শনিবার,২৫ মে ২০১৯
হোম / নারী / ধর্ষিতা সুনীতা কৃষ্ণণ আজ নারী পাচারকারীদের যম
০৫/০৮/২০১৯

ধর্ষিতা সুনীতা কৃষ্ণণ আজ নারী পাচারকারীদের যম

-

সুনীতা কৃষ্ণণ। পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত একজন সমাজকর্মী। খুব সহজেই ৪৬ বছরের এই নারীর পরিচয় হয়ে যেতে পারত আরেকজন নির্যাতিতা নারীর মতো দুর্বল, বিস্মৃত। কিন্তু জীবনের সেই কালো অধ্যায় শুধু মনের জোর আর সমাজের অত্যাচারী মানুষকে সাহায্য করার দৃঢ়প্রত্যয় দিয়ে কাটিয়ে ওঠেন তিনি।
সুনীতা কৃষ্ণণ যখন আট বছরের কিশোরী তখনই অসহায় মানুষদের জন্য কিছু করার তাগদা অনুভব করেন। তাই ঐ বয়সে নিজে নাচের স্কুলে যান এবং সেইসাথে মানসিক প্রতিবন্ধীদের নাচ শেখান। তারপর মাত্র ১২ বছর বয়সে বস্তির শিশুদের জন্য একটা স্কুল শুরু করেন। তবে এখানেই তিনি থেমে যাননি, ১৫ বছর বয়সে নিও-লিটারেসি ক্যাম্পেন শুরু করেন। তারপর একদিন পুরুষ-শাসিত সমাজে এক সাধারণ কিশোরীর মাথা তুলে দাঁড়ানোর অপরাধে আটজন পুরুষ মিলে ধর্ষণ করে মারাত্মকভাবে জখম করে সুনীতা কৃষ্ণণকে।

তবে পুরুষশাষিত সমাজে নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যার জন্ম, ধর্ষণের মতো ঘটনাও তাকে থামাতে পারেনি। পড়াশুনা শেষ করে সমাজের বিভিন্ন স্তরের নারীদের ওপর যৌন শোষণ ও নারীপাচার রুখতে এগিয়ে আসেন। নারীদের পণ্য হিসেবে দেখানোর প্রতিবাদস্বরূপ ১৯৯৬ সালে বেঙ্গালোরে মিস ওয়ার্ল্ড কম্পিটিশনে বাধা দিয়েছিলেন সুনীতা। যার জন্য তাকে দু’মাস জেলে থাকতে হয়। জেল থেকে বের হবার পর তার জীবনযাত্রা পছন্দ না হওয়ায় পরিবারের লোকজনও তাকে গ্রহণ করতে চাননি।
সমাজের অন্ধকার জগৎকে সবার সামনে আনতে শুরু করলেন ‘ঝঁহরঃযধ কৎরংযহধহ : অহঃর-ঞৎধভভরপশরহম ঈৎঁংধফবৎ’, যেখানে তুলে ধরলেন কিভাবে পাচারকারীরা নারীদের ভুলিয়ে ফুসলিয়ে এনে যৌনশোষণ ও অত্যাচার করে। শত শত মেয়ের যন্ত্রণা উঠে এসেছে সুনীতার কলমে। সেখানে আছে একটি ৪ বছরের মেয়ের কথা। যাকে ধর্ষণ করেছে তারই বাবা, কাকা, দাদা, খুড়তুতো ভাই ও প্রতিবেশীরা। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার পাখনা মেলে যখন ভারত পৃথিবীতে অর্থনৈতিক দৈত্য হতে চলেছে, সেই সময়ে সুনীতার ব্লগ প্রতি পাতায় ভারতকে নগ্ন করে দিতে থাকে।

অন্ধকার জগৎকে নিয়ে লিখতে লিখতে জ্বলে উঠে ‘প্রজ¦লা’। সুনীতা নিজের জমানো সবকিছু বিক্রি করে প্রজ্জ্বলা’র যাত্রা শুরু করে সেখানে পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে আনা মেয়েদের আশ্রয় ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা শুরু করেন। আজ প্রজ্জ্বলা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অ্যান্টি-ট্রাফিকিং শেল্টার। সংস্থাটিতে প্রায় ২০০ জন কর্মী আছেন। প্রজ¦লা’র সবাই বেতন পান, একমাত্র সুনীতা কৃষ্ণণ ছাড়া।
এসব কিছুর মধ্যে ‘জবধষ গবহ উড়বংহঃ ইুঁ ঝবী’ নামক স্লোগান দিয়ে পুরো পৃথিবী কাঁপিয়ে তোলেন। স্লোগানটি পৌঁছে যায় বিশ্বের প্রায় ১০৮ কোটি মানুষের কাছে।
সুনীতা কৃষ্ণণ সমাজের অসহায়, অত্যাচারিত শ্রেণিকে রক্ষা করার অবদানের জন্য পদ্মশ্রী (২০১৬)সহ পেয়েছেন প্রচুর দেশি ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার। যেখানে প্রতিবাদীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে সমাজের একশ্রেণির মানুষ সর্বদা প্রস্তুত, সেখানে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, আর শক্ত মেরুদ- সুনীতাকে জয়ী করেছে প্রতিটি যুদ্ধে।


--পুনম ঘোষ