সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
হোম / অন্দর-বাগান / হেঁসেলের নকশা
০৫/০৯/২০১৯

হেঁসেলের নকশা

-

রান্নাঘর বলতেই কাটা, বাটা আর চুলার আঁচের কথা মাথায় আসে। রান্নাঘর প্রতিটা ঘরের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তা সে ঘর ছোটো বা বড়ো যেমনই হোক না কেন। শৌখিন বাঙালির বাঙালিয়ার স্বাদে আমরা যতই রসনা বিলাস করি না কেন হেঁসেলের অন্দরসাজে আধুনিকতার ছোঁয়া প্রতিটা রমণীই প্রত্যাশা করে। অন্দরসজ্জার ব্যাকরণে হেঁসেলের নকশা করা হয় দুটি ধরন বিবেচনা করে।

১. ড্রাই কিচেন
২. ওয়েট কিচেন

সাধারণত অফিসেই বেশি ব্যবহৃত হয় ড্রাই কিচেন। এছাড়া যাঁরা বাড়িতে দুটো রান্নাঘর ব্যবহার করতে চান, তাঁরা একটা মূল রান্নাঘরের বাইরে ওপেন বা ড্রাই কিচেন বানিয়ে নেন। যে-রান্নাঘরটি খাবার পরিবেশন, গৃহস্থালির বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, থালা-বাসন রাখা ইত্যাদি কাজেই ব্যবহৃত হয়। আর যদি খাদ্যাভ্যাসে তেল-মশলা বেশি ব্যবহৃত হয়, তাহলে শুধু ড্রাই কিচেনে চলবে না। একটা রান্নাঘরের চুলায় সব খাবার রান্না করার পর ওপেন কিচেনে এনে সেসব পরিবেশনের জন্য রাখা হয়। ওপেন কিচেন বা ড্রাই কিচেনে সাধারণত রাখা হয় ওভেন, জুসার, ব্লেন্ডার, বৈদ্যুতিক কেতলি, কফি মেকার, চপার বোর্ড, ছুরি-কাঁচি, থালাবাটি, চামচ, বেশি জায়গা থাকলে ফ্রিজ, হালকা রান্নার জন্য চুলা ইত্যাদি। ড্রাই কিচেন মূলত খাবার ঘরের সাথে একটু খোলামেলা ডিজাইন করে উপস্থাপন করলেই নান্দনিকতা শতগুণ বাড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এই কিচেনেই আমরা চাইলে চা-এর সাথে আড্ডা জমিয়ে দিতে পারি অনায়াসে।

আমরা এমন জাতি, আমাদের প্রতিটা মানুষের মনেই একজন শিল্পী বসবাস করে। আমরা আমাদের সেই শিল্পসত্তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেরাই সুন্দর করে সাজিয়ে ফেলতে পারি আমাদের রান্নাঘর। আর যদি একটু ধারণা নিয়ে পরিকল্পনা করে কাজটা করা যায় তাহলে তাক লাগিয়ে দিতে পারেন আপনার কাছের মানুষদের।

পরিকল্পনা করার সময় মাথায় রাখুন


- আপনার রান্না ঘরের আয়তন কেমন? যদি বড়ো রান্নাঘর হয় তাহলে ফ্রিজ, ওভেন, টোস্টার, ব্লেন্ডারসহ সব ধরনের ইলেক্ট্রিক সামগ্রী সাজিয়ে ফেলা যায় অনায়াসে।
- আর রান্নাঘর যদি আয়তনে ছোটো হয় সঠিক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় সাজিয়ে নিতে পারেন মনের মতো করে।
- রান্না ঘরের রং কি রকম হওয়া উচিত এটা নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যায় অনেকেই। গ্রে কালারটা সবচেয়ে উপযুক্ত এছাড়াও পছন্দের যে-কোনো গাঢ় রং ব্যবহার করা যায় ওয়েট কিচেনের ক্ষেত্রে। তবে ড্রাই কিচেনের ক্ষেত্রে হালকা রংগুলোই আভিজাত্য ফুটিয়ে তুলবে পরিপূর্ণভাবে।

এত কিছু কোথা থেকে কিভাবে সংগ্রহ করবেন?

ঢাকার গুলশান, বনানী, আর হাতিরপুলে বিশেষ অভিজাত বেন্ড শোরুম ছাড়াও কাওরান বাজারে রয়েছে বিশাল বাজার এখান থেকেই অনায়াসে সংগ্রহ করে ফেলতে পারবেন আপনার প্রয়োজনীও যে-কোনো পণ্য।
তাহলে এবার শুরু করা যাক বাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জয়গাটাকে আনন্দময় ও আকর্শনীয় করে তোলার কাজ।


--মো. রবিউল আউয়াল (রবি)
ইন্টেরিয়র ডিজাইনার,
ডায়নামিক ইন্টেরিওর