বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / সাহিত্য-সংস্কৃতি / কবিতা
০৪/১০/২০১৯

কবিতা

-

আমার জলে তোমার কলস
-ভাস্কর চৌধুরী

আজ ছুটি ছিল। কারা যেন বলেছিল
আজ আমাদের সারাদিন সারাবেলা ছুটি।
আমার অনেক কাজ ছিল, তোমার বাড়ি
একেকটা দিন মনে হয়, একা হেঁটে চলে যাই
সূর্যাস্তের পরে আমার খুব ঘুম পায় তাই
দুপুরে খাবার পর, একবেলা ওখানেই ঘুম
দেবো, এমন চুক্তি তোমার সাথে অলিখিত ছিল।
শ’ এর উপর কয়েক শত তোষক বালিশ
উঠোনে তুলোর মতো শুকনো রোদ শুয়ে
বিলাস করে রে মন, উচাটন হয়ে সেদিকে ছুটি
আয়নার সামনে চিরকাল কাপড় বদল হলে
পরের দৃশ্যে অনেক কিছু বদল হতে পারে
কিছু কিছু ঘ্রাণ স্থানচ্যুত হয়ে যেতে পারে
যায় এবং তোমার মতো নারীদের ভাঁজগুলি
ভাবলেই বুকের ভেতর ওলটপালট হয়, কাঁপা
জ্বর কয়েক ডিগ্রি বেড়ে যেতে পারে, বেড়ে যায়
তোমার বাড়ি আমার বালিশ, ভূমিকম্পে
এদিক ওদিক হলে, বেশ ভালো লাগে ভাঁজে
ও দাগের ওপারে আমি সহজেই চলে যাই
তোমার কলস আমার জলে ঠিক ভরে উঠে
তোমার শরীর আমার মিঠাই এক হয়ে গেলে
বুঝি, দুপুরের রোদ সন্ধ্যার ঘুমে স্বপ্নে সরে গেছে।
প্রতিটি ঝড়ের পর প্রকৃতি চিরকাল শান্ত হলে
মানুষ নাক্ষত্রিক আলোর নিচে পাটি পেতে বসে।

জীবনের নদী
-খোদেজা মাহবুব আরা

জীবনের প্রান্তঘেঁষে স্বর্ণালি সেই শৈশব
এক বিষণœতার চাদরে ঝুলে থাকা বিত্তবৈভব।

ছোট ছোট সুখদুঃখ সামান্য বাসনা
তাই নিয়ে গ্লানিহীন উৎসব, তৃপ্ত রসনা।

মুক্ত ডানায় দিনমান ছুটাছুটি মাঠে প্রান্তরে
স্বর্ণালি শৈশবের সুর এখনও বাজে অন্তরে।

বারবার মনে পড়ে আবার ফিরে পাই যদি
এক ডুবে পাড়ি দেব বহমান জীবনের নদী।

দেখো স্বপ্ন
-সাইফুল ভূঁইয়া

দুটো চোখ ফেলে গেছে কে
মরে গেছে ভেবে।
কার স্বপ্ন চোখে নিয়ে আমি জেগে আছি!
মৃত প্রজাপতির ডানা উড়ে যেতে যেতে
ডেকে বলে গেল-
বেঁচে আছো তুমি, দেখো স্বপ্ন।
এমনকি অন্যের চোখে হলেও,
দেখো স্বপ্ন...





তারা কেউ বাড়ি নেই
-সোহরাব পাশা

যাদের গল্প এখন হাওয়ায় ওড়ে
তারা কেউ বাড়ি নেই
স্বপ্ন নিয়ে গেছে শূন্যতার দীর্ঘ ভিড়ে
পুনরাবৃত্তির আলো পড়ে
অন্য ঘরে
বিকেলের বারান্দা উঠোনে নেই সেই
মানুষের তীব্র কোলাহল,
পুরোনো আকাশ ’পরে মেঘের কাজল
যে-যায় সে দীর্ঘ যায়
না-ফেরা নির্জন কুয়াশায়...





বৃষ্টি পড়ছে
-মাহী ফ্লোরা

কেন যেন মনে হচ্ছে
শরীরের কাচ ভেঙে
বৃষ্টি ঢুকে পড়ছে, তীব্র!
কেবলই স্নান সেরে ওঠা,
জলপাই পাতার শাড়ি।
এই শহরে এখন ছেড়ে আসা
গতকালের ঘ্রাণ,
এই যে তুলে দেওয়া রিকশার হুড,
উঠে আসা হৃৎপি-ে,
দমকা বাতাস বৈরি!

কেন যেন মনে হচ্ছে
শরীরের কাচ ভেঙে
ঢুকে পড়ছে বৃষ্টিরা!
যে চোখ নিয়েছে সন্ন্যাস
তার থেকে আজ তবে আসি...





বংশবিদ্যা
-মুজিব ইরম

তালগাছের কথা উঠলেই
সকলেই নারাজ
খেজুরের কথা আর কী করে তুলি
কয়েক সিঁড়ি নাকি কেটে যায় ফলবতী হতে
এই ভেবে
এই বংশে
এইসব গাছ
কেউ আর করে না রোপণ
আমিও কি তাদের মতোই আস্থা হারাবো?
অনেকদিন হয়
আমাদের বংশে কোনো তালগাছ
ফলবতী হয়নি যে
ধরেনি ফলন কোনো খেজুরের গাছে
তেঁতুলের প্রাচীন ছায়ায়
দিন কেটে যায়
বড়ো আহাজারি নামে
এই বংশে রুয়ে যাই
তাল আর খেজুরের গাছ রাত্রি জেগে জেগে!

মহাশূন্যের বাটিভরা সুরাপানি
-ফারহান ইশরাক

মহাশূন্যের বাটিভরা মদ একা একা কুলাতে পারব না
নাড়িভুঁড়ি যার শুকিয়ে গেছে, রাতের আগেই ছুটে এসো
জোছনায়। চুমুকের টানে ঝড় এসে গেলে মরে যাবÑ
শরবতে! কাঁদতে কাঁদতে ডুবতেই হবে তলানির শেষ দাগে।
দালানকোঠা টাওয়ার মঞ্জিল তলিয়েছে দেখছ না? ঘরে
যাবে? সে আশায় গুড়েবালি! গলা উঁচু ক’রে কাতর বৃক্ষরাজি
অক্সাইড পাচ্ছে না। কাচের মটকা গুতা মেরে করো
ছাতু! ওতে পুষবে না, সাত আসমানে একাকার সুরাপানি!
অযথা পোশাক খুলে ফেল আগে, তেজস্ক্রিয়া ফুটিতেছে
রঞ্জকে!
শাস্ত্রকথাও গলে যাবে মদে, চোখের পানিতে পড়ার হরফ
বড়ঁশির মতো ক্যালিগ্রাফি হবে। মদ্যপিপাসু কিছু মাছ ছাড়া
অপাপ জলধি জুড়ে কিছুই থাকবে না। শূন্য সভার বাটিভরা
মদ, তৃষ্ণার টানে এসো, মদিরামরণ বিনে কী ক’রে বাঁচবে?