শনিবার,২৫ মে ২০১৯
হোম / রূপসৌন্দর্য / সুস্থ, সুন্দর ও মজবুত চুলের উপায়
০৫/০৯/২০১৯

সুস্থ, সুন্দর ও মজবুত চুলের উপায়

-

চুল মূলত খনিজ ও কারাটিন নামক এক ধরনের প্রোটিন দিয়ে গঠিত। চুল আমাদের স্বাস্থ্যের একটি সরাসরি প্রতিফলন। একদিনের যত্নে ক্ষতিগ্রস্ত চুল কখনই ঠিক হয় না, তার জন্য প্রয়োজন রুটিন মাফিক পরিচর্যা। আমরা অনেকেই আমাদের ত্বকের যতেœর পদক্ষেপ সম্পর্কে জানি। কিন্তু খুব কমসংখ্যক মানুষ চুলের যত্নের পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে সচেতন। সপ্তাহে দুদিন নিম্নের নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে-

সময়ের সাথে সাথে আমাদের চুলের ধরন বদলাতে থাকে। তাই দুই ধরনের শ্যাম্পু রাখা ভালো। যার মধ্যে একটি কাজ করবে ময়লা দূর করার অন্যটি করবে মশ্চারাইজিংয়ের কাজ। সব সময় ভেজাচুলে শ্যাম্পু ব্যবহার করা উচিত। শ্যাম্পু লাগানোর পর কিছুক্ষণ ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আবার আগের মতো ব্যবহার করুন। সালফেটবিহীন শ্যাম্পু ব্যবহারের চেষ্টা করুন। যদি চুলপড়াজনিত সমস্যা থাকে তবে এমন শ্যাম্পু ব্যবহার করুন যা চুলপড়া কমাতে সাহায্য করে। যদি খুশকির সমস্যা থাকে তাহলে ‘কেটোকোনযোল’ যু শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। আপনার চুলের ধরন (শুষ্ক অথবা তৈলা) বুঝে শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। কখনোই সপ্তাহে তিনদিনের বেশি শ্যাম্পু করবেন না।

কন্ডিশন

অনেকেই মনে করে থাকেন যাদের চুল তৈলা তাদের কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত নয়। এটি একটি ভুল ধারণা। শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলার পর অবশ্যই চুলে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। তবে কখনোই মাথার তালুতে কন্ডিশনার ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে মাথার তালু তৈলা হয়ে যায়।
কন্ডিশনার ব্যবহারের সময় চুলের শেষের দিকে অর্থাৎ চুলের আগার দিকে বেশি লাগাতে হবে। ২ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে একদিন ব্যবহার করুন। যদি চুল রুক্ষ হয়ে থাকে তাহলে সপ্তাহে দুদিন ব্যবহার করতে পারবেন।

রিনস

এই পদ্ধতটি অনেকের কাছেই নতুন। তবে কয়েক বছর ধরে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এটি মূলত শুষ্ক ও সাধারণ ত্বকের অধিকারীদের জন্য বেশ উপকারী। বিশ্বের অন্যান্য দেশের সুপার মার্কেটগুলোতে হেয়ার রিনস কিনতে পাওয়া যায়।
ঘরে তৈরি হেয়ার রিনস রেসিপি :
-১০ টেবিল চামচ পানি
-২ টেবিল চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনেগার
-সামান্য পরিমাণ হারবাল এসেনসিয়াল তেল,
সবগুলো একসাথে ভালোভাবে মিশিয়ে ফেলুন।


রেসিপি-২ :

একটি মগে ২টেবিল চামচ পরিমাণ গ্রিন টি নিন। এবার ফুটন্ত গরম পানি ঢালুন এবং ঢেকে রাখুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে ছেকে নিয়ে পানি ব্যবহার করুন।
শ্যাম্পু ও কন্ডিশনারের পর এটি ব্যবহার করতে পারবেন অথবা শুধুমাতে শ্যাম্পু পর এটি ব্যবহার করে চুল ধুয়ে ফেলতে পারেন। এটি মাথার ত্বকের পিএইচ ব্যালেন্স ঠিক রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখে। ঠিক যেভাবে টোনার আমাদের মুখের ত্বকের কাজ করে।

এই পদ্ধতিটি বাধ্যতামূলক নয়, তবে বেশ উপকারী। সপ্তাহে একবার ব্যবহার করা ভালো।

সাপ্তাহিক

সপ্তাহে অন্তত একবার চুলে একটি মাস্ক অথবা ট্রিটমেন্ট অথবা ডিপ ম্যাসাজ নেওয়ার চেষ্টা করুন। এগুলো আপনার চুলে পুষ্টি ও ব্লাড সার্কুলেশনে সাহায্য করবে। নারিকেল তেল, জোজোবা তেল এবং অলিভ ওয়েল চুলের জন্য বেশ উপকারী। তবে যদি চুলে কোনো ধরনের সমস্যা থাকে যেমন খুশকির জন্য নিমতেল, চুলপড়া বন্ধের জন্য পেঁয়াজের তেল ব্যবহার করা ভালো। অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে তেল দিয়ে চুল ধোয়ার আগে ভালোভাবে ম্যাসাজ নেওয়া জরুরি। যদি চুল রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে থাকে তাহলে সারারাত চুলে তেল লাগিয়ে সকালে শ্যাম্পু করে নিতে পারেন।
চুলে তেল দেওয়ার পর চুল আঁচড়িয়ে নেওয়া ভালো, তবে কখনোই ভেজাচুল আঁচড়ানো উচিত নয়। এতে করে চুল পড়া শুরু হতে পারে।

স্বাস্থ্যসম্মত খবার খান, বিশ্রাম নিন এবং চুলের যত্ন নিন।

ফারজান মিতু
চুল ও ত্বক স্পেশালিস্ট
উদ্যোক্তা, এনভি কসমেটিকস