শুক্রবার,১৯ Jul ২০১৯
হোম / সম্পাদকীয় / ক্রিকেট এবং মায়েদের গল্প
০৭/০৫/২০১৯

ক্রিকেট এবং মায়েদের গল্প

-

আমাদের দেশটি ছোট্ট, কিন্তু সমস্যাগুলো বড়ো বড়ো। চারদিকে থিকথিক করছে প্রচুর মানুষ, প্রচুর দূষণ, প্রচুর দুর্নীতি, প্রচুর অপরাধ। কিন্তু এত খারাপের ভেতরেও এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ। সেই ছাপ পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। এখন চলছে বিশ^কাপ ক্রিকেট। যে ক্রিকেট একসময় ছিল শহুরে অভিজাতদের খেলা, সেটি এখন পৌঁছে গেছে গাঁওগেরামেও। সেখানে ক্রিকেটের কদর এখন এতটাই বেশি যে, পরিত্যক্ত ভূমি, চর, এমনকি খানাখন্দেও দেখা যায় আমাদের তরুণ-কিশোর এবং শিশুরা ক্রিকেট খেলছে। এসব প্রান্তিক জনপদ থেকেই আমরা সর্বশেষ উপহার পেয়েছি মুস্তাফিজের মতো একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে। মুস্তাফিজের আগে সাকিব, মাশরাফি, মুশফিক, তামিমরা আমাদের ক্রিকেটের দ্যুতি ছড়িয়ে চলেছে বিশ^ময়।
ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও ক্রিকেটে দুর্দান্ত সব সাফল্য নিয়ে আসছে। গতবছর নারীদের এশিয়া কাপে চ্যা€িúয়ান হয়েছে বাংলাদেশ। অনন্যা শীর্ষদশজয়ী নারী ক্রিকেটার সালমা, রুমানাসহ পুরো দল অভাবিত এক উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশকে। ক্রিকেট এখন তরুণ প্রজন্মের কাছে পেশাদারি খেলা হয়ে উঠেছে। এটি স€¢ব হয়েছে একদল মেধাবী ক্রিকেটার, দক্ষ সংগঠক, সর্বোপরি বর্তমান সরকারের ইতিবাচক প্রচেষ্টায়। তবে আর সকল ক্ষেত্রের মতো ক্রীড়াবিদদের সাফল্যের নেপথ্যেও থাকে একজন মায়ের অভাবিত অনুপ্রেরণা আর নিষ্ঠা।
আসলে মায়ের ভালোবাসা আর অবদান কোথায় না আছে? আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন বলেছেন, ‘আমি যা হয়েছি বা ভবিষ্যতে যা হতে চাই তার সব কিছুর জন্য আমি আমার মায়ের কাছে ঋণী।’ বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা দিয়াগো ম্যারাডোনা বলেছেন, ‘আমার মা মনে করেন আমিই সেরা, আর মা মনে করেন বলেই আমি সেরা হয়ে গড়ে উঠেছি।’ ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের মাকে নিয়ে করা উক্তিটি তো জগদ্বিখ্যাতÑ‘আমাকে শিক্ষিত মা দাও; আমি তোমাদের একটা সভ্য, শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।’
ভালোবাসা যদি ফুলের মতো সুন্দর হয়, তাহলে আমাদের মা হচ্ছেন সেই ভালোবাসার ফুল। এজন্য খ্রিস্টীয় প্রবাদে আছেÑ‘ঈশ্বর সব জায়গায় থাকতে পারেন না, এ-কারণে তিনি মাকে পাঠিয়েছেন।’ মাতৃত্ব আসলে কী জিনিস তার চমৎকার একটি উদাহরণ পাওয়া যায় ইমতিয়াজ মাহমুদের কবিতায়। কাহিনিটি এরকমÑ মা হবে বলে একডাইনি রাজপুত্রের আসল মাকে পাথর বানিয়ে ফেলল। তারপর রাজপুত্রকে পরম মমতায় কোলে-পিঠে করে বড়ো করল। বড়ো হয়ে সেই রাজপুত্র জানতে পারল ডাইনি মায়ের কথা। রাজপুত্র তখন এক পূর্ণিমার রাতে দিঘির ভেতরে ডুব দিয়ে কৌটায় থাকা ভোমরার গলা টিপে হত্যা করল ডাইনিটাকে। ডাইনিটা তখনো দিঘির পারেই দাঁড়িয়েছিল। রাজপুত্র একবারও ভাবল না, সে যখন কৌটা খুলছিল, ডাইনিটা ইচ্ছা করলে তখনো তাকে পাথর বানিয়ে ফেলতে পারত! স্পষ্টতই, প্রকৃতি আমাদের এই শিক্ষা দেয় যে, ডাইনিও যদি মা হয়, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা সেই ডাইনির কাছে নিজের জীবনের থেকেও বড়ো হয়।
এবারের অনন্যার সংখ্যায় উঠে এসেছে বিস্ময়দ্যুতি ছড়ানো ক্রিকেটারের নেপথ্যে মায়েদের নিরন্তর পরিশ্রম আর ত্যাগের কথা। ক্রিকেটের জয় হোক। জয় হোক মায়েদের নিষ্ঠার, ভালোবাসার।


--তাসমিমা হোসেন