বৃহস্পতিবার,২২ অগাস্ট ২০১৯
হোম / জীবনযাপন / সন্তানের স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণে রাখুন
০৩/২৭/২০১৯

সন্তানের স্ক্রিনটাইম নিয়ন্ত্রণে রাখুন

-

যেসব বাচ্চা দিনের বেশির ভাগ সময় ইন্টারনেটে বা বিভিন্ন ডিভাইসে বুঁদ হয়ে থাকে, তাদের বলা হয় স্ক্রিনেজার। অতিরিক্ত ইন্টারনেট আসক্তির জন্য এই স্ক্রিনেজার বাচ্চাদের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাপ্রাপ্ত হয়। তবে প্রযুক্তির এই যুগে ছেলেমেয়েদের ইন্টারনেট থেকে দূরে রাখা প্রায় অসম্ভব বলা চলে। আর যদি কোনো বাবা-মা তা করেনও তবে ইন্টারনেটের শিক্ষণীয় দিক থেকে সন্তান বঞ্চিত হবে, আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা দুষ্কর হবে। এই উভয় সংকট থেকে মুক্তি পেতে অভিভাবক হিসেবে আপনাকেই ঠিক করতে হবে সন্তান কতটা সময় মোবাইল-কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের পেছনে খরচ করবে।


নিজেই রোল মডেল হোন

শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা বড়দের অনুকরণ করে শেখে। সন্তানের সামনে সারাক্ষণ মোবাইলের স্ক্রিন স্ক্রল করলে বা ল্যাপটপে কাজ করতে থাকলে আপনার শিশুটিও তাই শিখবে। তাই যতটা সম্ভব চেষ্টা করুন অফিসের কাজ অফিসে শেষ করে আসার। আপনার শিশুর জন্য অন্য কেউ নয়, আপনি নিজেই একজন উদাহরণ হোন। সন্তানরা খেলনা নিয়ে খেলুক, বাইরে খেলাধুলা করুক ও নিজের সৃজনশীল চিন্তাভাবনা কাজে লাগাক। প্রযুক্তিকে বর্তমানে বাদ দিয়ে চলা কঠিন। অবশ্যই আপনি সন্তানকে প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন। কিন্তু এর সাথে সাথে আমাদের শিশুদের কীভাবে সামাজিক হওয়া যায়, পরিবারের সাথে সময় কাটানো, খেলাধুলা করা, তাদের নানারকম গুণ আমাদেরই বের করে আনতে হবে।
উপহার হিসেবে সবসময় গেজেট নয়
বড় হওয়ার সাথে সাথে সন্তানের চাহিদাও পাল্টে যায়। একসময় খেলনা পুতুল থেকে ভিডিও গেমস খেলার যন্ত্র, তারপর আইপ্যাড বা স্মার্টফোন এরপর হয়ত ল্যাপটপ কম্পিউটার। তার চাহিদার পিছনে যুক্তি হিসেবে ক্লাশের বন্ধুদের উদাহরণ দিতে পারে। এক্ষেত্রে একেবারে ছোটবেলা থেকে সন্তানকে কোন বয়সে কোন প্রযুক্তির ব্যবহার প্রযোজ্য এবং তার ভালোমন্দ দিক নিয়ে শিক্ষা দিতে হবে। তাকে জানাতে অন্য সবকিছুর মতো ইন্টারনেট বা ডিভাইস ব্যবহারের একটা সীমা আছে।

কম্পিউটার রাখুন সবার সামনে

সন্তান কম্পিউটারে কী দেখছে বা করছে তার প্রতি অভিভাবকের খেয়াল রাখা উচিত। তাই বাসায় কম্পিউটার রাখুন এমন জায়গায় যেখানে চলাচল করতে গিয়ে সবার নজর পড়ে। প্রয়োজনে ইন্টারনেটের বিব্রতকর ও আসক্তি জন্মে এমন ওয়েবসাইটগুলো ব্লক করে দিন। সন্তানকে একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন। যেমন তাকে বলতে পারেনÑ প্রতিদিনই সে ইন্টারনেট, স্মার্টফোন ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারবে, তবে তা অবশ্যই একঘণ্টার বেশি নয়। আবার ছুটির দিনে আরেকটু বেশি সময় ব্যবহার করা যাবে এমন নীতিও ফলো করতে পারেন। মূলকথা, সবকিছুই নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে হবে।

সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখুন

স্ক্রিনের প্রতি আসক্তির আরেকটি ক্ষতিকর দিক হলো শিশুরা নিজেদের সৃজনশীলতা আবিষ্কার করতে পারে না। ছোট থেকেই তাদের বিভিন্ন সৃজনশীল কাজ যেমন আর্ট করা, নাচ, গান এসবে আকৃষ্ট করে তুলুন। আপনার ব্যস্ততার সময়ে বাচ্চার হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়া হয়ত সাময়িক সময়ের সমাধান কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। এই সময়টাতে তাকে যদি আপনি রং তুলি দিয়ে বসিয়ে দেন, দেখবেন, সে তা নিয়েই ব্যস্ত থাকবে আর আপনার কাজেরও ক্ষতি হবে না।

শেখার মাধ্যম হোক বইপড়া

বইয়ের জগতে রয়েছে নতুন কিছু জানার ও শেখার এক বিশাল জগৎ। হঠাৎ করেই হয়ত আগ্রহ জন্মাবে না। তবে বইপড়ার আনন্দটা ধরিয়ে দিতে আপনাকেই সহযোগিতা করতে হবে। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও আগ্রহ নিয়ে পড়তে পারে এমন হরেকরকমের বই সন্তানের হাতে তুলে দিন। বিশেষ দিনগুলোতে উপহার হিসেবে বই তুলে দিন।

ব্যবহার করুক উদ্দেশ্য নিয়ে

সন্তান সপ্তাহে বা দিনে কতটুকু সময় প্রযুক্তি ব্যবহার করবে তা আপনি নির্ধারণ করে দিন এবং সেটাই যেন অভ্যাসে পরিণত হয়। তবে এর বাইরে যখনই আপনার কাছে আইপ্যাড বা স্মার্টফোন আবদার করবে তখন তার কাছে কারণ জিজ্ঞাসা করুন। ‘কেন’ প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সে বুঝবে এসব ব্যবহার করতে নির্দিষ্ট কারণ লাগে, শুধু অভ্যাস বা ভালো লাগে বলেই ব্যবহার করা যায় না।

-রিয়াদুন্নবী শেখ
ছবি : শুহরাত শাকিল চৌধুরী