বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / অন্দর-বাগান / ফেলনা জিনিসেই হোকবাগানের সাজ
০৩/২৭/২০১৯

ফেলনা জিনিসেই হোকবাগানের সাজ

-

পরিসরে ছোট্ট হলেও একটা বাগানের শখ আমাদের অনেকের। বাড়ির ছাদে, বারান্দায় কিংবা আঙিনায় বাগান করলে হোল্ডিং ট্যাক্স ১০ শতাংশ মওকুফের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র।

অন্যদিকে পরিবেশবিদরা বলছেন, এর ফলে নগরে তাপমাত্রা কমানো সম্ভব। আমাদের বাড়িতে এমন অনেক জিনিস থাকে, যা হয়তো ব্যবহার অযোগ্য, অথচ কিছুটা পরিশ্রম আর আপনার সৃজনশীলতা দিয়ে ফেলনা সেসব জিনিস দিয়েই নান্দনিক আকার দিতে পারেন বারান্দা বা ছাদের বাগানটিকে।

নিজের শখের মূল্য দিতে বাড়ির সামনে বাগান করার জায়গা না থাকলেও একচিলতে বারান্দাতেই সাজিয়ে নিতে পারেন স্বপ্নের বাগান। আর ছাদে জায়গা থাকলে তো কথাই নেই! বাড়ির ছাদে, বারান্দায় কিংবা কার্নিশে বাগান করার জন্যে জনপ্রিয় উপায় হচ্ছে টবে ফুল-ফলের বাগান। চাইলে টবে সবজির চাষও করা যায়। কিন্তু তার জন্য কি সবসময় নার্সারির উপরই নির্ভর করতে হবে? তাতেও তো অনেক খরচ। কিন্তু বুদ্ধি খাটিয়ে বাড়ির অপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন কনটেইনার, প্লাস্টিকের বোতল, ভাঙা গ্লাস বা সিরামিক ইত্যাদি নানাকিছু কাজে লাগিয়ে সুন্দর একটা বাগান করতে পারেন। ব্যবহৃত চা-পাতাও ফেলনা নয়, সার হিসেবে দেওয়া যায় গাছের গোড়ায়।

প্লাস্টিকের বোতল ও কনটেইনার

মাটির টব ভেঙে যায়, কাঠের টব পচনশীল আর কংক্রিটের টব আবার অনেক ওজনদার। অন্যদিকে বাসাবাড়িতে প্লাস্টিকের সহজলভ্যতা অনেক। আবার প্লাস্টিকের প্রতি পরিবেশের ক্ষতির অভিযোগও বেশি। কিন্তু মন্দের ভালোটাকে কাজে লাগাতে পারেন আপনি। কোক বা পানির প্লাস্টিকের বোতলগুলোর উপরের অংশটা কেটে তাতে মাটি ভরে ঝুলিয়ে দিন বারন্দায়। লাগাতে পারেন বাহারি লতানো গাছ। কনটেইনার বা বয়ামে লাগাতে পারেন ক্যাকটাস। খুব একটা যত্নের প্রয়োজন পড়বে না। এভাবে ঘরের অব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের পাত্র ও সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে তাতে গাছ লাগানো যায়।

ভাঙা গ্লাস

গ্লাসে ফাটল ধরেছে, সুতরাং ওটা দিয়ে আর পানি খাওয়া চলে না। আবার অনেক সময়ই দেখা যায় পছন্দের গ্লাসসেটের গ্লাস ভাঙতে ভাঙতে হয়তো কয়েকটায় গিয়ে ঠেকেছে, যা আর অতিথি আপ্যায়নে লাগবে না, তখন তা অনায়াসেই ব্যবহার করতে পারেন মিনি টব হিসেবে। তবে এগুলোতে দীর্ঘজীবী অথবা বৃক্ষজাতীয় গাছ বেশিদিন বাঁচে না। নানাধরনের মৌসুমি ফুল এগুলোর জন্য সবচেয়ে ভালো।

ওয়ান-টাইম কফি বা চায়ের কাপ

ওয়ান-টাইম কাপগুলো নানারঙের হয়ে থাকে। ঠিক যেন একবার ব্যবহার করেই ফেলে দিতে ইচ্ছা করে না। চাইলে এই কাপগুলোর বাহারি ব্যবহার করতে পারেন। মাটি ভরে তাতে প্লান্ট লাগিয়ে জানালার কার্নিশজুড়ে সাজিয়ে রাখতে পারেন। সবুজের ছোঁয়া আর নির্মল বাতাসে ঘরে আসবে শুদ্ধতার আবেশ।

গাড়ির চাকায় নতুন জীবন

গাড়ির চাকা একবার নষ্ট হয়ে গেলে তার আর তেমন কাজ থাকে না। কিন্তু আপনার ব্যালকনি বা ছাদে যদি যথেষ্ট জায়গা থাকে তাহলে গোটা দুয়েক চাকা দিয়েই কনটেইনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তারপর চাকার বাইরের দিকে রঙ করে নিন, দারুণ দেখাবে। সব মৌসুমের ফুল কিছু কিছু করে লাগাতে পারেন। গোলাপ, গাঁদা, বেলি, অপরাজিতা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, নয়নতারা, গন্ধরাজ ইত্যাদি গাছ লাগাতে পারেন।

জুতায় যদি ফুল ফোটে?

চিন্তা করতে পারেন আপনার বহু ব্যবহৃত শু জোড়ার জায়গা হয়েছে বারান্দায় এবং তার ভেতর দিয়ে বের হয়েছে সবুজ লতাপাতা। শুনতে কিছুটা অদ্ভুত শোনালেও আপনি যদি বিশ্বাস করেন কোনো কিছুই ফেলনা নয়, তাহলে পড়ে থাকা জুতাজোড়াকেও কাজে লাগাতে চাইবেন।

হরেকরকম আইডিয়া

বাসার কোনো কিছু ফেলে দেওয়ার আগে কয়েকবার ভাবুন, আসলেই কি সেটা ফেলে দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই? আসল কথা হলো আউট অব দ্য বক্স চিন্তা করুন। অনেক অভিনব আইডিয়া পেয়ে যাবেন। পড়ে থাকা ছোট্ট কাঠের বাক্স বা অকেজো ব্রিফকেসটাতে কম্পোস্ট সার আর উর্বর মাটি মিশিয়ে তাতে বীজ বুনে দিন। এতে ধনিয়া বা পুদিনা লাগিয়ে দিব্যি খেতে পারেন। চাইলে ছোট চারাগাছও লাগাতে পারেন। নষ্ট বাল্ব এমনকি ডিমের খোসাতেও লাগানো যায় গাছ।

-রিয়াদুন্নবী শেখ