!
জীবন কিছুইনা সবই মায়ার আবহ...।