সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
হোম / ভ্রমণ / কেরালা ঈশ্বরের নিজের দেশ
০৫/০৮/২০১৯

কেরালা ঈশ্বরের নিজের দেশ

-

কেরালার মানুষগুলোর গায়ের রং আমাদের মতো হলেও, প্রাচুর্যে ভরপুর এরা । কেরালা এক সময় ডাচদের দখলে ছিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এতোই বেশি এখানে, আ্যনাকোন্ডা-২ ছবির শুটিংও এই কেরালাতে হয়েছিল।
এখানেই আছে সোনালি বালির সমুদ্রসৈকত। শত শত রকমের সামুদ্রিক মাছ। পাখিরা এখানে নির্বিঘ্নে চলাফেরা করে, এমনকি ভয় পাওয়া দূরের কথা, মানুষকে পাত্তাও দেয় না। আমাদের দেশের কক্সবাজারের মতো বিশাল সমুদ্র সৈকত না থাকলেও ছোট ছোট অনেক সমুদ্র সৈকত আছে এখানে ।

এখানে বলতে গেলে মোটামুটি সবাই শিক্ষিত। ভারতের এই রাজ্যে শিক্ষিতের হার সবচেয়ে বেশি। কেরালার স্হনীয় ভাষা মালাইলাম, হিন্দি জাতীয় ভাষা হলেও অনেকই হিন্দি বুঝে না, বলতেও পারে না; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই ইংরেজি জানে। এমনকি অটো ড্রাইভারও ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারে। কেরালার মানুষগুলো খুব বেশি বন্ধবৎসল না হলেও, তারা সাধারণত কাউকে বিপদে ফেলে সুবিধা আদায় করবে না ।

আর খাবারের কথা বলতে গেলে বলতে হবে, কেরালার লোকাল খাবার খাওয়া আমাদের জন্য অনেক কঠিন, যদিও এখানে অন্যান্য খাবারও পাওয়া যায়।

কোভালাম

কেরালার সবচেয়ে জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকত কোভালাম, এই কোভালামে সারাবছরই বিভিন্ন দেশ থেকে আসা টুরিস্টদের ভিড় লেগে থাকে। কোভালামেই অনেক থাকার হোটেল আছে, ভাড়া বিভিন্ন রকমের। ১,০০০ রুপি থেকে শুরু করে এর উপরে অনেক আছে। বিচের পাশেই রেস্টুরেন্টগুলোতে সমুদ্র থেকে ধরে আনা মাছ সাজানো থাকে, বললেই তারা ওটা রান্না করে দেয়; আর দামটা মোটামুটি নাগালের মধ্যেই থাকে।

বিচে টুরিস্ট পুদক্ষিণ কেরালা বা কেন্দ্রীয় কেরালা সম্পর্কিত তথ্য-

কোচিন - আপনি এখানে আসলে বেশিরভাগ সময় একই দিনে কোচিন দর্শনীয় স্থান করেন অথবা আপনি শেষ দিনে এটি করতে পারেন।

মুন্নার - মুন্নার কোচিন থেকে ১৩৫ কিলোমিটার একটি পাহাড়ী স্টেশন।

থেক্কাদি - পেরিয়ার বন্যজীবন অভয়ারণ্য থেক্কাদিতে অবস্থিত। এখানে আপনার সাহসিক ক্রিয়াকলাপ / ইকো-পর্যটন ক্রিয়াকলাপের বিকল্প রয়েছে।

অ্যালেপ্পি / কুমারকোম - হাউসবোট ক্রুজ আল্লপ্পি বা কুমারকোমে অবস্থিত, আপনি এখানে একটি অবলম্বনও থাকতে পারেন।

ত্রিভদ্রম - কেরাল রাজধানী।

কোভালাম - সমুদ্র সৈকত।লিশ থাকে, যারা আপনাকে সবসময় সাহায্য করার জন্য বসে আছে।

কন্যাকুমারী - যদি আপনার পর্যাপ্ত সময় থাকে তবে এই স্থানটি দেখার চেষ্টা করুন।

আঠিরপিলী ভঝাচল - জল পড়ার সৌন্দর্য দেখতে হলে চলে যেতে পারেন।

চেরাই - কোচিন কাছাকাছি একটি ভালো সৈকত

গুরুভয়ুর - বিখ্যাত শ্রীকৃষ্ণ মন্দির গুরুভায়ুরের।

কেরালার ঐতিহ্যবাহী আর বিখ্যাত কাঞ্চিভরন এবং সিল্ক শাড়ি। আর কেরালার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর বইচিত্রের কী চান আপনি? পাহাড়-সমতল সমুদ্র-অরণ্য-নদী-ঝরনা-চা বাগান নাকি জলপ্রপাত? সব আছে সবই পেতে পারেন দুই থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বের মধ্যেই। একই সাথে এমন সব রকম প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য ভারতের আর কোনো প্রদেশের আছে বলে আমার জানা নেই।

কেমন করে যাবেন?

ঢাকা থেকে মৈত্রী ট্রেনে করে কলকাতা, সেখান থেকে ফেয়ারলি প্লেসে গিয়ে চেন্নাই এক্সপ্রেসে করে কেরালার রাজধানী থ্রিভুবনথারাম। সময় লাগবে মোটামুটি ২দিন ২রাত, ভাড়া ১০০০ রুপি থেকে শুরু করে ৩,০০০ রুপি। রেলস্টেশনে নেমেই অটো পাওয়া যাবে, অটো ড্রাইভারকে বললেই, তারা আপনাকে কোভালাম বিচের পাশে হোটেলে নিয়ে যাবে। চাইলে কোভালাম থেকে টুরিস্ট গাইড নিতে পারেন, আবার অটো ড্রাইভারের বললে, সেও আপনাকে সব জায়গায় নিয়ে যাবে।


--হাসিনুর রেজা চঞ্চল
প্রকৌশলী ও
ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার