শুক্রবার,১৯ Jul ২০১৯
হোম / পার্শ্বরচনা ও অন্যান্য / বিশ্বকাপ নিয়ে টাইগার মায়েদের ভাবনা
০৭/০৫/২০১৯

বিশ্বকাপ নিয়ে টাইগার মায়েদের ভাবনা

- অনন্যা ডেস্ক

প্রতিটি বল, প্রতিটি ওভার দেখতে রুদ্ধশ্বাস প্রতীক্ষা নিয়ে মানুষ টেলিভিশনের পর্দার সামনে বসেন। মনে মনে জয় প্রার্থনা করেন। কখনো হতাশ হতে হয়। কখনো কখনো সাফল্যের আনন্দে কাঁদায়। এটাই দেশপ্রেম। লাল-সবুজের জার্সি গায়ে জড়িয়ে যারা দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে মাঠে নামেন, তাদের মায়েরা কেমন অনুভব করেন তখন? আমাদের এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ছয় তারকা খেলোয়াড়ের মায়ের অনুভূতির কথা তুলে ধরা হলো।

হামিদা মুর্তজা
মাশরাফি বিন মুর্তজার মা

বাড়ির বড়ো ছেলে মাশরাফির ডাকনাম কৌশিক। মায়ের আদরের কৌশিক কখন বাড়ি আসবেন, তা নিয়ে সবসময় ব্যাকুল হয়ে থাকে মায়ের মন। ছেলেকে খেলার জন্য প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতে হয়। ইদানীং তার সঙ্গে যোগ হয়েছে রাজনীতির ব্যস্ততা। তবে মাশরাফি বাড়ি ফিরলে ঘরে যেন ঈদের আনন্দ তৈরি হয়। আর নাতি-নাতনি হবার পর সেই আনন্দের মাত্রা আরও বেড়ে গেছে হামিদা মুর্তজার। ছেলে যখনই বাড়ি ফেরেন, উৎসব উৎসব পরিবেশ ছড়িয়ে পড়ে। আলুভর্তা, ডাল, ডিমভাজি, ইলিশ মাছ, শাক দিয়ে কই, লালশাক দিয়ে চিংড়ি মাছ, গরুর মাংসসহ পছন্দের নানাখাবার রেঁধে খাওয়ান। ছেলে যখন খেলার জন্য দেশের বাইরে থাকেন তখন তিনি জায়নামাজে বসে দোয়া করেন, খেলার ফল যেন ভালো হয়। তবে ছেলে যত বড়ো ক্রিকেট তারকাই হন না কেন, মাশরাফির মা অন্য আটদশজনের মতো একসময় চাইতেন ছেলে পড়াশোনা করে ভালো চাকরিবাকরি করবে। অধ্যাপক হবে। তবে মাশরাফি সেটি না হলেও যা হয়েছেন, তাতে সবসময় সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন মা।

শিরিন আক্তার
সাকিব আল হাসানের মা

শিরিন আক্তারও সবসময় অপেক্ষা করেন তার ছেলে ‘ফয়সাল’, অর্থাৎ দেশবাসীর কাছে পরিচিত বিশ্বের একন€^র অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান কবে বাড়ি ফিরবেন। তবে এখন ছেলের বউ শিশির ও নাতনি আলায়না সাকিবের মায়ের আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। ছেলের তারকাখ্যাতিকে মা খুব উপভোগ করেন। বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে মানুষজন ছুটে আসেন ছবি তুলতে। দেশের বাইরে গেলেও প্রায়ই একই ঘটনা ঘটে। মা বোঝেন তার ছেলে কেবল দেশে নয়, বিদেশেও জনপ্রিয়। সাকিবের কাছ থেকে অন্যরা যখন অটোগ্রাফ নেয় বা ছবি তোলে, সেই দৃশ্য দেখতে খুব ভালো লাগে মায়ের। তবে সাকিবের মাও একসময় ভাবতেন ছেলে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবে। কিন্তু ক্রিকেটার হয়ে ছেলে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন নিজেকে, তাতে গর্ববোধ করেন শিরিন আক্তার। এই মায়ের আশা, বাংলাদেশ একদিন বিশ্বকাপ জিতবে, আর সেইদিন বেশিদূরে নয়।

রহিমা খাতুন
মুশফিকুর রহিমের মা

বগুড়ার ছেলে মুশফিকের বাবার চাইতে মায়ের সঙ্গেই সখ্য বেশি। তবে মুশফিকের মা অন্যদের চাইতে একটু আলাদা। তিনি বাকপ্রতিবন্ধী, তাই ভালোভাবে কথা বলতে পারেন না, কানেও কম শোনেন। তবে, এই প্রতিবন্ধকতা থাকলেও শান্ত স্বভাবের এই মায়ের মধ্যে অন্যরকম জেদ কাজ করে। তিনি পিছু হটতে চান না কোনোকিছু থেকে। এই স্বভাবই পেয়েছেন ছেলে মুশফিক। মুশফিকের বাবা রহিমা খাতুনের ভাষা বোঝেন। তিনি কী বলতে চাইছেন, তা বুঝিয়ে বলতে পারেন। রহিম খাতুন বললেন, মুশফিক খুব বুদ্ধিমান। অনেক আত্মবিশ্বাসী। সময়জ্ঞানও ভালো। বাবার মতো আন্তরিক ও ভালো মনের মানুষ। এখনো বাড়িতে খিচুড়ি রান্না হলে মায়ের হাতেই খান ছেলে। রহিমা খাতুন মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, ছেলে খুব ভালো খেলবে, একদিন বিশ্বকাপ ঘরে আনবে।

আরাফাত বেগম
মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মা

মাহমুদুল্লাহ্ রিয়াদের ঠান্ডা মেজাজ ও ধীরস্থির স্বভাবের কথা সবার জানা। রিয়াদের মা আরাফাত বেগম খুব ধীরস্থির স্বভাবের মানুষ। ছেলে নিশ্চয়ই মায়ের স্বভাব পেয়েছেন। প্রায়ই খেলার মাঠে প্রতিপক্ষ দলের জন্য হয়ে ওঠেন নীরব ঘাতক। ছেলে জাতীয় দলে খেলা শুরুর পর থেকে ছুটি কম পান। ময়মনসিংহের বাড়িতে এক নাতিকে সঙ্গে নিয়েই একা দিন কাটে মায়ের। তবে সবসময় মনে মনে ছেলের জন্য দোয়া করেন। ছুটিতে ছেলে, ছেলের বউ আর নাতি বাড়ি এলে দারুণ সময় কাটে। আশপাশের মানুষজনও মাহমুদুল্লাহকে দেখতে ভিড় করেন। ছেলের পছন্দের খাবার পায়েস রান্না করেন মা। ইংল্যান্ডে এবার বিশ্বকাপ খেলতে গিয়ে মাহমুদুল্লাহ রোজা রেখেই খেলেছেন। খেলার সময় রোজা রাখতে কষ্ট হচ্ছে কিনা, পিপাসা পাচ্ছে কিনা, বারবার ফোনে এসব জানতে চাইতেন মা। ছেলে যখন ব্যাটিং করেন, তখন তিনি ভীষণ উৎকণ্ঠায় থাকেন। সবসময় দোয়া করেন ছেলে যেন দলের জন্য ভালো খেলেন। আর দল যেন জেতে।

মিনারা বেগম
রুবেল হোসেনের মা

রুবেলের মা মিনারা বেগম বললেন, সব বাবা-মা’ই চান তাদের ছেলেমেয়ে ভালো করুক। রুবেল জাতীয় দলের ক্রিকেটার হবার পর মানুষজন তাদেরকে রুবেলের বাবা-মা হিসেবে চেনে, এই পরিচয় খুব ভালো লাগে তাদের। কোথাও বেড়াতে গেলে অন্যরা রুবেলের মা বলে ডাকে। ছেলে সঙ্গে থাকলে অনেকেই ছবি তুলতে আসে। এটা দেখে আনন্দ পান তিনি। কিছুদিন আগে একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে ছেলেকে নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। এটি টিভিতে প্রচারের পর দেখে আনন্দে চোখে পানি এসেছে তার। রুবেলের মা মনে করেন, দলের সবাই তার ছেলে। দোয়া করেন দল যেন ভালো খেলে। বোলার রুবেল উইকেট পেলে তিনি খুশি হন, তবে তারচেয়ে বেশি খুশি হন দল ভালো করলে। এই মা আশা করেন, বাংলাদেশ দল এবারের বিশ্বকাপে ভালো করবে। বিশ্বকাপ ঘরে নিয়ে আসবে তার ছেলেরা।

হোসনে আরা বেগম
মোসাদেক্কের মা

লক্ষ লক্ষ মাইল দূরের একমাঠে ছেলে খেলছেন। তার পারফরম্যান্সের দিকে তাকিয়ে কোটি মানুষ। টেলিভিশনের সামনে বসে ছেলেকে মাঠে দেখে দারুণ চাপ অনুভব করেন মোসাদ্দেকের মা হোসনে আরা। ছেলের জন্য বদলে গেছে এই মায়ের জীবন। বাড়িতে লোকজনের আসাযাওয়া বেড়েছে। সাংবাদিকরাও আসেন সাক্ষাৎকার নিতে। ছেলে জাতীয় দলে খেলা শুরুর পর থেকেই ময়মনসিংহ শহরে তার বাড়িতে অনেকে আসেন। ছেলে বাড়ি ফিরলেও অনেকে এসে দেখা করেন। নিজের ছেলের প্রতি এই মায়ের অগাধ আস্থা। যতক্ষণ ব্যাট হাতে ক্রিজে থাকেন ছেলে, ততক্ষণই দোয়া করতে থাকেন মা। আর যতক্ষণ বাংলাদেশের খেলা চলে, পুরোটা সময় টিভির সামনেই থাকেন তিনি। ছেলে বিশ্বকাপ খেলতে গেলেও সেই দূরে বসেও মা’কে ফোন করে ওষুধের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন। মা এতে খুব খুশি। তিনি বললেন, দলের সবাই যেন ভালো খেলে। বিশ্বকাপ জিততে হবে।