সোমবার,২২ এপ্রিল ২০১৯
হোম / স্বাস্থ্য-ফিটনেস / ইয়োগার ৩টি আসন
০৪/১০/২০১৯

ইয়োগার ৩টি আসন

-

দেহের প্রতিটা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পেশী হাড় অস্থিসন্ধি ও রক্তসংবহনতন্ত্রের পরিমিত সঞ্চালন ও সক্রিয়তা রক্ষার অনন্য মাধ্যম হিসেবে ইয়োগা বা যোগব্যায়াম তুলনাহীন। যোগব্যায়ামের বিভিন্ন আসনগুলো চর্চার জন্য আপনার ঘরের স্বল্পপরিসর মেঝে বা আপনার বিছানাটাই এক্ষেত্রে যথেষ্ট। যোগব্যায়ামের মাধ্যমে দেহ ও মনের স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য সহজেই ধরে রাখা যায়। তাই পাঠকদের জন্য এমনই তিনটি ইয়োগার আসন নিয়ে এবারের আয়োজন।

ভুজঙ্গাসন

আসন অবস্থায় দেহটি অনেকটা সাপের মতো দেখায় বলে আসনটির নাম ভুজঙ্গাসন বা সর্পাসন

পদ্ধতি : পা দু’টো সোজা করে সটান উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। পায়ের পাতার উপর দিকটা যতদূর সম্ভব মুড়ে মেঝেতে রাখতে হবে। দু’হাতের তালু উপুড় করে পাঁজরের কাছে দু’পাশে মেঝেতে রাখুন। এবার পা থেকে কোমর পর্যন্ত মেঝেতে রেখে হাতের তালুর উপর ভর দিয়ে মাথা যতদূর সম্ভব উপরে তুলুন এবং মাথাকে সাধ্যমতো পেছনদিকে বাঁকিয়ে উপরের দিকে তাকান। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০ সে. থেকে ৩০ সে. এ অবস্থায় থাকুন। এরপর আস্তে আস্তে মাথা ও বুক নামিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন।
কিছুদিন অভ্যাসের পর হাতের তালুর উপর ভর না দিয়ে বুক ও মাথা উপরে তুলতে হবে। শুধু বুক ও পিঠের উপর জোর দিয়ে মাথা ও বুক উপরে রাখতে হবে এবং হাত দু’টো কাঁধ বরাবর তুলে উঁচু করে রাখতে হবে। এভাবে আসনটি ২বার করুন এবং প্রয়োজনমতো শবাসনে বিশ্রাম নিন।
উপকারিতা : আসনটিতে ঘাড়, গলা, মুখ, বুক, পেট, পিঠ, কোমর ও মেরুদ-ের উপর প্রচ- চাপ পড়ে বলে শরীরের ঐসব অঞ্চলের স্নায়ুতন্ত্র ও পেশী সতেজ ও সক্রিয় থাকে এবং বাড়তি মেদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মেরুদ-ের হাড়ের জোড় নমনীয় হয়। বাঁকা মেরুদ- সোজা ও সরল হয়। আসনটির সঙ্গে মেরুদ- সামনের দিকে বাঁকানো যায় এমন আসন যেমন শশাঙ্গাসন, পদ-হস্তাসন বা ঐ জাতীয় কোনো আসন অভ্যাস রাখলে স্পন্ডিলাইসিস, স্লিপড ডিস্কজাতীয় রোগ কোনোদিন হতে পারে না। বুকের পেশী ও পাঁজরের হাড় বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং বুক সুগঠিত হয়। হৃৎপি-ের পেশী এবং ফুসফুসের বায়ুকোষ ও স্নায়ুজালের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
মেয়েদের জন্য আসনটি অবশ্য করণীয়। আসন অবস্থায় ডিম্বাশয়ে প্রচুর রক্ত সঞ্চালিত হয় বলে কোনো স্ত্রী-ব্যাধি সহজে হতে পারে না, আর থাকলেও অল্পদিন অভ্যাসে ভালো হয়ে যায়। বয়স অনুযায়ী বুকের গড়ন সরু বা অপরিণত, আসনটি কিছুদিন নিয়মিত অভ্যাস করলে তাদের বুক সুগঠিত হয়ে ওঠে।

পশ্চিমোত্তাসন

পরিবৃত্ত শব্দের অনেকগুলো অর্থের একটি হলো ঘূর্ণিত। এর ঘূর্ণিত ভঙ্গিমা অনুসরণে এই আসনের নামকরণ করা হয়েছে পশ্চিমোত্তাসন।
পদ্ধতি : প্রথমে দুই পা ছড়িয়ে সোজা হয়ে বসুন। এবার আস্তে আস্তে মাথা নিচু করে হাটু সোজা রেখে যতদূর সম্ভব মাথা হাঁটুর দিকে নোয়াতে চেষ্টা করুন। এরপর হাটুর পাশে কুনুয়ের অবস্থান ঠিক রেখে পায়ের বুড়ো আঙুল বা পায়ের পাতা ধরার চেষ্টা করুন। শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রেখে এই অবস্থায় ১০ সেকেন্ড স্থির থাকুন। এরপর পাশ্বপরিবর্তন করে আসনটি পুনরায় ১০ সেকেন্ড করুন। এরপর ৩০ সেকে- শবাসনে বিশ্রাম নিন।
উপকারিতা : মেরুদ-, পেট, হৃদপি-ের ব্যায়াম হয়। যৌনগ্রন্থিগুলো সতেজ হয়। পিঠের দুপাশের বাড়তি মেদ কমে যায়। নারীদের পায়ের ও হাতের পেশী সবল হয় কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি পায় । কোষ্ঠকাঠিন্য, অজীর্ণ ও পেটের বায়ু দূর হয়। স্নায়ুর দুর্বলতা কমে যায়। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি ব্যায়াম।

অর্ধ-চক্রাসন

আসন অবস্থায় দেহটিকে অর্ধ-চক্রের মতো দেখায় বলে আসনটির নাম হয়েছে অর্ধ-চক্রাসন।

পদ্ধতি : সোজা চিৎ হয়ে শুয়ে পড়ুন। এখন পা দু’টো একটু ফাঁক করে হাঁটুর কাছ থেকে ভেঙে গোড়ালি কোমরের কাছে রাখুন। হাত দু’টো কনুইয়ের কাছ থেকে ভেঙে হাতের তালু উপুড় করে দু’পাশে মাটিতে রাখুন। এবার হাত ও পায়ের উপর জোর দিয়ে পিঠ ও কোমর সাধ্যমতো উপরে তুলুন। পা থেকে পিঠের অংশটা ঠিক ধনুকের মতো আকৃতির হবে। হাত সোজা থাকবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০ সেকেন্ড থেকে ৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন। এরপর হাতের উপর ভর রেখে কোমর আস্তে আস্তে নামিয়ে এনে চিৎ হয়ে শুয়ে বিশ্রাম নিন। আসনটি এভাবে ২/৩ বার করুন এবং ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিন। আসনটি দেখতে ধনুকের মতো হয় বলে একে ধনুরাসনও বলা হয়ে থাকে।
উপকারিতা : আসনটি বিশেষভাবে পেট, পিঠ ও কোমরের বাড়তি মেদ দূর করে। আসনটিতে এড্রিনাল গ্রন্থির খুব ভালো কাজ হয়। দেহের সমস্ত স্নায়ুজাল সুস্থ ও সক্রিয় থাকে, মেরুদ- নমনীয় হয়। অর্ধ-চক্রাসনের সঙ্গে পদহস্তাসন বা শশঙ্গাসন অভ্যাস রাখলে বাত, সায়টিকা, লাম্বার স্পন্ডিলোসিস, স্লিপড্ ডিস্ক জাতীয় রোগ কোনোদিন হতে বাধা দেয়। মেরুদ--সংলগ্ন স্নায়ুম-লী ও পিঠের দু’পাশের পেশী সুস্থ ও সক্রিয় রাখে। নারীদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে দেহকে সুঠাম, সুন্দর ও আকর্ষণীয় করে তোলে।

-লাভলী দাস
প্রশিক্ষক এবং উদ্যোক্তা
থার্ড স্পেস জিম পার্লার