সোমবার,২২ এপ্রিল ২০১৯
হোম / অন্দর-বাগান / কাঠের মেঝে নাকি কার্পেট?
০৩/২৭/২০১৯

কাঠের মেঝে নাকি কার্পেট?

-

বাড়ির সৌন্দর্যে মেঝের গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। গতানুগতিক মেঝের বাইরে বিভিন্ন নকশার মেঝে অন্দরমহলে এনে দেয় নান্দনিকতার ছোঁয়া। ফ্লোরে কার্পেটিংয়ের চল তো আছেই, পাশাপাশি আধুনিকতা ও ঐতিহ্য বজায় রেখে ঘরের সাজে ব্যবহার করতে পারেন কাঠের মেঝে।

কাঠের মেঝে

আভিজাত্যের ছোঁয়া আনতে এই সময়ে ঘরের মেঝেতে কাঠের ব্যবহারের বেশ একটা চল শুরু হয়েছে। কাঠের মেঝে বা উডেন ফ্লোর প্রক্রিয়াজাত কাঠ ও কাঠের উপরিভাগ বা টেক্সচার দিয়ে তৈরি। ঘরের বনেদি ভাবটাও বজায় থাকে এ ধরনের মেঝেতে। সাধারণভাবে অন্য উপকরণের চেয়ে এর খরচ একটু বেশি পড়ে তবে চাহিদার কথা মাথায় রেখে সাশ্রয়ী মূল্যেও উডেন ফ্লোর লাগানো যায়। এক্ষেত্রে ওক কাঠের পাশাপাশি বাংলাদেশের কেরোসিন, সেগুন ও মেহগনি গাছের কাঠ দিয়েও মেঝে তৈরি করা যায়। তবে সেগুন ও মেহগনি কাঠ দিয়ে মেঝে তৈরি অন্যগুলোর তুলনায় বেশ ব্যয়সাপেক্ষ। কাঠের মেঝে সাধারণত সলিড কাঠ ও কাঠের টাইলস এই দু’ধরনের হয়।










কোথায় লাগাবেন

বসার ঘরেই বেশি ব্যবহৃত হয় উডেন ফ্লোর, তাছাড়া ড্রয়িং, ডাইনিং এবং বেডরুমের মেঝেতে লাগানো যেতে পারে। যেসব জায়গায় আমরা সাধারণত কার্পেটিং করি সেখানে উডেন ফ্লোর ব্যবহার করতে পারেন। ড্রয়িংরুমের কোনো একটি কর্নারে একটু উঁচু করে উডেন ফ্লোর ব্যবহার করতে পারেন। সেখানে পছন্দমতো সোফা বা ডিভান রাখুন।

সুবিধা ও অসুবিধা

উডেন ফ্লোর যে-কোনো ফ্ল্যাট বা বাড়িতেই লাগানো যায় আবার অনেক ফ্লোর খুলে অন্যত্র ব্যবহারও করা যায়। কাঠের মেঝে ব্যবহার করলে রুম কিছুটা বড় দেখায়। তাই ওই রুমে অনেক বেশি নকশা করা জাঁকজমকপূর্ণ ফার্নিচার ব্যবহার না করে সাদামাটা ফার্নিচার ব্যবহার করলেও চলে।

কার্পেটের মতো কাঠের মেঝে ময়লা হওয়ার ভয় থাকে না।
উডেন ফ্লোরের যত্নে একটু বেশিই যত্নবান হতে হয়। কারণ এ ধরনের মেঝেতে পানি জমে থাকলে সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। ব্যয়সাপেক্ষ ব্যাপার বিধায় অনেকের জন্যই কাঠের মেঝে ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। আবার কাঠের মেঝের জন্য গাছকাটা হয় বলে অনেকেই পরিবেশের কথা চিন্তা করে কাঠের মেঝে ব্যবহারের পক্ষপাতী নন।

কার্পেট
কার্পেট, গালিচা বা ফ্লোর ম্যাট যাই বলুন না কেন তা শুধু ঠান্ডা রোধেই ব্যবহার হয় না বরং ঘরের সৌন্দর্যবর্ধনও করে। ঘরের আবহ ও গোছালোভাব অনেকটাই নির্ভর করে কার্পেটের রং ও ডিজাইনের ওপর। ইদানীং ফ্লোরাল টাচ কার্পেট ট্রেন্ডি হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সোফার রং কিংবা দেয়ালে টানিয়ে রাখা পেইন্টিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে কার্পেট নির্বাচন করছেন অনেকে।

কেমন কার্পেট নিবেন

ঐতিহ্যবাহী ইরানি কার্পেট তো আছেই, আর আছে তাবরিজি, তুর্কি ও আজারবাইজানি গালিচা। আর বাংলাদেশীটি জুটম্যাট নামে পরিচিত। আভিজাত্য বজায় রাখতে উলের কার্পেটই সেরা। সময়ের পালবদলে এর পাশাপাশি পাট, রেক্সিন, কটন, সিন্থেটিকও জায়গা করে নিয়েছে শৌখিন বিলাসীদের ঘরে। মূলত বসার ও শোয়ার ঘরে কার্পেটিং করা হয়। কার্পেটের দাম নির্ভর করে এর আকার, ডিজাইন ও মানের ওপর।

সুবিধা ও অসুবিধা

কাঠের চেয়ে কার্পেটিং-এ খরচ কিছুটা কম যা পুরো ঘরে না করলেও চলে। তবে অ্যালার্জি বা হাইজিনের কথা ভাবলে কাঠের মেঝেই ভালো। আবার শীতকালের জন্য কার্পেট বেশ আরামদায়ক। এছাড়া এটি ঘরে শব্দও হ্রাস করে। বাচ্চারা অনেক সময় মেঝেতে পড়ে আঘাত পায় বলে কার্পেটিং করলে এই ঝুঁকি কম থাকে ।

কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে ড্রাইওয়াশ করাই ভালো। ধুলোময়লা, বালি ও তেলচিটে পরিষ্কার করতে কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার করতে হয়। আর মেঝে আচ্ছাদন হিসেবে কার্পেট ব্যবহার করতে না চাইলে শতরঞ্জি, নকশি পাটি বা চটের তৈরি ম্যাটও ব্যবহার করতে পারেন।

বিকল্প হিসেবে টাইলস

সময়ের সাথে সাথে টাইলসে এসেছে নানাধরনের আধুনিকতা। ব্যতিক্রম হিসেবে ভিনাইল টাইলস লাগানো যেতে পারে, যা ঘরে উডেন ফ্লোরের আবহ আনবে। সস্তায় মেঝেতে নতুনত্ব ও আধুনিকতার ছোঁয়া আনতে চাইলে পিভিসি ফ্লোর বেছে নিতে পারেন। পিভিসি ফ্লোর প্লাস্টিকের তৈরি, পানি পড়লে সমস্যা হয় না । যে-কোনো ছাঁচে এটি কাটা যায় আর এটি প্রতিস্থাপন করাও বেশ সহজ।

-শারিদ