সোমবার,২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯
হোম / ফ্যাশন / রঙিন টিপ আর মাটির গয়না
০৪/১৯/২০১৯

রঙিন টিপ আর মাটির গয়না

-

একটা সময় কপালে ছোট্ট একরঙা টিপে অসম্ভব মায়াবতী হয়ে যেতেন যে-কেউ। দিন বদলেছে। টিপের নকশায় এসেছে বৈচিত্র্য। একরঙা টিপগুলোর পাশাপাশি এখন সকলের পছন্দের তালিকায় যুক্ত হয়েছে নকশা টিপ। কখনো একরঙা টিপে তুলির আঁচড়ে উঠে আসছে দারুণ কোনো নকশা আবার কখনওবা কপাল দখল করে নিচ্ছে প্রজাপতি, পাখি, পাতার ছোট্ট চার্ম। টিপে মেটাল, কড়ি, পুতি এবং ঝুমকার নকশার প্রচলনও নজর কেড়েছে।
কোথায় পাবেন, দাম পড়বে কত?

যে-কোনো প্রসাধনী দোকানে পেয়ে যাবেন একরঙা টিপ। দাম পড়বে মাত্র ১০ থেকে ২০ টাকা। একটু ভালো আঠাযুক্ত টিপ কিনতে চাইলে চলে যান চকবাজার কিংবা শাঁখারিবাজার। বিভিন্ন অনলাইন শপেই এখন আলপনা করা টিপ পাওয়া যায়। যেমন নকশা টিপের একটি অনলাইন প্রতিষ্ঠান ‘সরলা’। কর্মজীবী নারী মনসুরা স্পৃহা শখের বসে টিপে নকশা আঁকার কাজ শুরু করেছিলেন। তার নকশা ও উপকরণের ওপর নির্ভর করে টিপের দাম নির্ধারণ করা হয়। গড়ে টিপগুলোর দাম পড়ে ২০ থেকে ৫০ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন প্যাকেজে টিপের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে টিপের পাতার দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। সামনে আসছে পহেলা বৈশাখ। ঐতিহ্য আর বাঙালিয়ানায় নিজেকে সাজাতে অনুষঙ্গের তালিকায় টিপ রাখছেন তো?

মাটির গয়না

লাল পাড়ওয়ালা সাদা শাড়ি, কপালে টিপ আর পোড়ামাটির গয়না এই যেন বাঙালিয়ানা। বহু বছর আগে থেকেই গয়না তৈরিতে মাটির ব্যবহার হয়ে আসছে। কানের দুলের সঙ্গে সঙ্গে গলার মালা, চুড়ি, বালা সবকিছুই তৈরি হয় মাটি দিয়ে। মাটির তৈরি এসব গয়নায় ব্যবহার করা হচ্ছে বর্ণিল আলপনা।


খোঁ জ খ ব র

পিরান, অরণ্য, আড়ংসহ দোয়েল চত্বর এবং গাউছিয়া, নিউমার্কেটের বেশকিছু দোকানে মাটির কানের দুল, মালা ও বালা পাওয়া যায়। মাটির এসব গয়নার দামও খুব বেশি নয়। শোরুমগুলোতে কানের দুল বা ঝুমকার দাম ১০০ থেকে ৩০০ টাকা, মালা ৩০০ টাকা থেকে ৭০০ টাকা, বালা ৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাবে। অন্য দোকানে বা ফুটপাতে এসব গয়নার দাম পড়বে ৩০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত।

উপহারে থাকুক দেশজভাব

নতুন বছর উপলক্ষে বাঙালিরা প্রিয়জনকে নানান সামগ্রী উপহার দিয়ে থাকে। আর তা অবশ্যই হতে হবে পুরোটাই দেশজ ঐতিহ্যে ভরপুর। হতে পারে পোশাক, গয়না ও অন্যান্য উপহার সামগ্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লুবনা বলেন, ‘পহেলা বৈশাখের উপহার নির্ভর করে প্রিয়জনের সাথে সম্পর্কের উপর। আমি সবসময় উপহার কেনার সময় দেশের ঐতিহ্য বজায় থাকে, এমন উপহারই কিনে থাকি। এবার আমি আমার বন্ধুদের জন্য দেশীয় কাপড়ের ফতুয়া কিনেছি, তাদের দেওয়ার জন্য। আবার আমার কাজিনদের জন্য কিনেছি কিছু দেশীয় ঐতিহ্যের গয়না। কেননা বাঙালি ললনাদের পছন্দ দেশীয় গয়না ও শাড়ি।’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ছাত্রী আশরাফী তিশা বলেন, ‘বৈশাখ এমনিতেই অনেক রঙে রঙিন। উপহার পেয়ে ও দিয়ে এই সময়গুলো মানুষের জীবন অনেক রঙিন হয়ে উঠে। তা সে যে-কোনো ধরনের উপহারই হোক না কেন। আবার কার্ডও দেওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন নান্দনিক ডিজাইনের হাতে তৈরি কার্ড পাওয়া যায় বাজারে। সেই সাথে দেশীয় ফ্যাশন হাউসগুলো বাংলা নববর্ষে ক্রেতাদের রাঙাতে নানা আয়োজন করে থাকে। অনেক হাউস আবার বিভিন্ন গিফটহ্যাম্পার বানিয়ে বিক্রি করে।’

করপোরেট বৈশাখ

প্রতিটি করপোরেট অফিসের কাছে বাঙালির উৎসবে একাত্মতা প্রকাশের প্রধান মাধ্যম পয়লা বৈশাখ। পয়লা বৈশাখে উপহারের মাধ্যমে তারা নিজেদের পরিচিতিও তুলে ধরে। তা হতে পারে খেলনা টমটম গাড়ি, চরকা, সুন্দরবনের গাছপাকা তেঁতুল, মধু, তিলের খাজা, আমলকীর মতো সামগ্রী। এতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদেরও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা গেল, খাঁটি দেশি পণ্যের মাধ্যমে উপহারের নান্দনিকতাও ফুটে উঠল। এছাড়া পহেলা বৈশাখে করপোরেট অফিসগুলো একটি থিম বা নির্দিষ্ট বিষয়ও বেছে নিতে পারে। যেমন উপহার হিসেবে একটি গাছের চারা বা বনসাই পাঠিয়ে দেওয়া যেতে পারে। প্রতিদিন একটু সবুজের কথা মনে করিয়ে দেবে এটি। একইভাবে যদি একটু পুদিনাপাতা পাঠান, সেটি মনে করিয়ে দেবে, প্রতিদিন দুটি পুদিনাপাতা খেলে পেট ভালো থাকে। সুস্থ থাকাই যে সুন্দর থাকা, এই বার্তাই নাহয় আরেকবার পৌঁছে দিলেন পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা হিসেবে।

বাজার ঘুরে

রাজধানী ঢাকার বড় বাজারগুলোতে একটু ঘুরলেই পেয়ে যাবেন উপহার দেওয়ার বিশেষ সামগ্রীসমূহ। নিউমার্কেট, আজিজ মার্কেট, এলিফ্যান্ট রোড, হাতিরপুল মোড়, শাঁখারীবাজারের মতো পুরোনো জায়গাগুলোতে পেয়ে যাবেন উপহারের কাগজের প্যাকেট, বাঁশের ঝুড়ি। দাম পড়বে ১০ থেকে শুরু করে ১০০ টাকার মতো। পুতুল পাবেন চারুকলা, এছাড়া দেশজ নকশাকরা মাটির নানা তৈজসপত্র বা শোপিস পাবেন শিশু একাডেমি সংলগ্ন মার্কেট ইত্যাদি স্থানে।


-নবনীতা নব