মঙ্গলবার,২২ অক্টোবর ২০১৯
হোম / খাবার-দাবার / রেসিপি-মিষ্টির স্বাদে
০৪/১৩/২০১৯

রেসিপি-মিষ্টির স্বাদে

-

বাঙালির ঐতিহ্যে মিষ্টান্ন অন্যতম। আর বৈশাখ আসছে বাড়িতে মিষ্টান্ন হবে না তা কি করে হয়। অতিথি আপ্যায়নে খাবারের শেষে মিষ্টি তো লাগেই। তাই এবার মিষ্টান্নের ৪টি রেসিপি দিয়েছেন রোয়েনা মেহজাবিন।

চুই পিঠা

উপকরণ

রেডিমেড চুই পিঠা প্যাকেট (সুপার শপে পাবেন)
তরল দুধ ১.৫ লিটার
কন্ডেন্সড মিল্ক ১/৩ কাপ
চিনি স্বাদমতো
এলাচ ৩ টা
দারুচিনি ২ টা
তেজপাতা ১ টা
বাদাম (যেকোনো)- ২০/৩০ গ্রাম

প্রণালি

প্রথমে চুই পিঠা গুলিকে ফুটন্ত পানিতে সিদ্ধ করে ঝাঁঝড়িতে দিয়ে পানি ঝরিয়ে নিতে হবে। বাদাম ভেজে ভেঙে নিন। এবার একটি হাঁড়িতে দুধ ও গরম মশলা দিয়ে জ্বাল দিন। নেড়ে নেড়ে দুধ টা কিছুটা ঘন করুন। দুধ কমে ১ লিটারে নেমে এলে এতে সিদ্ধ চুই পিঠা, কন্ডেন্সড মিল্ক ও চিনি দিয়ে আরো কিছুক্ষণ রান্না করুন। এবার দুধ আরো ঘন হয়ে সুন্দর গন্ধ ছড়ালে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন এবং উপরে বাদাম কুচি দিয়ে পরিবেশন করুন।

পায়েশ

উপকরণ

বিন্নি চাল ২,৩ কাপ
তরল দুধ ২ লিটার।
চিনি ২ টেবিল চামচ।
খেজুরের গুড় দেড় কাপ/স্বাদমতো।
এলাচ ৩টি।
দারুচিনি ১টি
তেজপাতা ১টি
কাজুবাদাম পরিবেশনের জন্য।
নারিকেল কুড়ানো আধা কাপ
ঘি ১ টেবিল চামচ।

প্রণালি

চাল ধুয়ে ডুবো পানিতে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। তারপর ডুবো পানিতে চাল সিদ্ধ করে পানি ঝরিয়ে নিন। একটি ননস্টিক পাত্রে দুধ, সিদ্ধ চাল, চিনি, এলাচ, দারুচিনি এবং তেজপাতা দিয়ে জ্বাল দিন। দুধ ফুটে উঠলে চুলার আঁচ কমিয়ে নেড়েচেড়ে রান্না করতে থেকে দুধ ঘন হয়ে অর্ধেক হয়ে আসতে থাকুক। ততক্ষণে অন্য চুলায় অন্য পাত্রে ঘি গরম করে এতে কুড়ানো নারিকেল ভেজে নিন। দুধ ঘন হয়ে অর্ধেক হয়ে গেলে ঘি’য়ে ভাজা নারিকেল দিয়ে নাড়–ন। আর নামানোর আগে গুড় দিন। গুড় মিশে গেলে পায়েশ নামিয়ে উপরে বাদাম ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

কমলার স্বাদে জিলাপি


উপকরণ

ময়দা ১ ও ১/২ কাপ
কর্ন ফ্লাওয়ার ২ টেবিল চামচ
টক বা মিস্টি দই ১/২ কাপ
ইস্ট ২ চা চামচ
ঘি ১ ও ১/২ চা চামচ
কমলার রস- ১ টেবিল চামচ
লেমন রাইন্ড ২ চা চামচ (বা দুটি লেবুর)
চিনি (১ চা চামচ)
বেসন ১/৩ কাপ বা কিছু বেশি
খুব হালকা গরম পানি ১ কাপের কিছু বেশি।
ফুড কালার লেমন ইয়েলো (২ ড্রপ করে)
তেল ভাজার জন্যে

সিরার জন্যে
চিনি ২ কাপ
পানি ১ ও ১/৪ কাপ
কমলার রস ১/২ কাপ

প্রণালি

প্রথমে বেসন বাদে বাকি সব ড্রাই উপাদানগুলি একসাথে চালনিতে চেলে নিয়ে মিশিয়ে নেবেন। পরে পুরটা দই ও পানি ধাপে ধাপে দিয়ে নেড়ে নেড়ে খুব মসৃণ একটি ব্যাটার তৈরি করে নিন। এবার এটিকে ৩০ মিন থেকে ১ ঘণ্টা গরম জায়গায় রেখে দিন।
এর মধ্যে শিরার উপাদানগুলি মিলিয়ে চুলায় দিন। জাল দিয়ে ঘনত্ত দেখে নিন। এক ফোটা শিরা চামচ থেকে দুই আঙুলে নিয়ে চেপে ছেড়ে দিলে দেখবেন এক সুতার মত লাইন হয়েছে। বেশ আঠালো হবে। এবার এই শিরা ঠান্ডা করুন।
অন্যদিকে ব্যাটার এক ঘণ্টা পর ফুলে ঊঠলে এতে বেসন মিলিয়ে ঘনত্ব পরীক্ষা করুন প্রয়োজনে সামান্য পানি বা আরও বেসন যা প্রয়োজন হয় দিন। এবার একটু ছিদ্র ওয়ালা সস এর বোতল বা ছোট রাউন্ড টিপ নজেল দিয়ে ব্যাগ রেডি করুন।
কড়াইতে তেল পর্যাপ্ত গরম হলে জিলাপি প্যাঁচ করে ছাড়–ন। সময় নিয়ে ভাজুন। হাল্কা রঙ হলেই উঠিয়ে তেল ঝেরে শিরার হাঁড়িতে দিয়ে দিন। এভাবে ৫/১০ মিন শিরাতে রেখে তুলে ফেলুন।
চাইলে শিরাতেও সামান্য ফুড কালার দিতে পারেন।

মাওয়া লাড্ডু


উপকরণ

বুন্দিয়ার জন্যে
বেসন ২ কাপ
তেল ২ কাপ
খাবার সোডা ১/৪ চা চামচ
জাফ্রান রঙ ১/৪ চা চামচ
চিনি ২ কাপ
পানি দেড় কাপ
রোজ এসেন্স কয়েক ফোঁটা
মাওয়ার জন্যে
ময়দা ২/৩ কাপ
গাঢ় ঘন দুধ ১ কাপ
ঘি ২ চা চামচ
গুঁড়া দুধ ১ কাপ

প্রণালি

প্রথমে বুন্দিয়ার জন্যে পানি ও চিনি দিয়ে ঘন আঠালো শিরা তৈরি করে নিতে হবে। শিরাতে জাফ্রান রঙ মিশিয়ে নিন। এবার বেসন ও সোডা পানি দিয়ে ঘন করে গুলিয়ে নিতে হবে। ঘনত্বটা এমন হবে যাতে গরম তেলে অল্প বেসন ছাড়লে তা ভেসে উঠে। এবার কড়াইতে তেল গরম করে চুলার আঁচ বাড়িয়ে ঝাঁঝড়ি দিয়ে বুন্দিয়া তেলে ফেলতে হবে। বুন্দিয়ে হয়ে গেলেই সেগুলি তেল থেকে তুলে সিরাতে ডুবিয়ে দিতে হবে।এতে অল্প রোজ এসেন্স দিয়ে দিন। সিরাতে বুন্দিয়া বেশ কিছুক্ষণ রাখতে হবে যাতে বুন্দিয় পুরো সিরাটা টেনে নেয়।
মাওয়া তৈরি করতে প্রথমে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে এতে ঘি দিয়ে ক্রমাগত নাড়তে হবে। দুধের ঘন ভাব হলে এতে ময়দা ও গুঁড়া দুধ দিয়ে নেড়ে জমাট বাঁধলেই নামিয়ে খামির তৈরি করে নিতে হবে। এবার মাওয়া গোলাকার করে পাস্টকে পেঁচিয়ে ফ্রিজে রাখতে হবে ১ ঘণ্টা।
সবশেষে এবার জমাট বাধা মাওয়া নামিয়ে গ্রেটারে গ্রেট করে নিন। অন্যদিকে বুন্দিয়া হাত দিয়ে আধা ভেঙে গ্রেট করা মাওয়ার সাথে ভালো মতো মিশিয়ে নিন.