সোমবার,২২ এপ্রিল ২০১৯
হোম / বিজ্ঞান-প্রযুক্তি / ইনবক্স অত্যাচার
০৪/০৭/২০১৯

ইনবক্স অত্যাচার

-

অযথাই আপনার সোশ্যাল মিডিয়ার ইনবক্সে নক আসেÑ ‘হাই’, ‘হ্যালো’, ‘কেমন আছেন’, ‘আপনি খুব সুন্দরী’, ‘আপনাকে কোথায় যেন দেখেছি’, ‘আপনি অমুক স্কুলে পড়তেন না’Ñ ইত্যাদি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অযথা নারীদের ইনবক্সে ঢু মারা, নারীদের বেডরুমে উঁকি মারার মতোই জঘন্য। ইভটিজিং শুধু রাস্তাতেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও হয়। অভদ্র যৌনাচারী পুরুষের চাইতে ভদ্র যৌনাচারী পুরুষ বেশি ক্ষতিকর। কিন্তু সেই ক্ষতি খুব মন্থর গতিতে হয় বিধায়, খুব সচেতন না হলে সেই ক্ষতির হাত থেকে রেহাই পায় না। ফেসবুক ব্যবহার করছেন কিন্ত অপ্রীতিকর ম্যাসেজ বা হয়রানির শিকার হন নাই এমন নারী খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই হয়রানির শিকার হয়ে সুইসাইডের মতো পথ বেছে নিতে উদ্যত হন অনেকে। দীর্ঘদিন ধরে নানারকম অশালীন ম্যাসেজ বা বুলিং-এর শিকার হয়ে মানসিকভাবে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন অনেক নারী।

যে সমস্যার সম্মুখীন বেশি হয়ে থাকেন

- অপরিচিত ব্যক্তি বা ফেইক আইডি থেকে আসা অপ্রয়োজনীয় এবং অশ্লীল ম্যাসেজ।
-ফেসবুকে নারীরা তাদের ছবি, আকার-আকৃতি, রুচি-পছন্দ, মতামতের জন্যেও বুলিং-এর শিকার হয়ে থাকেন। কখনো কখনো এই বুলিং এত খারাপ পর্যায়ে চলে যায়, যা সামাজিক এবং মানসিকভাবে একজন নারীর জীবনকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
-ফেইক আইডি দ্বারা হয়রানি এখনকার দিনে খুব কমন একটি সমস্যা। যে-কোনো সময় একজন নারী বা তার পরিচিতরা দেখতে পান অজ্ঞাত কেউ তার নামে একটি ফেইক আইডি খুলে ভিক্টিম-এর পরিচিত সার্কেল বা পাবলিক প্লাটফর্মগুলোতে ভিক্টিম সম্পর্কে গোপন, সংবেদনশীল ছবি বা তথ্য দিচ্ছে, সাথে অপ্রীতিকর ম্যাসেজ বা স্ট্যাটাস। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একের অধিক আইডি এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে ভিক্টিমকে বিপর্যস্ত করে তোলে।
-আবেগের বশবর্তী হয়ে সম্পর্ক বা আন্ডারস্ট্যান্ডিং থাকা অবস্থায় পাঠানো সংবেদনশীল ছবি বা তথ্যের উপর ভিত্তি করে ব্ল্যাকমেইলের শিকার হওয়া নারীর সংখ্যা এখন সবচাইতে বেশি।
-অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়া, অশ্লীল ছবি না থাকলে অশ্লীল ছবির সাথে এডিট করে ছবি সংযুক্ত করে ভাইরাল করে দেবার হুমকি দিয়ে নানারকম সুবিধা আদায়, সম্পর্কে বাধ্য করা, টাকা নেওয়া, বা হয়রানি পর্যন্ত করা হয়।
-আজকাল সম্পর্কগুলোর প্রধান দুটি শর্তের উপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলোর পাসোয়ার্ড আদান-প্রদান এবং নুডস আদান-প্রদান। এই দুটি আদান-প্রদান-ই এখনকার দিনে সম্পকের্র পারস্পরিক বিশ্বাস স্থাপনের মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-এডাল্ট পেজ এবং গ্রুপগুলোতে ট্রলের শিকার হয়ে অনেক নারীই নিজেকে গুটিয়ে নেন।
নিরাপদ থাকতে করণীয়
-কেউ যদি খুব খারাপভাবে আক্রমণ করেন এবং অশ্লীল ম্যাসেজ দেন, তবে এরজন্য আপনি নিজেকে দোষী ভেবে কষ্ট পাবেন না। আপনাকে প্রথমেই নিজেকে বুঝাতে হবে, এটি আপনার দোষ নয়। অন্যের আচরণের দায়ভার আপনার নয়।
-আপনি কখনোই আপনার দিক থেকে সাড়া দেবেন না বা নিজেও তাদের মতো আক্রমণ করবেন না। আপনাকে বুলিং করা হয়েছে বা আপনি আক্রমণের শিকার হয়েছেন, এর স্বপক্ষে যথাযথ প্রমাণ সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করবেন।
-প্রাথমিকভাবে যে বা যার দ্বারা ব্ল্যাকমেইল বা হয়রানির শিকার হচ্ছেন তাকে বুঝিয়ে বলতে পারেন এবং আপনার স্বপক্ষে যুক্তিগুলো গুছিয়ে জানাতে পারেন। আপনি না পারলে আপনার বন্ধু বা আত্মীয়ও এই আলোচনাটুকু করতে অনুরোধ করতে পারেন।
-সব সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলোতেই ব্লকের অপশন থাকে। প্রাথমিক বুলিং হলে বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অসংলগ্ন কথা বললে তাকে ব্লক করে দিতে পারেন।
-যদি ব্ল্যাকমেইল বড়ো ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়, যা শারীরিক আক্রমণ, জীবননাশের হুমকি বা বড়ো ধরনের মানহানির কারণ হতে পারে, সেক্ষেত্রে সাথে সাথে নিকটস্থ থানার সাহায্য নিতে হবে।
-আপনার কোনো সংবেদনশীল তথ্য এবং ছবি কোনো অবস্থায় সোশ্যাল মিডিয়াতে এবং অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
-আপনার কোনো একাউন্টের পাসোয়ার্ড কারো সাথে শেয়ার করবেন না।
-আপনার ফোনেও পাসোয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং একাউন্টগুলোর সব সিকিউরিটি ফিচার অন করে রাখবেন।
-আত্মবিশ্বাসী হন। কেউ আপনার সম্পর্কে আপনার চেয়ে বেশি জানেন না। ঠান্ডা মাথায় প্রতিপক্ষকে মোকাবেলা করুন। কারো উস্কানিতে প্ররোচিত হবেন না তাহলে নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যেই আপনাকে যাই বলুক চেষ্টা করুন নিজের মতামতে স্থির থাকতে।
-যে-কোনো ধরনের আক্রমণ বা বুলিং-এর শিকার হলে জরুরি পুলিশ সেবার জন্য ন্যাশনাল ইমার্জেন্সী সার্ভিস ৯৯৯-এ কল করতে পারবেন। এটি টোল ফ্রি।

--জেনিফার আলম
প্রেসিডেন্ট, ক্রাইম রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস ফাউন্ডেশন (ক্রাফ), ট্রেইনার, জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯