সোমবার,২২ এপ্রিল ২০১৯
হোম / বিবিধ / স্মার্টফোন যখন প্রেমের শত্রু
০৩/২৭/২০১৯

স্মার্টফোন যখন প্রেমের শত্রু

-

আমাদের জীবনে স্মার্টফোন ব্যবহারের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। কিন্তু মাত্র দুই দশকেই স্মার্টফোন এবং তার মাঝে থাকা ফিচারগুলো যেন আমাদের যাপিতজীবনের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোতে নানারকম পরিবর্তন তৈরি করছে। এটিই যেন হয়ে উঠছে আমাদের পরিচয়ের প্রতীক। শুধু একটা যন্ত্র অথচ তার সাথেই আমাদের আবেগ অনুভূতির সম্পর্ক। কিন্তু বাস্তবিক সম্পর্কে, আমাদের ভালোবাসার বন্ধনে স্মার্টফোনটা কিছুটা দূরে রাখলেই বরং মঙ্গল।


ভালোবাসার সম্পর্ক ও স্মার্টফোন

‘তুমি আমাকে ভালোবাসো না তোমার ফোনকে?’ প্রশ্নটা বিব্রতকর হতে পারে। কিন্তু এমন বিষয় নিয়ে আজকাল প্রেমের সম্পর্কে মনোমালিন্য হয় প্রায়ই। প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে হয়ত আপনি অনুতপ্ত হন। কিন্তু স্মার্টফোনে আপনি এমনভাবে বাঁধা যেন চাইলেই নিজেকে এই শেকল থেকে মুক্ত করতে পারছেন না। এর বাজে প্রভাবও পড়ছে সম্পর্কের উপর। কিন্তু কোন বিষয়গুলো দিয়ে বুঝতে পারবেন আপনার এখনই সতর্ক হওয়া উচিত? এক্ষেত্রে নিচের প্রশ্নগুলো নিজেকেই জিজ্ঞেস করুন, উত্তর পেয়ে যাবেন।

যখন তখন ফোন?

ভালোবাসার মানুষটিকে পাশে বসিয়ে রেখেও যদি আপনি ফোনের কল রিসিভ করতে থাকেন বা আরো একধাপ এগিয়ে পাশের মানুষটির কথা ভুলে মিনিটের পর মিনিট ফোনে কথা বলেই যান তাহলে কিন্তু সম্পর্কের ক্ষেত্রে তা বাজে প্রভাব রাখতে পারে। একটা সুন্দর ডেটেও যদি ক্ষণিকবাদেই হোয়াটসঅ্যাপ, ম্যাসেঞ্জারের বার্তা চেক করা কিংবা নটিফিকেশন ফলো করা অভ্যাস হয়ে থাকে তাহলে বলতে হবে তা আপনাদের মধুর সম্পর্কের জন্য খারাপ।

সামাজিক মাধ্যমই আপনার প্রেমের একমাত্র ক্ষেত্র?

মুখোমুখি বসে কিংবা দুজন দুজনার হাত ধরে কথা বলার চেয়ে নিজেকে যদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তাহলে সেটা ভালোবাসার প্রকৃত মূল্যায়ন বলা যায় না। ফেসবুক-ইন্সট্রাগ্রামে সুন্দর পোস্ট দেওয়ার জন্য আপনি হয়ত ক্ষণিকের কিছু বাহবা পাবেন। আপনাদের দুজনার জীবনে কী কী ঘটছে তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে অন্যদের মনোযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু তা ভালোবাসার প্রতি নয় বরং স্মার্টফোনের প্রতি আপনার আকর্ষণকে প্রতিফলিত করে।

আপনি ফোনকে নয়, ফোনই আপনাকে ব্যবহার করে?

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গিয়েছে, ৪৬ শতাংশ মুঠোফোন ব্যবহারকারী ‘ফোন ছাড়া বাঁচবই না’ বলে মনে করেন। একটা দরকারি কাজ করতে গিয়ে কখন যে আপনি নিউজফিডে হারিয়ে যান বা চ্যাট করতে গিয়ে হয়ত আর দরকারি কাজটাই করা হয়ে ওঠেনি আপনার। সব তথ্য পাওয়ার একমাত্র মাধ্যম যদি হয় স্মার্টফোন তাহলে অনেক সময় চাইলেও এটিকে দূরে সরিয়ে রাখা যায় না। আবার মন স্মার্টফোনে পড়ে থাকলে মনস্থির করে কাজে-পড়ায় মন দেয়া কঠিন। ফলে আপনি আপনার প্রিয় ফোনের কাছে আটকা পড়ে যান।

সঙ্গীর জন্য সময় কই?

আপনার স্মার্টফোনটিই আপনার কাছে পৃথিবীকে দেখার একমাত্র জানালা। যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি এটিই আপনার পড়াশুনার হাতিয়ার, মুভি দেখা ও বিনোদনের মাধ্যম, এটির মাধ্যমেই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে আপনার সরব উপস্থিতি। এক যন্ত্রেই আপনি একসাথে অনেক কাজ করতে পারেন। তাহলে সেক্ষেত্রে এটা অস্বাভাবিক নয় যে মাল্টিটাস্কিং আর গতির দুনিয়া একপাশে রেখে সামনাসামনি মাত্র একজন মানুষের সাথে খুব বেশি সময় আপনার কথা বলতে ভালো লাগবে। সেটাও আপনি হয়ত সেই ফোনের মাধ্যমেই সারতে চাইবেন।

তাহলে উপায়?

- অপ্রয়োজনীয় সব নোটিফিকেশন বন্ধ করে রাখুন, বিশেষ প্রয়োজন থাকলেই কেবল তা সঙ্গীর সাথে সময় দেয়ার আগে সেরে ফেলুন।
- যেসব কাজ শিগগিরই শেষ করতে হবে, তার একটা তালিকা কাগজে লিখে রাখুন। কাগজটি স্মার্টফোনের সঙ্গে রেখে দিন, যাতে ফোন তুলতে গেলেই
ওই কাজের তালিকায় চোখ যায়।
- প্রিয়জনের সাথে চ্যাট করার বদলে সামনাসামনি বেশি সময় দিন। সে সময় ডাটা কানেকশন ও পারলে ফোন বন্ধ রাখুন।
- ‘মোমেন্ট’-এর মতো কোনো একটা অ্যাপস ডাউনলোড করে নিন, যা আপনাকে দিনে কতবার ফোন তুলে নিচ্ছেন তা মনে করিয়ে দেবে এবং
আপনাকে এই কাজে নিরুৎসাহিত করবে।
- আপনাকে একঘেয়ে লাগা ও ভালো না লাগার মতো অনুভূতিগুলোর সঙ্গেও কিছুটা সময় মানিয়ে চলতে শিখতে হবে, এসবে অভ্যস্ত হতে হবে।
আর প্রযুক্তির এই সময়ে একেবারেই প্রযুক্তিহীন থাকাটাও যৌক্তিক নয়। তবে সব কিছুরই সীমা আছে। সেই সীমা নিজেকেই ঠিক করতে হবে, নিজের
স্বার্থে।

-শারিদ
ছবি : নীল ভৌমিক