শনিবার,২৫ মে ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / সন্তানকে রান্না শেখান
০৫/০৬/২০১৯

সন্তানকে রান্না শেখান

-

সন্তান বড়ো হতে থাকার সাথে সাথে আজকাল প্রায় সব বাবা-মাই আগ্রহ করে সন্তানকে নতুন কিছু শেখান। কেউ বই কিনে দে তো কেউ ভর্তি করান আর্ট স্কুলে। কিন্তু কিছুদিন পরেই তাকে কলেজ পাস করে চলে যেতে হয় বহুদূর। কেউ পাড়ি জমান রাজধানী, কেউবা হলে থেকে পড়াশোনা করেন, বিদেশে যাবার নজিরও কম নেই। আর তখন আপনার হাস্যোজ্জ্বল শিশুটি পড়ে যায় দারুণ বিপাকে। একলা থাকবার কোনো রকম অভ্যাসই যে তার গড়ে উঠেনি!

হল, হোস্টেল বা সাধারণ হোটেল, ব্যাচেলর লাইফে যেখানেই খেতে হোক, খাবার মান কোথাওই এখনও তেমন ভালো হয়ে উঠেনি। আর বাড়তি খরচের ব্যাপারে তো বলাই বাহুল্য। অথচ, বাড়ি ছাড়বার আগেই আপনার সন্তান যদি রান্নাবান্না করতে জানতো, তাহলে তার স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে শুরু করে জীবনমান, সবকিছুরই উন্নতি হতো। তারচেয়েও বড় কথা, একা থাকবার শক্তি অর্জন করতে পারত সে সহজেই।
রান্না শিখতে গেলেই যে খুব দারুণ কিছু, অথবা কঠিন কিছু শিখতে যেতে হবে, তা কিন্তু নয়। রান্না শেখানোর হাতেখড়ি হোক একেবারে দৈনন্দিন খাবারেই।

ভাত

ভাত ছাড়া টেবিলে বসবে এমন বাঙালি কম আছেন। ফাস্টফুডের কারণে দিন যতই বদলাক, ভাতের কাছে ফেরত যেতেই হবে। আর তাই আপনার সন্তানকে রান্না শেখানোর ক্ষেত্রে ভাতের অগ্রাধিকার পাওয়াই উচিত।
ডিমভাজি
স্বয়ং সাকিব আল হাসান ও যখন ইংল্যান্ডের মাটিতে গিয়ে ভাত-ডিমভাজি খান, ডিমভাজি শেখাটাই তাই বাঞ্ছনীয়। তাছাড়া, তেলজাতীয় রেসিপির হাতেখড়ি ডিমভাজি তো হওয়াই সব থেকে ভালো। এতে যদি গায়ে ফোস্কা পড়ার সম্ভাবনা থেকেও থাকে, ভয় পাবেন না, বরঞ্চ সন্তান পরে একা একা শিখতে গেলেই ঝামেলা বেড়ে যেতে পারে।

আলুভর্তা

সব থেকে সহজ অথচ দারুণ মজাদার রেসিপি হলো আলুভর্তা। সন্তান রান্না শিখতে গিয়ে কিছুটা হতাশ হয়ে পড়লে তাকে শেখাতে পারেন এই সহজ রেসিপিটি। একটা কিছু পূর্ণভাবে শেষ করতে পারলে সে আবার উদ্দীপ্ত হবে নিশ্চিত।

খিচুড়ি

কেবল ভাত-ডাল খেতে খেতে আপনার সন্তান্ অতিষ্ঠ হয়ে যেতে পারে ভেবে তাকে শেখানো চাই খিচুড়িও। ছুটির দিনে ঘুম থেকে উঠে যেন সে সহজেই দিনটা উপভোগ শুরু করতে পারে খিচুড়ির ঘ্রাণে। তাছাড়া ভাত আর ডালের পরিমাপে এখানেই তার অনুপাতের পাঠটাও নেওয়া হয়ে যাবে সহজেই।

ডাল

এবার অবধারিতভাবেই ডাল চলে আসে শেখাবার লিস্টে। তাতে তেল, নুনের প্রয়োজনটাও সে বুঝে যাবে সহজেই। আর ডাল চচ্চড়ি, ডালভর্তা, ঘন বা পাতলা ডালে তার খাদ্যাভাসে বৈচিত্র্য আনাও বেশ সহজ হবে।
এরপরেও যদি সন্তান আগ্রহ প্রকাশ করে এবং শিখতে থাকতে চায়, খুলে দিন আপনার সব রহস্য আর শৈলীর ঝুড়ি, আপনার ছেলেটি বা মেয়েটিকে বানিয়ে নিন রান্নাঘরের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।
সন্তানকে যদি দূরে পাঠাবার ইচ্ছে নাও থাকে, স্বনির্ভর হবার এই যোগ্যতাটুকু তার ভেতরে থাকা বাঞ্ছনীয়। আর কে জানে, হয়তো আপনারই শারীরিক অসুস্থতার সময় সে দুই চারদিন দারুণ রান্না করে আপনাকেই সহায়তা করতে পারবে।
এছাড়াও, নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি আর করপোরেট কালচারের যুগে, আমাদের রান্নার শৈলী দিন দিন হারাবার পথে। ইউটিউবের অল্প কিছু চ্যানেল আর রেসিপিতেই সীমাবদ্ধ সব জ্ঞান। তাই, ছেলে এবং মেয়ে উভয় সন্তান কেউ যদি আপনার গোপন রেসিপিটি আজই না শেখান, তাহলে কিন্তু পরবর্তী প্রজন্মও সেই স্বাদ থেকে বঞ্চিত হবে!
তাই বলছিলাম, আপনার সন্তানকে রান্না শেখানো শুরু করুন, আজই!



--শাফায়েত হোসাইন
মডেল: নভেরা ও আশফি
ছবি : তানভীর আহমেদ