সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
হোম / ভ্রমণ / ৬৪ জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন স্থাপনার খোঁজে
০৫/০৮/২০১৯

৬৪ জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটন স্থাপনার খোঁজে

হ্যারিটেজ ট্র্যাভেলার এলিজা

-

কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে নয় নিজের জানার আগ্রহের জন্যেই এলিজা বিনতে এলাহী শুরু করেন ঘোরাঘুরি। পড়াশোনা করেছেন ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে। সেই সুবাদে জানতে পারেন গ্রিক ও ইজিপ্সিয়ান সভ্যতা ও স্থাপনা সম্পর্কে। আর তখন থেকেই এলিজা বিনতে এলাহীর আগ্রহ তৈরি হয় প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের উপরে। তিনি বিশ্বের ৪৫টির বেশি দেশ ঘুরে দেখেছেন, বিভিন্ন স্থাপনা জেনেছেন ইতিহাস ও মিশেছেন বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাথে। প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শন ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে তার দুটি বই রয়েছে। এগুলো হলো ‘এলিজাস ট্রাভেল ডায়েরি’ ও ‘এলিজাস ট্রাভেল ডায়েরি ২’। এছাড়াও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিয়মিত লিখছেন।


সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর বর্তমান অবস্থায় সেগুলোর সংরক্ষণ ও পর্যটনের গুরুত্ব তুলে ধরতে ভ্রমণে বের হয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে তিনি দেশের ৫টি বিভাগের ২৯টি জেলার প্রতœতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শেষ করেছেন। তিনি তার নিজের উপার্জিত অর্থে বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো সংরক্ষণ এবং এগুলোর প্রতি দেশ-বিদেশের আকৃষ্ট করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছেন।

শহিদ বীরোত্তম আনোয়ারা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরে ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এআইইউবি থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে এমবিএ করেছেন তিনি। পেশায় শিক্ষক এলিজা ঢাকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা থেকে শিক্ষাছুটিতে বর্তমানে নেদারল্যান্ডসের হেগ ইউনিভার্সিটি অব এপ্লাইড সায়েন্স থেকে ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশনে পড়াশোনা করছেন। প্রতœতাত্ত্বিক আকর্ষণকে তিনি তার পড়াশোনার অংশ হিসেবে যুক্ত করতে পেরেছেন বেশ সফলতার সঙ্গে, সেই সঙ্গে বাংলাদেশকেও। বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোকে কীভাবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা যায়, তা তার উচ্চতর পড়াশোনার বিষয়। কোয়েস্ট (অ্যা হেরিটেজ জার্নি ফর ডেভলপমেন্ট) নামের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে তিনি বাংলাদেশের স্থাপত্যকর্মগুলো পরিদর্শন করছেন এবং তা তুলে ধরছেন বিশ্বদরবারে। কোয়েস্ট প্রজেক্টের অধীনে তিনি বাংলাদেশের অবহেলিত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো সরেজমিনে ভ্রমণ করে লোকশ্রুতি ও ভিডিওগুলো সঠিকভাবে সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার পাশাপাশি স্থানীয় ও জাতীয়ভাবে সচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দেশের পর্যটনের তুলনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের পর্যটন অনেকটা আগ্রহী ট্রাভেলারদের জন্যই এগিয়ে যাচ্ছে। পর্যটন বিকাশে অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার অনেক কাজ করলেও পর্যটক আকর্ষণে ও দেশীয় ঐতিহ্যগত প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা রক্ষায় অনেকটাই পিছিয়ে। কীভাবে ওইসব ঐতিহাসিক ও আদি স্থাপনাগুলো রক্ষা করতে হয়, তারও প্রায়োগিক জ্ঞানের ঘাটতি আছে। আমি অনেক জায়গায় দেখেছি, মেরামতের নামে পুরাতন ভবনের গায়ে থাকা স্থাপত্য নকশা তুলে ফেলে সরাসরি সিমেন্ট লেপে দেওয়া হয়েছে। কোথাও আবার সেসব দেয়ালে ফুল-লতাপাতার টাইলস লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। তারা অনেক সময় বুঝতেই পারছে না, কী দেখতে আসে পর্যটক? এসব বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে আমি নিজে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় সরাসরি গিয়েছি; কিন্তু তারা খুব একটা সাড়া দেন নাই। বিদেশি পর্যটকদের জন্য এয়ারকন্ডিশন আর দামি দালান বানিয়ে লাভ নেই, তারাতো তাদের দেশে সেসবেই বড় হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতœতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনার বিষয়ে বিদেশিদের আগ্রহ আছে। কিন্তু পর্যটক নিয়ে আসতে পর্যটকদের নিরাপত্তা, ঐতিহ্যগুলো রক্ষা ও যোগাযোগ বাড়াতে হবে।


--অনিক চৌধুরী তপু