শনিবার,২৫ মে ২০১৯
হোম / ফ্যাশন / বৈশাখে কাচের চুড়ি লাগবে?
০৪/১৯/২০১৯

বৈশাখে কাচের চুড়ি লাগবে?

-

বাঙালির প্রাণের উৎসব বর্ষবরণ। আর বছরের এই প্রথম দিনটিকে বরণ করে নিতে আমাদের থাকে নানাআয়োজন। লাল, সাদা শাড়ি, খোঁপায় ফুলের মালা আর দুই হাতভর্তি চুড়ি ছাড়া বৈশাখী সাজটা যেন মানায় না।

খোঁ জ খ ব র

রাজধানীর বিভিন্ন মার্কেটে রিনিঝিনি কাচের চুড়ি কিনতে পাওয়া যায়। নতুন শাড়ির সাথে আপনার পছন্দসই কাচের চুড়ি কিনতে হলে আপনি যেতে পারেন। চাঁদনীচক, গাউছিয়া, নিউমার্কেট, মৌচাক, আনারকলিসহ আরো বিভিন্ন শপিং মলগুলোতে। এছাড়া ইডেন কলেজ, গার্হস্থ্য, অর্থনীতি কলেজ, ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা, কলাভবন, রোকেয়া হলসহ আবাসিক অন্যান্য ছাত্রী হলের সামনে বৈশাখের কয়েকদিন আগে থেকেই চুড়ির পশরা বসে। এসব স্থান থেকেও আপনার বৈশাখের সাজের কাচের চুড়ি সংগ্রহ করতে পারেন।

দ র দা ম
বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে একরঙা রেশমি চুড়ি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকা ডজন। কাচের উপর মিনা করা লাল ও সোনালি চুড়ি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ডজনে বিক্রি হচ্ছে। দুইরঙা কিংবা বিভিন্ন রঙের মিশ্রণে মিনাকরা চুড়ির দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা ডজন। কাচের চুড়িতে নকশাকরা একটু চুমকি বসানো চুড়ির সেটও বাজারে পাওয়া যায়। যার দাম পড়বে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। বিভিন্ন রঙা জোড়া বালার দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা। এক রঙের কুন্দন বসানো বালা প্রতি জোড়ার দাম ৮০ থেকে ৯০ টাকা।

আলতারাঙা বৈশাখ

কটা সময় বাঙালিয়ানা সব আয়োজনে আমাদের এখানকার মেয়েদের আলতার ব্যবহার ছিল এক রকম অলিখিত নিয়ম। কালক্রমে তা হারিয়ে গেছে আমাদের মাঝ থেকে। কিন্তু আলতার রং একেবারে যে মুছে যায়নি আমাদের বৈশাখের আয়োজনে দেখা যায় এই আলতার নকশি ব্যবহার। পায়ে আলতা মেখে একসময় গ্রামের বিভিন্ন উৎসবে মেয়েদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কালে কালে আলতা তার পুরোনো ঐতিহ্য হারিয়ে ফেললেও এখনো আমাদের জাতীয় অনুষ্ঠান পহেলা বৈশাখ, পূজা কিংবা বিয়ের আয়োজনগুলোতে আলতার ব্যবহার দেখা যায় পুরোনো দিনগুলোর মতোই। এছাড়াও এখনো নানানাচের অনুষ্ঠানে মেয়েদের পায়ে ঘুঙুরের সাথে আলতার মিতালি দেখা যায়। আসছে পহেলা বৈশাখ। তাই এখন মেয়েদের সাজসজ্জার তালিকায় আলতার নামটিও যে রঙিন অক্ষরে লেখা আছে তা হলফ করে বলা যায়। আর এর কারণ হলো বৈশাখী সাজসজ্জায় আলতা না হলে সৌন্দর্য যেন সম্পূর্ণ হয় না। এ নিয়ে কথা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী নীলিমার সাথে। যিনি আলতা কেনার জন্য এসেছিলেন নিউ মার্কেটের চাঁদনি চকে। এ নিয়ে নীলিমা বলেন, ‘প্রতিবারেই আমি পহেলা বৈশাখের আগে আলতাসহ আরো অনেক জিনিসপত্র কিনি। তবে পহেলা বৈশাখ উদ্যাপনে আলতা আমার চাই-ই চাই। বৈশাখে পায়ে আলতার কারুকাজ এক ভিন্ন অনুভূতি দেয়।’ বৈশাখে আমাদের বাঙালি মেয়েদের সাজের এই পণ্যটি আলাদা মাত্রা যোগ করে। এ প্রসঙ্গে এলিফ্যান্ট রোডের এক বিয়ের দোকানের মালিক সাব্বির হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন দেখেছি, আমাদের সমবয়সী কিংবা আমাদের চেয়ে বড়ো বড়ো মেয়েরা আলতা পরে বিভিন্ন আয়োজন উদ্যাপন করতেন। এখন আর তা দেখা যায় না। তবে প্রতিবার পহেলা বৈশাখ এলে মনে হয় আমরা আবার সেইসব দিনে ফিরে এসেছি। এর কারণ শুধু এই সময়টাতে আলতার চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেই মনে হয়।’ যখনই দোকান মালিক সাব্বির সাহেবের সাথে কথা হচ্ছিল, ঠিক সে সময় আলতা কিনতে দোকানে এসেছিলেন ১৪ কি ১৫ বয়সের মৌ। সে এসেছে তার মায়ের হাত ধরে।

খোঁ জ খ ব র

আলতার চাহিদা দিন দিন কমতির দিকে যাওয়ার ফলে সব মার্কেটে আলতা পাওয়া যায় না। তবে ঢাকার নিউমার্কেটের চাঁদনি চক, পুরান ঢাকার চকবাজার, এলিফ্যান্ট রোডের বিয়ের সামগ্রীর দোকানগুলোতে আলতা পাওয়া যায়। তবে এর বাইরেও বিভিন্ন প্রসাধনী দোকানগুলোতেও আলতা পাওয়া যায়।

দ র দা ম

দামের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মার্কেটভেদে বিভিন্ন দামের হয়ে থাকে আলতা। তবে আলতার আকারের উপর দাম সবচেয়ে বেশি উঠানামা হতে পারে। সাধারণত বিভিন্ন আকারভেদে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দামের মধ্যে ভালো আলতা পাওয়া যাবে এই মার্কেটগুলোতে কিংবা প্রসাধনী দোকানগুলোতে।

-নবনীতা নব