শুক্রবার,১৯ Jul ২০১৯
হোম / সম্পাদকীয় / সুখ তুমি কী বড় জানতে ইচ্ছে করে
০৫/০১/২০১৯

সুখ তুমি কী বড় জানতে ইচ্ছে করে

-

মান্না দে’র একটি ক্লাসিক গান আছেÑসবাই তো সুখী হতে চায়, তবু কেউ সুখী হয় কেউ হয় না। রুনা লায়লা গেয়েছেনÑসুখ তুমি কী বড় জানতে ইচ্ছে করে। এসব গানের কথার মূলে রয়েছে সুখের প্রতি মানুষের চিরকালীন হাহাকার।
শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যেও আমরা সুখী হওয়ার সূত্র খুঁজি। আনন্দ-উৎসবের উপলক্ষ খুঁজি। চারদিকে ঝড়-ঝঞ্ঝা; কিন্তু আমরা উটপাখির মতো সমুদ্রের বালুকাবেলায় মুখ গুঁজে থাকতে ভালোবাসি। এই মানসিকতা আসলে একটি মানুষের চতুর্পার্শে¦র বিভিন্ন চাপ থেকে নিষ্কৃতির একটি উপায় মাত্র। প্রশ্ন হলো-সুখ বা শান্তি কি বস্তুবাদী কোনো বিষয়?

বস্তুবাদী জগতে প্রায় সব ধরনের মানুষ এক ধরনের গভীর হতাশার মধ্যে দিয়ে দিন পার করে। অনেকে হতাশা থেকে প্রচুর শপিং করেন। অনেকে নিজেকে ব্যস্ত রাখেন সাজসজ্জার মাধ্যমে। পয়লা বৈশাখও এখন নিজেকে উৎসবে ব্যস্ত রাখার একটি উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। এককালে এটা ছিল সম্রাট আকবরের ফসলি সন তথা অর্থবছর। এখন অবশ্য আমাদের রাষ্ট্রের কর্মপরিধির মধ্যে বাংলা সনের বিশেষ কোনো স্থান নেই। যদিও স্বাধীন বণিকমহলে কোথাও কোথাও পয়লা বৈশাখে এখনো হালখাতা খোলা হয়। তবে ঐতিহ্যের ধারা বজায় রেখে পয়লা বৈশাখ এখন আমাদের সবচাইতে বড় অসম্প্রদায়িক উৎসব। এই উৎসবে এবার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার কেনাকাটা হয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে বাংলা নববর্ষকেন্দ্রিক আমাদের বাজারটা ক্রমশ বড় হয়ে উঠছে।

অনন্যা’র এবারের সংখ্যাটির অন্যতম বিষয় শবে বরাত। শবে বরাতকে বলা হয় হাজার রজনীর চেয়ে শ্রেষ্ঠ রজনী। শবে বরাতের সময় হালুয়া-রুটি বানানো এবং বিতরণ করার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার একটি ঐতিহ্য আছে আমাদের দেশে। এর সঙ্গে সামাজিকতা রক্ষার বিষয়টিও জড়িত বলে মনে করেন অনেকে। শবে বরাতের বিভিন্ন রেসিপির পাশাপাশি চলতি সময়ের বিষয়াদিও তুলে ধরা হয়েছে অনন্যা’র এবারের সংখ্যায়। এই সকল ব্যস্ততার মধ্যেই নিয়ম করে প্রকাশিত হচ্ছে অনন্যা।
দুঃখজনকভাবে এক বিষম সময়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সময় ও মনমানসিকতা যেন হারিয়ে ফেলছি আমরা। কোথাও আগুন লাগলে কিংবা দুর্ঘটনা ঘটলে আমরা সেলফি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইক-কমেন্টের কাঙাল হয়ে পড়ি। আমরা এভাবেই সুখী হতে চাইছি।
এটা অত্যন্ত অ্যালার্মিং। যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্যান্টোস মনে করেন, সুখী হওয়া বিষয়টি এমন নয় যে, এটা আপনাআপনি হয়ে যাবে। সুখী হওয়ার জন্যে মানুষকে এটার চর্চা করতে হয়। এটা অনেকটা ভালো সংগীতশিল্পী বা ক্রীড়াবিদ হয়ে ওঠার মতোই। অর্থাৎ সাফল্যের জন্য যেমন চর্র্চা করতে হয় তেমনি সুখী হওয়ার জন্যও সেই চর্চাটা জরুরি। একই সঙ্গে মনের আত্মতৃপ্তি লুকিয়ে আছে পরার্থে কাজ করার মধ্যে।
সুতরাং যাপিত জীবনকে আরো সুন্দর করে তোলার জন্য চর্চা করুন সুখের। চেষ্টা করুন নিজ নিজ পরিসরে অন্যের পাশে দাঁড়াতে।


--তাসমিমা হোসেন