বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / ফ্যাশন / স্বপ্নপথে এগিয়ে চলা....
০৭/১৫/২০১৯

স্বপ্নপথে এগিয়ে চলা....

ফ্যাশন উদ্যোগ

-

খুব ছোটবেলা থেকেই নিজের জামা নিজেই ডিজাইন করতাম। আশেপাশের সবাই খুব পছন্দ করতো আর আমাকে দিয়ে ওদের ড্রেসগুলো করিয়ে নিত। ছোট ছিলাম তো এত বেশি প্রশংসা শুনে কখন যেন মাথায় ঢুকে গেছিল ডিজাইনের ব্যাপারটা।

কলেজে থাকাকালীন বুটিক হাউস দেই, শুরু হয় আঁখি’স কালেকশনের পথ চলা। গ্র্যাজুয়েশানের পর বিয়ে করে দেশের বাইরে চলে যাই। হঠাৎ ব্রেইন টিউমার-এর অপারেশান করতে হলো। তখন শুধুই বেড রেস্ট। করার কিছুই ছিল না দেখে শুয়ে শুয়ে ডিজাইন করতাম। আবার শুরু ২০০১ থেকে পুরোদমে। সেই যে শুরু এখনো করেই যাচ্ছি।

সারারাত বাসার হ্যাল্পিং হ্যান্ডকে নিয়ে কাপড় কাটতাম ভোরে কারখানায় নিয়ে যেতাম। আবার বাসায় এসে সুই সুতার কাজ করতাম। একটা ব্লকের ড্রেস সেল করে সেটার লাভের টাকা দিয়ে আরো দুইটা ড্রেস বানিয়ে আস্তে ধীরে আজকে আমি এতদুর এসেছি। অনেক বাধা এসেছে কিন্তু আমি থমকে যাইনি ভয় পাইনি। আমার মনে আছে আমার ছেলে হবার পর ছেলেকে নিয়ে যখন মার্কেটে যেতাম ওর খাওয়ার সময় হলে কোনো এক মসজিদের ভীতরে গিয়ে ব্রেস্টফিড করাতাম কষ্ট হতো, কিন্তু তবুও কাজ করে যেতাম। চেষ্টা করে যাচ্ছি কোয়ান্টিটি না বাড়িয়ে কোয়ালিটিফুল কিছু করতে।

এখনতো বাংলাদেশ ছাড়িয়ে বিশ্বের সব দেশেই আমার ডিজাইন করা বৈশাখি শাড়ির জন্য অপেক্ষা করে থাকেন আমার ক্লাইন্টরা। গত বৈশাখে একটা ডিজাইনের শাড়ির হাজার হাজার পিস সেল হওয়ার রের্কড এখন পর্যন্ত আঁখি’স কালেকশানেরই।
যেখানে শপিং মলগুলোতে যেয়ে মানুষ পছন্দ করতে কনফিউস্ড হয়ে যায় সেখানে অন-লাইনের মতো একটি কঠিন সেক্টরে না দেখে চোখ বন্ধ করে আঁখি’স কালেকশানে অর্ডার করে দেয় তখন সত্যিই মনে হয় “হ্যা আমি আমার কাস্টমারদের বিশ্বাস অর্জন করতে পেরেছি এবং হয়তোবা একটু হলেও কিছু করতে পেরেছি ‘কারণ অন- লাইন বিজনেস সত্যিই অনেক কষ্টের’!

আমি কিন্তু সবার মতো বলবো না যে আমার এ পথ চলাটা অনেক কষ্টের ছিল কারণ কলেজে পড়ার সময় শখের বশেই শুরু করেছিলাম আঁখি’স কালেকশান যেখানে ফ্যামেলি সমর্থন ছিল আর আমার হাজবেন্ড সমাজের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি হবার পরও নিজে কিছু করে যাচ্ছি কারণ আমি ট্রাস্ট করি প্রতিটা মেয়েরই একটা নিজস্ব আইডেনটিটি থাকা খুব দরকার।


--বেনজির আবরার